ইপেপার । আজরবিবার, ২১ জুলাই ২০২৪, ৬ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শাকসবজিতে ক্ষতিকর কীটনাশক; সচেতন করতে হবে কৃষককে

সমীকরণ প্রতিবেদন
  • আপলোড টাইম : ১০:২৯:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪
  • / ২৯ বার পড়া হয়েছে

দেশে এখন নির্ভেজাল খাদ্যপণ্য পাওয়া দুষ্কর। বাজারে যত ধরনের খাদ্য পাওয়া যায় তার প্রায় সবই কোনো না কোনোভাবে দূষণের শিকার। অনেকে তাই সব ধরনের কৃত্রিম খাবার এড়িয়ে শাকসবজির ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। কিন্তু তাদের জন্যও দুঃসংবাদ হচ্ছে- সবজিতেও এখন বেপরোয়া বিষের ব্যবহার হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে এর ব্যবহার এতটা প্রকট যে, তা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। সম্প্রতি একটি গবেষণায় দেখা গেছে, সবজি সালাদ ও শুঁটকিতে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর কীটনাশক আশঙ্কাজনক হারে রয়েছে। নয়া দিগন্তের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য উঠে এসেছে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) এক গবেষণার তথ্য, বাজার থেকে আনা শাকসবজি, ফলমূল ও শুঁটকিতে রয়েছে ক্যান্সার ও আলসারের মতো জটিল রোগের উপাদান। বারির বিজ্ঞানীরা এই গবেষণায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন। পরীক্ষায় বেগুন, শিম, বরবটি, ফুলকপি ও লালশাকে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর বালাইনাশক পাওয়া গেছে। লেটুস, ধনেপাতা, কাঁচামরিচ, গাজর, ক্যাপসিকাম যা দিয়ে সালাদ তৈরি করা হয় তাতেও একই ধরনের ক্ষতিকর উপাদানা পাওয়া গেছে। লইট্টা, চেপা, কাঁচকি, মলা, চান্দা, ছুরি, সিদোল ও পাইশা শুঁটকি মাছে এর উপস্থিতি পেয়েছেন তারা। বালাইনাশক শরীরে প্রবেশ করলে নানাভাবে স্বাস্থ্যহানি ঘটাতে পারে। আলসার, ক্যান্সার, গ্যাস্ট্রিক, দৃষ্টিশক্তি লোপ, স্নায়বিক শক্তির অপচয় ও বন্ধ্যত্বের কারণ ঘটাতে পারে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, কৃষক যদি নিয়ম মেনে সবজি বাজারজাত করেন তা হলে বালাইনাশকের ভয়াবহ ক্ষতি থেকে ভোক্তা বাঁচতে পারেন। শাকসবজিতে বালাইনাশক ব্যবহারের পর একটি নির্দিষ্ট সময় পর ফসল তুলতে হয়। প্রতিটি সবজিতে এটি প্রয়োগের একটি নির্দিষ্ট সময় পর তা বাজারজাত করতে হয়। তবে এ ব্যাপারে কৃষকের জ্ঞান ও প্রশিক্ষণের অভাব রয়েছে। আবার যারা এর ক্ষতিকর দিকটি জানেন তারা মানেন না। তারা বালাইনাশকের ক্ষতি থেকে ভোক্তাদের বাঁচাবেন সে তাগিদ অনুভব করেন না। বরং দেশের অন্য সব খাতের মতো এখানে অতিরিক্ত লাভের রোগ ভর করেছে। পচন রোধ করে বাজারজাত করতে গিয়ে কৃষক এমন ক্ষতি করছেন ভোক্তার। এ অবস্থায় এমন কোনো সরকারি ব্যবস্থাপনা নেই যাতে বিষমুক্ত সবজি বাজারে নিশ্চিত করা হবে। ফলমূল ও শাকসবজি বিষমুক্ত করার একটি নিয়ম রয়েছে। বাজার থেকে এনে পানি দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। এরপর এক লিটার পানিতে ২০ গ্রাম খাবার লবণ মিশিয়ে তাতে ১৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখতে হবে। তারপর আবারো পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে খেলে ৬০-৮০ শতাংশ পর্যন্ত বিষমুক্ত করা যায়। এমন সবজি রান্না করা হলে বাকি বিষমুক্ত হওয়া যাবে বলে বিজ্ঞানীরা পরামর্শ দিচ্ছেন। কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে দুর্ভাগ্য হলো- এ দেশের কৃষিতে যথেষ্ট মনোযোগ কখনো দেয়া হয়নি। কৃষক যেমন সচেতনভাবে সময়ের সাথে গড়ে ওঠেননি; তেমনি সরকারও এগিয়ে আসেনি। তাই প্রয়োগ করা কীটনাশকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচতে হলে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। বিষযুক্ত সবজি ও ফলমূল বাজারে সরবরাহ করা নিষিদ্ধ করতে হবে। এ জন্য কৃষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনা দিতে হবে।

