রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

খালেদা জিয়ার মেডিকেল রিপোর্ট দাখিল, আজ জামিন শুনানি

  • আপলোড তারিখঃ ১২-১২-২০১৯ ইং
খালেদা জিয়ার মেডিকেল রিপোর্ট দাখিল, আজ জামিন শুনানি
আদালতপাড়ায় উত্তেজনা, কঠোর নিরাপত্তা সমীকরণ প্রতিবেদন: জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের ওপর শুনানি হবে আজ বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে। গতকাল বুধবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) কর্তৃপক্ষ তার সর্বশেষ স্বাস্থ্যগত প্রতিবেদন উচ্চআদালতের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ে দাখিল করে। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের আপিল বেঞ্চে এ প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে। তবে প্রতিবেদনে কী আছে, তা জানা যায়নি। জামিন শুনানির আবেদনটি আপিল বিভাগের ওয়েবসাইটে আজকের কার্যতালিকায় ১২ নম্বরে রাখা হয়েছে। শুনানিকে কেন্দ্র করে পুরো সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আপিল বিভাগের এজলাসকক্ষে আটটি সিসিটিভি (ক্লোজড সার্কিট টেলিভিশন) ক্যামেরা বসানো হয়েছে। গতকাল বিকেল ৩টা থেকে সুপ্রিম কোর্টের ভেতরে পৃথক তিনটি গেটে তল্লাশি করে সব গাড়ি ঢুকতে দেওয়া হয়। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সুপ্রিম কোর্টের তিনটি গেটে তিনটি মোটরসাইকেল আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের পর গত ২৮ নভেম্বর প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বেঞ্চ খালেদা জিয়ার সর্বশেষ স্বাস্থ্যগত অবস্থার মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদন ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু ওই দিন প্রতিবেদন দাখিল না করায় শুনানিকে কেন্দ্র করে প্রধান বিচারপতির আদালতে প্রায় তিন ঘণ্টা 'নজিরবিহীন' হট্টগোল হয়। খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা শেষে সুপারিশসংবলিত প্রতিবেদন গতকাল বিকেল সোয়া ৪টার দিকে সুপ্রিম কোর্টের সংশ্নিষ্ট শাখায় পাঠানো হয়। তবে এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন থেকে সাংবাদিকদের কাছে কেউ কোনো কিছু বলতে রাজি হননি। অধ্যাপক জিলন মিঞার নেতৃত্বে সাত সদস্যের মেডিকেল বোর্ড এই প্রতিবেদন দিয়েছে বলে জানান উপাচার্য। এদিকে, বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ থেকে প্রতিবেদন সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার আগে গুলশানের একটি হোটেলে গোলটেবিল বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করে বলেন, যতটুকু জানতে পেরেছি, মেডিকেল বোর্ড যে রিপোর্ট দিয়েছিল, সেটি সরিয়ে অন্য কোনো রিপোর্ট দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ূয়া বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত সর্বশেষ অবস্থা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন। তারা সেটি প্রতিবেদন আকারে তৈরি করে সিলগালা করে কর্তৃপক্ষের কাছে দেন। এরপর সেই অবস্থায় ওই প্রতিবেদন আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পাঠানো হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে কী রয়েছে, সে সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানে না। খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে বিএনপি নেতাদের বক্তব্য সম্পর্কে উপাচার্য বলেন, তাদের ওই বক্তব্য রাজনৈতিক। কিন্তু স্বাস্থ্যগত বিষয় আর রাজনীতি এক নয়। কেউ চাইলেই কারও স্বাস্থ্যগত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট পাল্টে দেওয়া যায় না। এটি সবাইকে বুঝতে হবে। পৃথক দুটি দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়া গত ১ এপ্রিল থেকে অসুস্থ অবস্থায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন। গতকাল সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল থেকেই সুপ্রিম কোর্টের তিনটি প্রবেশপথ, আশপাশ ও আদালত ভবন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া আর্চওয়ে ও মেটাল ডিরেক্টর দিয়ে