শনিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২৫
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গা জেলা যুবলীগ নেতা জিল্লু চেয়ারম্যানের বাড়িতে বোমা হামলার ঘটনা

  • আপলোড তারিখঃ ১১-০৫-২০১৮ ইং
চুয়াডাঙ্গা জেলা যুবলীগ নেতা জিল্লু চেয়ারম্যানের বাড়িতে বোমা হামলার ঘটনা
সংবাদ সম্মেলন : ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের সনাক্তের দাবি নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গা জেলা যুবলীগের ১ নং যুগ্ম আহ্বায়ক, বাংলাদেশ ইউপি চেয়ারম্যান সমিতি জেলা শাখার সভাপতি ও আলমডাঙ্গার ১৪ নং চিৎলা ইউপি’র তিন বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান মো. জিল্লুর রহমান জিল্লুর বাড়িতে অব্যাহত ভাবে চার বার বোমা হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলন থেকে আগামী ৭২ ঘন্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেফতারসহ সকল আইনি কর্মকান্ড পরিচালনার দাবি জানানো হয়েছে। এ ক্ষেত্রে জিল্লু চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে দুটি বাড়িতে সিসি ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে দুর্বিত্তদের সনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে জানানো হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জিল্লুর রহমান বলেন, ‘আমি ছাত্র জীবন থেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক। আর এই আদর্শ ধারণ করেই জীবনের অনেক চড়াই উৎরাই পার করেছি। নানানতর ষড়যন্ত্রের কারণে জেল, জুলুম, হামলা-মামলা হুলিয়া এবং কখনো কখনো অমানবিক নির্যাতন আমার উপর উসলেও আমি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক আদর্শ থেকে কোন ভাবেই বিচ্যুত হয়নি এবং জনগণের পাশ থেকে সরে দাড়াইনি। আর এই কারণেই আার ইউনিয়নের জনগণ আমাকে অব্যাহত ভাবে সমর্থন দেয়ায় ৬নং খাদিমপুর ইউপিতে একবার ও দু’বার ১৪ নং চিৎলা ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘দলীয় আদর্শের প্রতীক এবং এলাকার জনপ্রিয়তাকে মূল্যায়ন করে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি আমাকে চুয়াডাঙ্গা জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির দু’বার ১ নং যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন। চুয়াডাঙ্গা জেলার রাজনৈতিক সচেতন যুব সম্প্রদায়কে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শীক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা এবং সাংগঠনিকভীত মজবুত করায় ছিল বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির রাজনৈতিক উদ্দেশ্য। আমার রাজনৈতিক সদিচ্ছার কারণে উল্লেখিত বিষয় অতি গুরুত্ব দিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করার শুভমানষে আমি দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলেছি। কিন্তু আমার এই পথ চলায় বার বার ছেদ পড়ছে। যার প্রকৃষ্ট প্রমাণ আমার বাড়িতে চার বার বোমা হামলা। শেষবার হামলা করা হয়েছে গত ০৮ মে মঙ্গলবার রাত ১২টায়। বোমা হামলার সময় আমার স্ত্রী, সন্তান, পরিবার পরিজন ও মহল্লাবাসীসহ এলাকার সচেতন মহল আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। বোমা হামলা চালিয়ে আমাকে ও আমার পরিবার পরিজনদের হত্যা করায় হয়তো দুর্বত্তদের অভিলাস ছিল। জিল্লু চেয়ারম্যান উপস্থিত সাংবাদিক ও দলীয় নেতাকর্মীদের সহযোগিতা প্রত্যাশা এবং স্থানীয় দায়িত্বশীল প্রশাসনের কাছে জোর দাবি করে বলেন, ‘আমি এবং আমার পরিবারের উপর অব্যাহত ভাবে বার বার বোমা হামলাকারীদের আগামী ৭২ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতারসহ সকল আইনি কর্মকান্ড পরিচালনা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বলা যায় আমার বাড়ির সামনে দু’টি বাড়িতে সিসি ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে দুর্বিত্তদের সনাক্ত করা সম্ভব বলে আমি মনে করি। বৃহত্তর কর্মসূচীর হুশিয়ারী দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি ও আওয়ামী যুবলীগের নেতাকর্মী সংগঠকরা স্থানীয় প্রশাসনের উপর আস্থাশীল থাকায় সুশাসন ও আইনের যথাযথ প্রয়োগ প্রক্রিয়াকে সমর্থন দেওয়ায় আমরা গত বুধবারের ঘোষিত প্রতিবাদ কর্মসূচী প্রত্যাহার করেছি। তবে ঘোষিত সময়সীমার মধ্যে প্রকৃত দোষীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় সোপর্দ না করলে এলাকাবাসীসহ সংগঠনের পক্ষ থেকে বৃহত্তর কর্মসূচী ঘোষণা দিলে তার জন্য স্থানীয় প্রশাসনই দায়ী থাকবেন। সংবাদ সম্মেলন আয়োজকদের মধ্যে বক্তব্য দিতে গিয়ে পৌর মেয়র ওবায়দুর রহমান চৌধুরী জিপু বলেন, ‘জিল্লু চেয়ারম্যানের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে এই বোমা হামলা যারা করেছে স্থানীয় পদ্মা টাওয়ারের সিসি ক্যামেরায় তাদের ফুটেজ ধরা পড়েছে। সকলের দাবি ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের যেন সনাক্ত করা হয় এবং এর আঙ্গিকে মামলার তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।’ চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান কবির বলেছেন ভিন্ন কথা। তার বক্তব্য অনুযায়ী বোমা হামলার বিষয়টি অনেকটা রাজনৈতিক উদ্দ্যেশ্য প্রণোদিত। তিনি বলেন, ‘২০০৩ সালে একবার জেলা যুবলীগের কমিটি ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। সে সময় জেলার রাজনৈতিক গ্রুপিংটা বেশ শক্ত অবস্থানে যায়। তৎকালীন আহ্বায়ক কমিটির পক্ষে যারা ছিল, বেশির ভাগ সেই সকল নেতাকর্মীর বাড়িতেই বোমা হামলা করা হয়েছে। আমিও তার ভুক্তভোগী; আমার বাড়িতেও বোমা মারা হয়েছে, তখন জিল্লুর রহমানের বাড়িতেও বোমা মারা হয়েছে। বিগত বেশ কিছুদিন হয়ে গেছে বোমাবাজী আর নাই। আমরা আরেকটা জিনিস লক্ষ্য করছি জেলা যুবলীগের কমিটি হওয়ার পরে একটা জিনিস ঘটছে; পাল্টা পাল্টি কমিটি। আমি কাউকে ইন্টিগেট করবো না। তবে যারা বোমাবাজী করে, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনা করে এরা কিন্তু কারো না। যদি কেও পাঠিয়েও থাকে, ঘুরে তার ঘরেও যেতে পারে। অতএব এর সাথে যারা জড়িত তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।’ সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষকলীগের প্রচার সম্পাদক মহসিন রেজা, সদর থানা কৃষকলীগের আহ্বায়ক আব্দুল মতিন দুদু, আলমডাঙ্গা উপজেলা কৃষকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদুর রহমান (মাছুম), জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জানিফ, যুগ্ম সম্পাদক জাকির হুসাইন জ্যাকী প্রমূখ।


কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় প্রার্থনা অনুষ্ঠানে শরীফুজ্জামান