ইপেপার । আজ শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৪

গাংনীর রাইপুরে আ.লীগের প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে প্রতিবাদ সভা

গাংনী অফিস:
  • আপলোড টাইম : ১০:০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ নভেম্বর ২০২১
  • / ৪৫ বার পড়া হয়েছে

‘বিগত দিনে গোলাম সাকলায়েন ছেপুর অবস্থান ছিল আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা মনোনীত প্রার্থীর বিপক্ষে তার অবস্থান ছিল খুবই স্পষ্ট। মেহেরপুর-২ আসনের কয়েকটি সংসদ নির্বাচন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনসহ অনেক নির্বাচনে তার অবস্থান ছিল দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধেই। অথচ ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীক তুলে দেওয়া হয়েছে তারই হাতে। ফলে তীব্র ক্ষোভ আর প্রতিবাদ বিরাজ করছে গাংনীর রাইপুর ইউনিয়নে। স্বতন্ত্র প্রার্থীর গডফাদার আখ্যায়িত করে তার মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবি করেছেন রাইপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। গতকাল সোমবার দুপুরে গাংনী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ ফুটবল মাঠে এক প্রতিবাদী সমাবেশে দ্রুত মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে বক্তব্যে এসব কথা বলেন নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানে রাইপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের কয়েক হাজার নারী-পুরুষ অংশ নিয়ে প্রতিবাদী নানা স্লোগান দেয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাইপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি শামসুজ্জামান মঙ্গল।
বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘রাইপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগে আমরা কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্ব দিয়ে আসছি। এ কারণে বিএনপি-জামায়াতের শাসনামলে মামলা-হামলার শিকার হয়েছি। গোলাম সাকলায়েন ছেপু এবং তার পরিবারের কেউ ওভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেননি, তাই তাদের ওপরে বিরোধী শিবিরের জুলুম হয়নি। তাছাড়া অনেক নির্বাচনে সে দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আসছে। প্রায় সবসময় দলের বিরুদ্ধে অবস্থানে থাকা একজন মানুষকে নৌকা প্রতীক দেওয়া মানে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের অবমাননা করা। তাই দ্রুত তার মনোনয়ন পরিবর্তন করে ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মনোনয়ন দিতে হবে। তা না হলে এ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অনেক বড় ক্ষতি হবে।’
আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে গোলাম সাকলায়েন ছেপু ষড়যন্ত্র করে আওয়ামী লীগ ধ্বংস করছে অভিযোগ করে শামসুজ্জামান মঙ্গল বলেন, ‘ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান মোকলেচ একজন জনপ্রিয় নেতা। তাকে সমর্থন দিয়ে আমি মনোনয়ন যুদ্ধ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছি। তার জনপ্রিয়তা দেখে ভয় পায় ছেপু। এরই ধারাবাহিতায় পুলিশকে ম্যানেজ করে একটি মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়। মোকলেচ ছাড়াও আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের মিথ্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে। ফলে এলাকার মানুষের মাঝে ক্ষোভের আগুন আরও বেড়ে যায়। তাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং মনোনয়ন পরিবর্তন না হলে এই ইউনিয়নে নৌকার চরম ভরাডুবি হতে পারে। তাই এই বিষয়ে আশু ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।’
অনুষ্ঠানে গাংনী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হাসান রেজা সেন্টুর সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন গাংনী উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফকির মোহাম্মদ, রাইপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান মোকলেচ, আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম, ইউনিয়ন আওয়ামী সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হক, ইউনিয়ন কৃষক লীগ সভাপতি আব্দুল হান্নান, সাধারণ সম্পাদক রানা ইসলাম, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুল ইসলাম, ১নং ওয়ার্ড আ.লীগ সভাপতি আপেল শেখ, সাধারণ সম্পাদক কিয়াম আলী, ২নং ওয়ার্ড আ.লীগ সভাপতি জসিম উদ্দীন, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, ৩নং ওয়ার্ড আ.লীগ সভাপতি আব্দুর রহিম, সাধারণ সম্পাদক ময়নাল হক, ৪নং সভাপতি হযরত আলী মেম্বর, সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম, ৫নং সাধারণ সম্পাদক রাজুল ইসলাম, ৬নং সভাপতি গুজর আলী, ৭নং সভাপতি আলিহিম, সাধারণ সম্পাদক মন্ডল আলী, ৮নং সভাপতি ছানোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক কালু হোসেন, ৯নং সভাপতি চান্দু ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সুন্নত আলীসহ অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

