চুয়াডাঙ্গা সদরের নেহালপুরে গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্ত্রী মারা যাওয়ার ১০ দিনের মাথায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলেন স্বামী। অল্প কয়েকদিনের ব্যবধানে স্বামী-স্ত্রী মারা যাওয়ার ঘটনায় পুরো গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। দুর্ঘটনায় নিহত কাঁচামাল ব্যবসায়ী ফরজ আলী (৪৫) নেহালপুর গ্রামের মৃত গোলাপ মণ্ডলের ছেলে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার দিকে কালুপোল নামক স্থানে এ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, গতকাল বিকেলে কাঁচামাল ব্যবসায়ী ফরজ আলী তাঁর নিজস্ব করিমন চালিয়ে সরোজগঞ্জে মালামাল বিক্রি করতে যাচ্ছিলেন। পথের মধ্যে কালুপোল নামক স্থানে পৌঁছালে বিপরীত দিক দিয়ে আসা একটি মোটরসাইকেলের সাথে ধাক্কা লেগে মারাত্মকভাবে আহত হন ফরজ আলী। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন মোটরসাইকেল চালক গড়াইটুপি মেলার মাঠ পাড়ার বাতেন আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম। তিনি বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
এদিকে, কাঁচামাল ব্যবসায়ী ফরজ আলীর মৃত্যুর সংবাদ মুহূর্তেই নিজ গ্রামে পৌঁছালে গ্রামজুড়ে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। মৃত্যুর সংবাদ শুনেই নিহতের বাড়িতে ছুটে যান বেগমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী হোসেন জোয়ার্দ্দার, স্থানীয় ইউপি সদস্য আক্কাস আলীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
তিতুদহ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মীর মেজবাহুর বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। তবে আমরা পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে এক করিমন চালকের মৃত্যু হয়েছে, অপরজন চিকিৎসাধীন। সড়ক দুর্ঘটনায় করিমন চালক নিহত হওয়ার ঘটনায় দর্শনা থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।’
বেগমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী হোসেন জোয়ার্দ্দার বলেন, গত বছরের ৩১ শে ডিসেম্বর রাতে নিজ বাড়িতেই বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃতু হয় ফরজ আলীর স্ত্রীর। ১০ দিনের মাথায় মারা গেলেন স্বামী। তিনি বলেন, নিহতের পরিবার ও গ্রামবাসী একসাথে আলোচনা করে আজ বুধবার সকাল ১০টায় নেহালপুর স্কুলমাঠে জানাজার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জানাজার পর গ্রাম্য কবরস্থানে স্ত্রীর কবরের পাশেই তাঁকে সমাহিত করা হবে।
সমীকরণ প্রতিবেদন