শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

রাত ১১টার মধ্যে জাকসু নির্বাচনের ফল প্রকাশে প্রত্যাশা কমিশনের

  • আপলোড তারিখঃ ১২-০৯-২০২৫ ইং
রাত ১১টার মধ্যে জাকসু নির্বাচনের ফল প্রকাশে প্রত্যাশা কমিশনের

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শেষ হলেও আজ শুক্রবার বিকেল পর্যন্তও ফলাফল ঘোষণা করতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। প্রার্থীদের দাবিতে ম্যানুয়াল ভোট গণনা ও অন্যান্য কারিগরি জটিলতায় ফল প্রকাশে দেরি হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।


বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও প্রক্টর এ কে এম রাশিদুল আলম জানান, “ভোট গণনায় শুরুর দিকের ধীরগতির কারণে বিলম্ব হচ্ছে। তবে এখন গতি বেড়েছে। আশা করছি, রাত ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে বেসরকারিভাবে ফল ঘোষণা করতে পারব।”


ওএমআর বাদ দিয়ে গণনা হাতে

প্রথমে ওএমআর মেশিনে গণনার প্রস্তুতি থাকলেও একাধিক প্রার্থীর লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ভোট গণনা করা হচ্ছে হাতে। এতে সময় লাগছে অনেক বেশি।


রাশিদুল আলম বলেন, “সকাল ৯টায় ভোট শুরুর কথা থাকলেও কিছু হলে দেরি হয়। কোথাও কোথাও আবার দুপুর পর্যন্ত ভোটার উপস্থিতি কম ছিল। বিকেল হতেই ভোটারদের ঢল নামে। নিয়ম অনুযায়ী লাইনে দাঁড়ানো সব ভোটারকে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ দিতে হয়েছে। ফলে ব্যালট বাক্স কমিশনে পৌঁছাতে রাত সাড়ে ৯টা বেজে যায়। সেজন্য গণনা শুরু করতেই রাত ১০টা লেগে যায়।”


তিনি আরও জানান, ভোট গণনার শুরুতে পাঁচটি টেবিলে কাজ চললেও আজ সকালে তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ১০টি। প্রত্যেক টেবিলে নির্ধারিত একেকটি হলের ভোট গণনা হচ্ছে। পর্যবেক্ষণের জন্য সিসিটিভি ক্যামেরাও বসানো হয়েছে প্রতিটি টেবিলের পাশে।


পোলিং এজেন্টের অনুপস্থিতি, সময়ক্ষেপণের আরেক কারণ

ভোট গণনায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পোলিং এজেন্ট ও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক হলেও গতরাতে অনেক হলেই পোলিং এজেন্ট ছিলেন না। এতে গণনায় কিছুটা বিঘ্ন ঘটে। প্রক্রিয়া ঠিকমতো অনুসরণ করতে গিয়ে সময় লেগেছে বেশি।


শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

ফল প্রকাশে দেরিতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ। গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী তানভীর আহমেদ বলেন, “একটি হলের ফল গণনায়ই ঘণ্টাখানেক সময় লাগছে। ২১টি হলের ভোট গণনার পর রয়েছে কেন্দ্রীয় জাকসুর ২৫টি পদ। সেটি গুনে নিলেই বোঝা যায়, এভাবে চললে ফল পেতে আরও অনেক সময় লাগবে।”


তিনি মনে করেন, যেসব প্যানেল এখনো নির্বাচনে আছে, তাদের সম্মতিতে ওএমআর পদ্ধতিতে গণনার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল।


পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী উম্মে হাবীবা বলেন, “গতকাল সন্ধ্যা থেকে রেজাল্টের অপেক্ষায় আছি। কেউ সঠিকভাবে বলতে পারছে না, কখন ফলাফল দেবে। এতে পুরো নির্বাচনের উচ্ছ্বাসটাই ম্লান হয়ে যাচ্ছে।”


ভোটার, প্রার্থী ও পদসংখ্যা

জাকসু নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ১১ হাজার ৭৪৩ জন। এর মধ্যে প্রায় ৬৭-৬৮ শতাংশ ভোট পড়েছে। কেন্দ্রীয় সংসদের ২৫টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ১৭৭ জন। ভিপি পদে লড়েছেন ৯ জন, জিএস পদে ৮ জন।


মোট ২১টি হলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অনেক পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন প্রার্থীরা। ছাত্রীদের হলে ১৫০টি পদের মধ্যে ৫৯টিতে কোনো প্রার্থীই ছিলেন না। ৬৭টি পদের জন্য লড়াই ছিল একক প্রার্থীকে ঘিরে। ফলে মাত্র ২৪টি পদেই ভোট হয়েছে। দুটি হলে সব প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।



কমেন্ট বক্স