আজকের সমীকরণ ইপেপার

গাংনীর রাইপুরে আ.লীগের প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে প্রতিবাদ সভা

আপলোড টাইম : ১০:০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ নভেম্বর ২০২১

‘বিগত দিনে গোলাম সাকলায়েন ছেপুর অবস্থান ছিল আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা মনোনীত প্রার্থীর বিপক্ষে তার অবস্থান ছিল খুবই স্পষ্ট। মেহেরপুর-২ আসনের কয়েকটি সংসদ নির্বাচন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনসহ অনেক নির্বাচনে তার অবস্থান ছিল দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধেই। অথচ ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীক তুলে দেওয়া হয়েছে তারই হাতে। ফলে তীব্র ক্ষোভ আর প্রতিবাদ বিরাজ করছে গাংনীর রাইপুর ইউনিয়নে। স্বতন্ত্র প্রার্থীর গডফাদার আখ্যায়িত করে তার মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবি করেছেন রাইপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। গতকাল সোমবার দুপুরে গাংনী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ ফুটবল মাঠে এক প্রতিবাদী সমাবেশে দ্রুত মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে বক্তব্যে এসব কথা বলেন নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানে রাইপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের কয়েক হাজার নারী-পুরুষ অংশ নিয়ে প্রতিবাদী নানা স্লোগান দেয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাইপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি শামসুজ্জামান মঙ্গল।
বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘রাইপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগে আমরা কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্ব দিয়ে আসছি। এ কারণে বিএনপি-জামায়াতের শাসনামলে মামলা-হামলার শিকার হয়েছি। গোলাম সাকলায়েন ছেপু এবং তার পরিবারের কেউ ওভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেননি, তাই তাদের ওপরে বিরোধী শিবিরের জুলুম হয়নি। তাছাড়া অনেক নির্বাচনে সে দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আসছে। প্রায় সবসময় দলের বিরুদ্ধে অবস্থানে থাকা একজন মানুষকে নৌকা প্রতীক দেওয়া মানে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের অবমাননা করা। তাই দ্রুত তার মনোনয়ন পরিবর্তন করে ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মনোনয়ন দিতে হবে। তা না হলে এ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অনেক বড় ক্ষতি হবে।’
আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে গোলাম সাকলায়েন ছেপু ষড়যন্ত্র করে আওয়ামী লীগ ধ্বংস করছে অভিযোগ করে শামসুজ্জামান মঙ্গল বলেন, ‘ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান মোকলেচ একজন জনপ্রিয় নেতা। তাকে সমর্থন দিয়ে আমি মনোনয়ন যুদ্ধ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছি। তার জনপ্রিয়তা দেখে ভয় পায় ছেপু। এরই ধারাবাহিতায় পুলিশকে ম্যানেজ করে একটি মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়। মোকলেচ ছাড়াও আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের মিথ্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে। ফলে এলাকার মানুষের মাঝে ক্ষোভের আগুন আরও বেড়ে যায়। তাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং মনোনয়ন পরিবর্তন না হলে এই ইউনিয়নে নৌকার চরম ভরাডুবি হতে পারে। তাই এই বিষয়ে আশু ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।’
অনুষ্ঠানে গাংনী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হাসান রেজা সেন্টুর সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন গাংনী উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফকির মোহাম্মদ, রাইপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান মোকলেচ, আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম, ইউনিয়ন আওয়ামী সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হক, ইউনিয়ন কৃষক লীগ সভাপতি আব্দুল হান্নান, সাধারণ সম্পাদক রানা ইসলাম, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুল ইসলাম, ১নং ওয়ার্ড আ.লীগ সভাপতি আপেল শেখ, সাধারণ সম্পাদক কিয়াম আলী, ২নং ওয়ার্ড আ.লীগ সভাপতি জসিম উদ্দীন, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, ৩নং ওয়ার্ড আ.লীগ সভাপতি আব্দুর রহিম, সাধারণ সম্পাদক ময়নাল হক, ৪নং সভাপতি হযরত আলী মেম্বর, সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম, ৫নং সাধারণ সম্পাদক রাজুল ইসলাম, ৬নং সভাপতি গুজর আলী, ৭নং সভাপতি আলিহিম, সাধারণ সম্পাদক মন্ডল আলী, ৮নং সভাপতি ছানোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক কালু হোসেন, ৯নং সভাপতি চান্দু ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সুন্নত আলীসহ অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।