তল্লাশির পর আইনজীবী, বিচারপ্রার্থী, সাংবাদিকসহ সংশ্নিষ্টদের আদালতে প্রবেশ করানো হয়। গত ৫ ডিসেম্বর প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের আপিল বেঞ্চ খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদন ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে দাখিল করতে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। সেদিন খালেদা জিয়ার জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে এবং স্বাস্থ্যগত প্রতিবেদন না আসায় সর্বোচ্চ আদালতে হৈচৈ, হট্টগোল ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এমন 'নজিরবিহীন' হট্টগোলের পর সর্বোচ্চ আদালতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আপিল বিভাগের প্রধান বিচারপতির এজলাসকক্ষে গতকাল আটটি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। তিনটি মোটরসাইকেলে আগুন : ঢাকায় সুপ্রিম কোর্টের সামনের সড়কে স্বাভাবিকভাবেই যানবাহন চলাচল করছিল। ফুটপাত দিয়ে যাতায়াত করছিলেন পথচারীরা। বাড়তি নিরাপত্তাও ছিল আদালত এলাকায়। এর মধ্যেই গতকাল বুধবার বিকেলে মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের পৃথক তিন গেটে তিনটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিএনপির কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানির আগের দিন সর্বোচ্চ আদালতের সামনে এ ঘটনা ঘটল। আজ বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগে ওই শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা প্রায় একসঙ্গে পৃথক তিনটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়ার ঘটনাটিকে নাশকতা হিসেবেই দেখছেন। খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি সামনে রেখে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য এ নাশকতা করা হতে পারে বলেও পুলিশ মনে করছে। তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই ঘটনায় কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, পুড়ে যাওয়া মোটরসাইকেল তিনটির একটি হাইকোর্টের মাজারগেটের অদূরে, জাতীয় ঈদগাহ গেটে একটি ও অন্যটি বার কাউন্সিল গেটে ছিল। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে প্রথমে ঈদগাহ গেটের সামনে রাখা একটি মোটরসাইকেল জ্বলতে দেখা যায়। এর ১০ মিনিটের মধ্যে অপর দুটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরানোর খবর আসে। সঙ্গে সঙ্গেই ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। এদিকে, গুরুত্বপূর্ণ এলাকার সড়কের পাশে দাউ দাউ করে গাড়ি জ্বলার খবরে পথচারী ও গণপরিবহনের যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের অনেকেই বলছিলেন, বুধবার দিনভরই আদালতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়াকড়ি ছিল। আদালতে ঢুকতে অনেককেই তল্লাশির মুখে পড়তে হয়েছে। এর মধ্যেই গতকাল খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন আদালতে পৌঁছে। ফায়ার সার্ভিসের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তা এরশাদ হোসেন জানান, তাদের কাছে বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে একটি মোটরসাইকেলে আগুন লাগার খবর আসে। ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট সেখানে গিয়ে পাশাপাশি এলাকায় তিনটি মোটরসাইকেলে আগুন দেখতে পায়। নেভানোর আগেই এগুলো প্রায় পুড়ে গেছে। শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান বলেন, অতর্কিতে তিনটি মোটরসাইকেলে একই সময়ে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এটি পরিকল্পিত নাশকতা বলে তারা মনে করছেন। এর সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি মোটরসাইকেলের মালিকদেরও সন্ধান চলছে। ওসি বলেন, বৃহস্পতিবার বিএনপি চেয়ারপারসনের জামিনের ওপর আপিল শুনানি রয়েছে। এর আগে গাড়িগুলোতে আগুন দেওয়া হলো। এর আগের শুনানির তারিখেও আদালতে বিএনপি সমর্থিত লোকজন হট্টগোল করেছে। সব বিষয় মাথায় রেখে তদন্ত চলছে।


কমেন্ট বক্স
notebook

দুর্ঘটনায় নিহত রুয়েট শিক্ষার্থী রাফিদের লাশ চুয়াডাঙ্গায়