শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

দীর্ঘ ১২ বছর পর চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শংকরচন্দ্র ও মাখালডাঙ্গা ইউপি নির্বাচন

  • আপলোড তারিখঃ ০৬-০৩-২০২৪ ইং
দীর্ঘ ১২ বছর পর চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শংকরচন্দ্র ও মাখালডাঙ্গা ইউপি নির্বাচন

দীর্ঘ ১২ বছর পর চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শংকরচন্দ্র ও নব গঠিত মাখালডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন জমে উঠেছে। প্রচার প্রচারণার শেষ দিকে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। আগমী ৯ মার্চ এ ইউনিয়ন দুটির ভোটগ্রহণ। দুটি ইউনিয়নে ১৩ জন চেয়ারম্যান ও ১৩০ জন সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

জানাগেছে, মামলা জটিলতায় দীর্ঘদিন নির্বাচন আটকে থাকার পর কিছুদিন আগে মামলার নিষ্পতি হলে আদালত নির্বাচনের অনুমতি দেয় শংকরচন্দ্র ইউনিয়ন ভেঙ্গে নবগঠিত মাখালডাঙ্গা ও শংকরচন্দ্র ইউনিয়ন পরিষদের। নবগঠিত মাখালডাঙ্গা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পাঁচজন, সাধারণ সদস্য পদে ৫১ জন ও সংরক্ষিত (মহিলা) সদস্য পদে ২০ জন। শংকরচন্দ্র ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আটজন, সাধারণ সদস্য পদে ৪৩ জন ও সংরক্ষিত (মহিলা) সদস্য পদে ১৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নবগঠিত মাখালডাঙ্গা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আরশাদ উদ্দীন আহমেদ (চন্দন)-মোটরসাইকেল, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা আশাদুল হক-আনারস, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বিশ্বজিত সাহা-ঘোড়া, আব্দুর রাজ্জাক-চশমা ও মোহা. ওসমান গনি-অটোরিক্সা প্রতীকে লড়ছেন।

নবগঠিত মাখালডাঙ্গা ইউনিয়নে ১ নং ওয়ার্ডে সাধারণ আসনের সদস্য পদে জহুরুল ইসলাম-মোরগ, আনারুল ইসলাম-ভ্যানগাড়ী, ইবাদত আলী-টিউব ওয়েল ও আবু বক্কর সিদ্দিক-ফুটবল। ২ নং ওয়ার্ডে সাধারণ আসনের সদস্য পদে সোহাগ-ফুটবল, সাইফুল ইসলাম-তালা, জয়নাল আবেদীন-বৈদ্যুতিক পাখা, মিজানুর রহমান-মোরগ ও নূর আলম-টিউব ওয়েল। ৩ নং ওয়ার্ডে সাধারণ আসনের সদস্য পদে মকবুল হোসেন-টিউবওয়েল, আশরাফুল হক-তালা, সুজন আলী-মোরগ, শামিম রেজা-ফুটবল, মুকুল চাঁদ-ঘুড়ি, সাবিদ হোসেন টিটুল-ভ্যানগাড়ি, অলিল হোসেন-লাটিম ও মুক্তার আলী-বৈদ্যুতিক পাখা। ৪ নং ওয়ার্ডে সাধারণ আসনের সদস্য পদে মতিয়ার রহমান-টিউবওয়েল, রোকনুজ্জামান-ফুটবল, মহিদুল ইসলাম-মোরগ, জুয়েল রানা-তালা, আনোয়ার হোসেন-বৈদ্যুতিক পাখা, তহিদুল ইসলাম-ভ্যানগাড়ি, লাল্টু মিয়া-ক্রিকেট ব্যাট ও রাকিব আহম্মেদ সন্টু-ঘুরি। ৫ নং ওয়ার্ডে সাধারণ আসনের সদস্য পদে সাইদুর রহমান-তালা, আব্দুল কাদের বিশ্বাস-মোরগ, মিজানুর রহমান-টিউবওয়েল ও নজিবুল ইসলাম সাগর-ফুটবল। ৬ নং ওয়ার্ডে সাধারণ আসনের সদস্য পদে মেহবুব পারভেজ-মোরগ, নুরুল ইসলাম-বৈদ্যুতিক পাখা, মতিয়ার রহমান-ফুটবল। ৭ নং ওয়ার্ডে সাধারণ আসনের সদস্য পদে বসির আহমেমদ-ফুটবল, মিজানুর রহমান-তালা, নাসির উদ্দীন- মোরগ ও আখের আলী-বৈদ্যুতিক পাখা। ৮ নং ওয়ার্ডে সাধারণ আসনের সদস্য পদে রবিউল হক-টিউবওয়েল, আসলাম উদ্দীন-ফুটবল, বিল্লাল হোসেন-তালা, জিল্লুর রহমান-ক্রিকেট ব্যাট ও আলা উদ্দীন-মোরগ। ৯ নং ওয়ার্ডে সাধারণ আসনের সদস্য পদে মামুন অর রশিদ-ক্রিকেট ব্যাট, খাদেমুল বাসার-ঘুড়ি, সেলিম রেজা-তালা, মহাবুল হোসেন-বৈদ্যুতিক পাখা, লিপ্টন মিয়া-ফুটবল, জামাল উদ্দীন-ভ্যানগাড়ি, বাদশা মুফতি-টিউবওয়েল ও বাচ্চু মিয়া-মোরগ প্রতীকে লড়ছেন।

