শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি
প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগসহ সাত দফা দাবি, প্রশাসনের নির্লিপ্ততার অভিযোগ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় দিনের মতো অনশনে ৯ শিক্ষার্থী

  • আপলোড তারিখঃ ১১-০৯-২০২৫ ইং
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় দিনের মতো অনশনে ৯ শিক্ষার্থী

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগসহ সাত দফা দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো অনশন চলছে। বুধবার দুপুরে প্রক্টর কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি শুরু হয়। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্তও অনশনে অটল রয়েছেন শিক্ষার্থীরা।


‘অধিকার সচেতন শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে অনুষ্ঠিত এ অনশনে এখন পর্যন্ত ৯ জন যুক্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বাংলা বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী ওমর সমুদ্র, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সংগঠক ধ্রুব বড়ুয়া, শাখা বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর জশদ জাকির, সাংগঠনিক সম্পাদক রাম্রা সাইন মারমা, রাজনৈতিক শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক আহমেদ মুগ্ধ, দপ্তর সম্পাদক নাইম শাহজাহান, নারী অঙ্গনের সংগঠক ও মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া শিকদার, বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলনের সংগঠক ঈশা দে এবং পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুদর্শন চাকমা রয়েছেন। এর মধ্যে জশদ জাকির গতকাল বিকেল তিনটার দিকে অনশনে যোগ দেন।


শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে—প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ, স্থানীয় গ্রামবাসীর সঙ্গে সংঘর্ষে আহতদের চিকিৎসা নিশ্চয়তা, নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা, হামলার ভিডিও প্রকাশকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, প্রকৃত অপরাধীদের বিচার, অন্তর্ভুক্তিমূলক সমন্বয় কমিটি গঠন ও সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন।


অনশনে থাকা রাম্রা সাইন মারমা অভিযোগ করে বলেন, “২১ ঘণ্টা পার হলেও প্রশাসন কোনো সাড়া দেয়নি। আমরা যৌক্তিক দাবি তুলেছি। এই প্রক্টরিয়াল বডি দায়িত্ব নেওয়ার পর একাধিক গুপ্ত হামলা ও নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার ঘটনা ঘটেছে। সাম্প্রতিক সংঘর্ষেও তারা ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।”


আরেক শিক্ষার্থী নাইম শাহজাহান বলেন, “প্রশাসন রাজনৈতিক সহযোগীদের দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমরা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব।”


এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ বলেন, তিনি ছুটিতে আছেন। দায়িত্ব পালন করছেন সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক কোরবান আলী। তবে তাঁর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন ধরেননি।


ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশ বিঘ্ন করার অপচেষ্টা সফল হবে না। শিক্ষার্থীরা কখনোই এসব আন্দোলন সমর্থন করবে না।”


উল্লেখ্য, গত ৩০ ও ৩১ আগস্ট স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কয়েক দফা সংঘর্ষে অন্তত ২০০ জন আহত হন। নিরাপত্তা ব্যর্থতার অভিযোগে শিক্ষার্থীরা প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ দাবি করে। পরে ৪ সেপ্টেম্বর বিক্ষোভ, অবস্থান কর্মসূচি ও মশাল মিছিলের মাধ্যমে আলটিমেটাম দেন তাঁরা। মশাল মিছিল শেষে প্রক্টর অফিসে লাল রঙ ছিটিয়েও প্রতিবাদ জানানো হয়।



কমেন্ট বক্স