শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

শহীদ মুক্তিযোদ্ধার স্বপক্ষে দেয়া জামাল উদ্দিনের সাক্ষ্য মিথ্যা বলার প্রতিবাদে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জামালের পাল্টা সংবাদ সম্মেলন

  • আপলোড তারিখঃ ৩১-০৫-২০১৭ ইং
শহীদ মুক্তিযোদ্ধার স্বপক্ষে দেয়া জামাল উদ্দিনের সাক্ষ্য মিথ্যা বলার প্রতিবাদে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জামালের পাল্টা সংবাদ সম্মেলন
`DSC02102` নিজস্ব প্রতিবেদক: আলমডাঙ্গা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কর্তৃক আরোপিত সংবাদ সম্মেলনের পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জামাল উদ্দিন। গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। গত ২০ মে আলমডাঙ্গা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সুলতান জোয়ার্দ্দার কর্তৃক আরোপিত সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি। সুলতান জোয়ার্দ্দারের দেয়া বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত। গতকাল বুধবার চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জামাল উদ্দিন বলেন, আলমডাঙ্গার মইজুদ্দিন বিশ্বাস আনসার সদস্য ছিলেন। চুয়াডাঙ্গা আনসার ক্যাম্পে তার প্রশিক্ষক ছিলাম আমি। তিনি প্রথমে কুষ্টিয়ায় প্রতিরোধ যুদ্ধে (১৯৭১ সালের ৩০ মার্চ) এবং পরে বিভিন্ন যুদ্ধে আমার অধীনে সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। আলমডাঙ্গা আক্রমনের পূর্বে ৭১ সালের ১০ নভেম্বর বেলগাছীর মইজুদ্দিন বিশ্বাসের বাড়িতে আমরা অবস্থান নিই। ১২ নভেম্ব^র ৩ গ্রুপে ভাগ হয়ে আলমডাঙ্গা আক্রমন করি। মইজুদ্দিন বিশ্বাস আমার গ্রুপেই ছিলেন। আমি যুদ্ধে আহত হলে তিনি চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন এবং চিকিৎসা সেবার সহকারি হিসেবেও কাজ করেন। ১৩ নভেম্ব^র দিবাগত রাতে পাক বাহিনীর পাল্টা আক্রমনে ১৪ নভেম্ব^র ভোরে মইজুদ্দিন বিশ্বাস তাদের হাতে ধরা পড়ে। এরপর পাকবাহিনীর নির্মম অত্যাচার ও গুলিতে শহীদ হন মইজুদ্দিন বিশ্বাস। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শহীদ মইজুদ্দিন বিশ্বাসের বিধবা স্ত্রী নূরজাহান বেগমকে সমবেদনা প্রকাশ করে ২ হাজার টাকার একটি চেক প্রদান করেন এবং তার জীবন আত্মত্যাগের জন্য শহীদের স্বপক্ষে একটি সনদপত্র প্রদান করেন। পরে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে অনুরুপ পত্র দিয়েছিলো। এরপরও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কিভাবে মইজুদ্দিনকে স্বাধীনতা বিরোধী বললেন? জাতীর পিতার সনদের অবজ্ঞা/অবমাননা করা হবে না? শহীদকে, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাকে, জাতীর জনকের সনদকে অবমাননা করার প্রাধিকার তাকে কে দিয়েছে? আমি মইজুদ্দিন বিশ্বাসকে স্বাধীনতা বিরোধী বলার স্বপক্ষে সুলতানের কাছে প্রমান দাবি করছি। তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী/সরকার বাদ পড়া মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় অন্তর্ভূক্তির জন্য ঘোষণার প্রেক্ষিতে মইজুদ্দিন বিশ্বাসের পরিবার হতে আবেদন করা হয়। বর্তমানে আলমডাঙ্গায় যে যাচাই-বাছাই কার্যক্রম চলছে তাতে আমি মুক্তিযুদ্ধে তার কমান্ডার হিসেবে সঠিক সাক্ষ্য দিয়েছি। তার সাথীরাও ইতোমধ্যে স্বাক্ষ্য দিয়েছে। মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা, ০৬.১১.১৬ তারিখের প্রজ্ঞাপন এবং ১০.১১.১৬ তারিখের গেজেট অনুযায়ি শহীদ মইজুদ্দিন বিশ্বাস একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। আমি তার মুক্তিযোদ্ধার স্বপক্ষে জোর স্পারিশ করছি। একইসাথে আলমডাঙ্গা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সুলতান জোয়ার্দ্দারের অপকর্মের খতিয়ান তুলে ধরেন জামাল উদ্দিন। তিনি বলেন, ১৯৮৫ সালে উপজেলা কমান্ডার থাকাকালীন মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য দেয়া পশুহাট মালিকের ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা আত্মসাত করেন সুলতান জোয়ার্দ্দার। মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্যে আসা ১০০ বান্ডিল টিন নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে ১ হাজার টাকা করে নিয়ে ঢেউটিন প্রদান করেন এবং আত্মসাতের জন্য চুরি করে লুকিয়ে রাখা ৩০ বান্ডিল টিন শহরের ইউনুসের বাড়ি থেকে উদ্ধার করেন মুক্তিযোদ্ধারা। আলমডাঙ্গায় মুক্তিযোদ্ধাদের আয়োজনে মেলার বিদ্যুত বিলের দেড় লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। ফলে তৎকালীন আবাসিক প্রকৌশলী সুবোধ বাবু বরখাস্ত হন। এই প্রেক্ষিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. আব্দুর রশিদ তাকে জনসম্মুখে চড়থাপ্পড় মারেন। দক্ষিণবঙ্গের পাডিয়া অয়েল মিলের কোটি কোটি টাকার মালামাল চুরি করে বিক্রির অভিযোগে সুলতানের জেল হয়। ১৯৭১ সালে পাক বাহিনীর ফেলে যাওয়া ট্রাকভর্তি সোনাদানা, টাকা-পয়সা তিনি ও তার ভাই লুট করেন। এ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে তার বিরোধ হয়। বর্তমানে সেই সোনাদানা ও অর্থ নিয়ে এখনও তার ভাইদের বিরোধ চলছে। এদিকে, শহীদ মইজুদ্দিন বিশ্বাসের সম্পর্কে মুক্তিযোদ্ধা জামাল উদ্দিনের দেয়া বক্তব্য সত্য ও সঠিক বলে বিবেচিত করে গণস্বাক্ষর করেছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা।


কমেন্ট বক্স
notebook

আলমডাঙ্গায় ‘নিমগ্ন পাঠাগারে’ সেমিনার অনুষ্ঠিত