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

শাকসবজিতে ক্ষতিকর কীটনাশক; সচেতন করতে হবে কৃষককে

আপলোড টাইম : ১০:২৯:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪

দেশে এখন নির্ভেজাল খাদ্যপণ্য পাওয়া দুষ্কর। বাজারে যত ধরনের খাদ্য পাওয়া যায় তার প্রায় সবই কোনো না কোনোভাবে দূষণের শিকার। অনেকে তাই সব ধরনের কৃত্রিম খাবার এড়িয়ে শাকসবজির ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। কিন্তু তাদের জন্যও দুঃসংবাদ হচ্ছে- সবজিতেও এখন বেপরোয়া বিষের ব্যবহার হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে এর ব্যবহার এতটা প্রকট যে, তা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। সম্প্রতি একটি গবেষণায় দেখা গেছে, সবজি সালাদ ও শুঁটকিতে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর কীটনাশক আশঙ্কাজনক হারে রয়েছে। নয়া দিগন্তের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য উঠে এসেছে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) এক গবেষণার তথ্য, বাজার থেকে আনা শাকসবজি, ফলমূল ও শুঁটকিতে রয়েছে ক্যান্সার ও আলসারের মতো জটিল রোগের উপাদান। বারির বিজ্ঞানীরা এই গবেষণায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন। পরীক্ষায় বেগুন, শিম, বরবটি, ফুলকপি ও লালশাকে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর বালাইনাশক পাওয়া গেছে। লেটুস, ধনেপাতা, কাঁচামরিচ, গাজর, ক্যাপসিকাম যা দিয়ে সালাদ তৈরি করা হয় তাতেও একই ধরনের ক্ষতিকর উপাদানা পাওয়া গেছে। লইট্টা, চেপা, কাঁচকি, মলা, চান্দা, ছুরি, সিদোল ও পাইশা শুঁটকি মাছে এর উপস্থিতি পেয়েছেন তারা। বালাইনাশক শরীরে প্রবেশ করলে নানাভাবে স্বাস্থ্যহানি ঘটাতে পারে। আলসার, ক্যান্সার, গ্যাস্ট্রিক, দৃষ্টিশক্তি লোপ, স্নায়বিক শক্তির অপচয় ও বন্ধ্যত্বের কারণ ঘটাতে পারে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, কৃষক যদি নিয়ম মেনে সবজি বাজারজাত করেন তা হলে বালাইনাশকের ভয়াবহ ক্ষতি থেকে ভোক্তা বাঁচতে পারেন। শাকসবজিতে বালাইনাশক ব্যবহারের পর একটি নির্দিষ্ট সময় পর ফসল তুলতে হয়। প্রতিটি সবজিতে এটি প্রয়োগের একটি নির্দিষ্ট সময় পর তা বাজারজাত করতে হয়। তবে এ ব্যাপারে কৃষকের জ্ঞান ও প্রশিক্ষণের অভাব রয়েছে। আবার যারা এর ক্ষতিকর দিকটি জানেন তারা মানেন না। তারা বালাইনাশকের ক্ষতি থেকে ভোক্তাদের বাঁচাবেন সে তাগিদ অনুভব করেন না। বরং দেশের অন্য সব খাতের মতো এখানে অতিরিক্ত লাভের রোগ ভর করেছে। পচন রোধ করে বাজারজাত করতে গিয়ে কৃষক এমন ক্ষতি করছেন ভোক্তার। এ অবস্থায় এমন কোনো সরকারি ব্যবস্থাপনা নেই যাতে বিষমুক্ত সবজি বাজারে নিশ্চিত করা হবে। ফলমূল ও শাকসবজি বিষমুক্ত করার একটি নিয়ম রয়েছে। বাজার থেকে এনে পানি দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। এরপর এক লিটার পানিতে ২০ গ্রাম খাবার লবণ মিশিয়ে তাতে ১৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখতে হবে। তারপর আবারো পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে খেলে ৬০-৮০ শতাংশ পর্যন্ত বিষমুক্ত করা যায়। এমন সবজি রান্না করা হলে বাকি বিষমুক্ত হওয়া যাবে বলে বিজ্ঞানীরা পরামর্শ দিচ্ছেন। কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে দুর্ভাগ্য হলো- এ দেশের কৃষিতে যথেষ্ট মনোযোগ কখনো দেয়া হয়নি। কৃষক যেমন সচেতনভাবে সময়ের সাথে গড়ে ওঠেননি; তেমনি সরকারও এগিয়ে আসেনি। তাই প্রয়োগ করা কীটনাশকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচতে হলে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। বিষযুক্ত সবজি ও ফলমূল বাজারে সরবরাহ করা নিষিদ্ধ করতে হবে। এ জন্য কৃষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনা দিতে হবে।