১ নং ওয়ার্ডে সংরক্ষিত আসনের (মহিলা) সদস্য পদে বেগম খাতুন-বক, রুমি আক্তার-বই, মমতাজ খাতুন-মাইক, আল্পনা খাতুন-তালগাছ, আসমা বেগম-কলম, নাছিমা খাতুন-ক্যামেরা, শিউলি খাতুন-জিরাফ ও আলেয়া বেগম-সূর্যমুখি ফুল। ২ নং ওয়ার্ডে সংরক্ষিত আসনের (মহিলা) সদস্য পদে জাহানারা খাতুন-সূর্যমুখি ফুল, নাছিমা বেগম-মাইক, রোমেলা খাতুন-বক ও বিউটি খাতুন-হেলিকপ্টার। ৩ নং ওয়ার্ডে সংরক্ষিত আসনের (মহিলা) সদস্য পদে লাখি খাতুন-তালগাছ, আকলিমা খাতুন-হেলিকপ্টার, নাজমা খাতুন-জিারফ, আসান্নুর বেগম-সূর্যমুখি ফুল, রোজিনা পারভীন-বক, সাথী আক্তার-মাইক, খালেদা ফেরদৌস-বই ও সারমিন নাহার-কলম প্রতীকে লড়ছেন।

চেয়ারম্যান পদে শংকরচন্দ্র ইউনিয়নের সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান টেবিল ফ্যান, মহিউল আলম-চশমা, সিকদার রাকিব হাসান-ঘোড়া, শফিকুল ইসলাম-রজনীগন্ধা, বখতিয়ার হোসেন-মটর সাইকেল, কাজী আমিরুল ইসলাম-আনারস, জিসান মিয়া-টেলিফোন ও নিলুয়ার হোসেন-অটোরিক্সা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
১ নং ওয়ার্ডে সাধারণ আসনের সদস্য পদে সুমন আলী-টিউবওয়েল, দুলু মিয়া-ফুটবল, শওকত আলী-বৈদ্যুতিক পাখা, মাসুদ ইকবাল-মোরগ ও মাসুদুর রহমান-তালা। ২নং ওয়ার্ডে সাধারণ আসনের সদস্য পদে ছামাদ আলী-তালা, সোহানুর রহমান-ফুটবল, মাফুজুর রহমান-মোরগ, আব্দুল্লাহ-ভ্যানগাড়ি ও জাফর উল্লাহ শারাফাত-বৈদ্যুতিক পাখা। ৩ নং ওয়ার্ডে সাধারণ আসনের সদস্য পদে কামরুল হাসান-বৈদ্যুতিক পাখা, আবুল কালাম আজাদ-ভ্যানগাড়ি, তুরাপ আলী-মোরগ, রফিকুল ইসলাম-ফুটবল ও জাফর ইকবাল-টিউবওয়েল। ৪ নং ওয়ার্ডে সাধারণ আসনের সদস্য পদে, আশাদুল হক-টিউবওয়েল, জামাল হোসেন-ভ্যানগাড়ি, সুবারেক মণ্ডল-বৈদ্যুতিক পাখা, মহির উদ্দিন মণ্ডল-তালা, উসমান গনি-মোরগ ও মেহের উদ্দীন-ফুটবল। ৫নং ওয়ার্ডে সাধারণ আসনের সদস্য পদে আফীল উদ্দীন-মোরগ ও মাসুদুর রহমান-তালা। ৬ নং ওয়ার্ডে সাধারণ আসনের সদস্য পদে বৈধ প্রার্থীরা হলেন, টোকন উদ্দীন-মোরগ, মনোয়ার হোসেন-ফুটবল। ৭ নং ওয়ার্ডে সাধারণ আসনের সদস্য পদে মানোয়ার হোসেন-টিউবওয়েল, সুজন মিয়া-ভ্যানগাড়ি, ডালু মালিতা-ফুটবল ও মুরাদ আলী-মোরগ। ৮ নং ওয়ার্ডে সাধারণ আসনের সদস্য পদে সমসের আলী-ক্রিকেট ব্যাট, রায়হান উদ্দীন-ভ্যানগাড়ি, ইমরান হোসেন-ফুটবল, বিল্লাল হোসেন-বৈদ্যুতিক পাখা, শাকের আলী-টিউবওয়েল, রাসেল আহম্মেদ-তালা, সারজাদুল ইসলাম-মোরগ ও রাজু আহমেদ-ঘুড়ি। ৯ নং ওয়ার্ডে সাধারণ আসনের সদস্য পদে ছানোয়ার হোসেন-তালা, কাজল-মোরগ, শহিদুল ইসলাম-ফুটবল ও আশাদুল ইসলাম-টিউবওয়েল প্রতীকে লড়ছেন।

