মিঠুন মাহমুদ:
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে তৃণমূল পর্যায়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বল্পমূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান সূর্যের হাসি ক্লিনিক ২০২০ সালের পহেলা জুলাই থেকে বন্ধ রয়েছে। এতে চাকরি হারিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন ক্লিনিকগুলোর কর্মীরা। এমন পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী কর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেছেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা থেকেও বঞ্চিত রয়েছেন এ উপজেলার কয়েক হাজার সাধারণ মানুষ। অপর দিকে, ঘর ভাড়া না পাওয়ায় বিপাকে আছেন ভবনের মালিক।
জীবননগর সূর্যের হাসি ক্লিনিকের অফিস সহায়ক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন যাবৎ এই ক্লিনিকে কাজ করে আসছি। এখান থেকে যে বেতন পেতাম, সেটা দিয়েই আমার গোটা সংসার চলত। বিগত ১৩ মাস বন্ধ রয়েছে ক্লিনিক। এই ১৩ মাস আমরা মানবেতার জীবনযাপন করছি। এখনো পথ চেয়ে আছি, হয়ত আবার নতুন করে এই ক্লিনিকটা চালু হবে।’
জীবননগর সূর্যের হাসি ক্লিনিকের প্যারামেডিকেল চিকিৎসক ডা. শিরিন হাফিজা বলেন, ‘জীবননগর সূর্যের হাসি ক্লিনিক ছিল সাধারণ মানুষের চিকিৎসার জন্য। এটা বন্ধ থাকায় এ উপজেলার অনেক অসহায় দরিদ্র মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। আমরা আশা করি, এই চিকিৎসা কেন্দ্রটি আবার পুনরায় চালু হবে।’
সূর্যের হাসি ক্লিনিকের জন্য ভাড়া নেওয়া ভবনের মালিক রেনুকা আক্তার বলেন, ‘আমার বাড়িতে দীর্ঘদিন সূর্যের হাসি ক্লিনিকের অফিস রয়েছে। এই ক্লিনিকটা এ উপজেলার মানুষের কাছে চিকিৎসার জন্য অন্যতম স্থান ছিল। সেই কারণে এই ক্লিনিকের নিকট বাড়ি ভাড়া দিই। তাদের নিকট আমি এখনো এক বছরের বাড়ি ভাড়া পাব। এখানে তাদের কেউ নেই, শুধুমাত্র ক্লিনিকের মালামাল আছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এক দিন তারা আমার বাড়ির ভাড়া না দিয়ে মালামাল নিয়ে চলে যেতে চাইলে আমি সব ঘরে তালা দিয়ে রাখি। পরবর্তীতে ভাড়া পরিশোধ করে মালামাল নিয়ে যাওয়ার জন্য বললে তারা এ পর্যন্ত আর আসেনি।’
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ১৯৯৭ সালে দাতা সংস্থা ইউএসএআইডি’র অর্থায়নে দেশের ৬৪টি জেলায় ৩৯৯টি সূর্যের হাসি ক্লিনিক নামে সরকারের সহযোগী সংস্থা হিসেবে তৃণমূলের প্রায় তিন কোটি মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে আসছে। আগে ক্লিনিকগুলো ২৬টি এনজিও’র মাধ্যমে পরিচালিত হতো। ২০১৮ সাল থেকে এনজিওগুলোকে বিলুপ্ত করে ৩৯৯টি ক্লিনিকের মধ্যে ৩৬৯টি ক্লিনিক নিয়ে সূর্যের হাসি নেটওর্য়াক দায়িত্ব গ্রহণ করে।
জীবননগর সূর্যের হাসি ক্লিনিকের ম্যানেজার শাফী মোহাম্মদ আল মাওয়াদী বলেন, গত ২০২০ সালের ৩০ জুন থেকে দেশের ১৫৮টি ক্লিনিক বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সূর্যের হাসি নেটওয়ার্ক। সেই থেকে আমাদের এই ক্লিনিকগুলো বন্ধ রয়েছে। এখানে প্রায় ৬০ জন কর্মরত ছিল, যারা এই চাকরি হারিয়ে মানবেতার জীবনযাপন করছেন। আমি সূর্যের হাসি নেটওয়ার্কে যারা দায়িত্ব আছে, তাদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা জানায় এই প্রজেক্ট বন্ধ হয়ে এখন এনজিও করা হয়েছে। এ জন্য এই ক্লিনিকগুলো তারা আর চালাবে না। এ বিষয়ে আমরা হাইকোর্টে মামলা করেছি।’
এদিকে সূর্যের হাসি ক্লিনিক বন্ধ হলে স্বল্পমূল্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা গ্রহণকারী নিম্ন আয়ের ও হতদরিদ্র মানুষ বঞ্চিত হবে বলে মনে করছেন এলাকার সুধী ও সামাজিক ব্যক্তিরা।
সমীকরণ প্রতিবেদন