১ নং ওয়ার্ডে সংরক্ষিত আসনের (মহিলা) সদস্য পদে সুর্বনা শোভা-সূর্যমুখি ফুল, গুলশানারা খাতুন-মাইক, রোকসানা খাতুন-বক, ডলি খাতুন-তালগাছ রও ময়না খাতুন জিরাফ। ২ নং ওয়ার্ডে সংরক্ষিত আসনের (মহিলা) সদস্য পদে রিক্তা খাতুন-বক, জাহানারা খাতুন-হেলিকপ্টার, শাহানাজ খাতুন-তালগাছ, সুফিয়া খাতুন-মাইক ও সালেহা খাতুন-সূর্যমুখি। ৩ নং ওয়ার্ডে সংরক্ষিত আসনের (মহিলা) সদস্য পদে পারুলা খাতুন-মাইক, হামিদা-হেলিকপ্টার, ছাহেরা বেগম-সূর্যমুখী ফুল, সুন্দরী খাতুন-জিরাফ, সেলিনা বেগম-তালগাছ ও শামিমা খাতুন-বক প্রতীকে লড়ছেন।

``

সরেজমিনে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মাখালডাঙ্গা ও শংকরচন্দ্র ইউনিয়ন ঘুরে এবং বেশ কয়েকজন ভোটারের সাথে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন পর এ ইউনিয়নবাসী ইউপি নির্বাচন পেয়েছে। সেজন্য দুটি ইউনিয়ন জুড়েই নির্বাচন উৎসবে রুপ নিয়েছে।
সরেজমিনে ইউনিয়ন দুটি ঘুরে দেখা যায়, প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। প্রত্যেকটি রাস্তা, অলি-গলি ব্যানার ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে। সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন প্রার্থীরা। দুটি ইউনিয়নের প্রত্যেকটি গ্রামেই নির্বাচনী আমেজ এখন তুঙ্গে। পাড়া মহল্লার চায়ের দোকানে এখন নির্বাচনের জয়-পরাজয় নিয়ে আলোচনা। বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে চোখে পড়ে প্রার্থীদের প্রচারণা ক্যাম্প। রাস্তায় রাস্তায় ছেয়ে গেছে পোস্টার। চেয়ারম্যান প্রার্থীদের পাশাপাশি পিছিয়ে নেই সাধারণ সদস্য ও মহিলা সদস্য প্রার্থীরাও। সমান তালে নিজ নিজ এলাকায় তারাও প্রচরানায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। তাদের পোস্টার-ব্যানারও কম নয়।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা বেশ আগ্রহী এই দুটি ইউনিয়নের নির্বাচন নিয়ে। তারা বলছেন ভোট সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ চাই। ভোটের বিষয়ে শতভাগ আশা ব্যক্ত করে মাখালডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, আমি দীর্ঘদিন থেকেই এই ইউনিয়নের মানুষের পাশেই ছিলাম, পাশেই আছি। বিপদে আপদে মানুষকে সাহায্য করি। এবারের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। জজয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী।

তিনি বলেন, সরকারি অনুদান সঠিক মানুষের কাছে পৌছানো, ইউনিয়নকে মাদকমুক্ত করা, বাল্য বিবাহ বন্ধ, খেলাধুলার দিকে তরুণদের আগ্রহী করে তোলা, সমাজ ভালো রাখার কাজ করার ইচ্ছা আছে। ভোটারদের একটায় দাবি, নির্বাচন যেন উৎসবমুখর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়।
শংকরচন্দ্র ইউনিয়নের সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক নেই। অনেকেই মনের আশা নিয়ে নির্বাচনে প্রার্থী হতে চাইছেন। আশা থাকারই কথা। আমি দীর্ঘ ১২ বছর চেয়ারম্যান ছিলাম। আমি অনেক ভালো কাজ করেছি। আমি নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। তিনি আরও বলেন, একজন জনপ্রতিনিধি, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমার অনেক কিছুই এখনো স্বপ্ন আছে। নির্বাচিত হলে ভেবে চিন্তে জনকল্যাণকর কাজগুলো আরও সামনের দিকে নিয়ে যাবো।
উল্লেখ্য, শংকরচন্দ্র ও মাখালডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে রির্টানিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করছেন সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার রাহুল রায়। ৯ মার্চ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। শংকরচন্দ্র ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা ১৯ হাজার ৫৬৯ জন। এর মধ্যে নারী ৯ হাজার ৮৫৯ ও পুরুষ ৯ হাজার ৭১০ জন। মাখালডাঙ্গা ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা ১৯ হাজার ৭৮৩জন। এর মধ্যে নারী ৯ হাজার ৬১৫ এবং পুরুষ ভোটার ১০ হাজার ১৬৫ জন।



কমেন্ট বক্স