ইপেপার । আজরবিবার, ২১ জুলাই ২০২৪, ৬ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ঝক্কি নিয়েই ঘরে ফিরছে মানুষ

সমীকরণ প্রতিবেদন
  • আপলোড টাইম : ১২:৫১:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪
  • / ৩৬ বার পড়া হয়েছে

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে সড়ক, রেল ও নৌপথে মানুষের ভিড় বাড়ছে। গতকাল ঢাকার বাইরের বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে যানবাহনের বাড়তি চাপে যানজট ও যান চলাচলে ছিল ধীরগতি। এ ছাড়া বিভিন্ন রুটের সেতুর টোলপ্লাজা ঘিরেও চাপ থাকায় দীর্ঘ জটলা লাগে পরিবহনের। এদিন সকাল থেকেই ঢাকার রেলওয়ে স্টেশন, বাস টার্মিনাল ও লঞ্চ ঘাটে যাত্রীদের চাপ ছিল। বাস টার্মিনালগুলোতে টিকিট সংকট ও বাড়তি ভাড়া নেয়ার অভিযোগও ছিল যাত্রীদের। এসব কারণে ঝক্কি নিয়েই ঢাকা ছাড়তে হয়েছে ঘরমুখো মানুষকে। তারপরও বাড়ি ফিরে প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ করার অপেক্ষায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। গতকাল সকাল থেকেই ঢাকা (কমলাপুর) রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীদের ভিড় ছিল। প্ল্যাটফর্ম থেকে একের পর এক ট্রেন ছেড়ে গেছে। অনেক যাত্রী আগেভাগেই এসে প্ল্যাটফর্মে বসে ট্রেনের অপেক্ষায় ছিলেন।
এদিন দু-একটি ছাড়া অধিকাংশ ট্রেনই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ছেড়েছে। এজন্য কমলাপুর থেকে যেসব যাত্রীরা ভ্রমণ করেছেন তারা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া এবার শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রি হওয়ায় কমলাপুর স্টেশনে এখনো পর্যন্ত বাড়তি কোনো চাপ পড়েনি। টিকিট ছাড়া স্টেশনের ভেতরে কেউ যেন প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া দাঁড়িয়ে যাওয়ার জন্য ১ থেকে ৬ নাম্বার কাউন্টারে স্ট্যান্ডিং টিকিট বিক্রি হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিমানবন্দর ও টঙ্গি স্টেশনে যাত্রীদের চাপ কিছুটা বেশি ছিল। কমলাপুর ও বিমানবন্দরে কড়াকটি থাকলেও টঙ্গী স্টেশন থেকে ট্রেনের ছাদেও ভ্রমণ করতে দেখা গেছে যাত্রীদের। ঈদের ছুটিতে রাজশাহী যাওয়ার জন্য কমলাপুর স্টেশনে অপেক্ষা করছিলেন সিয়াম আহমেদ। অনলাইনে সিল্ক সিটি ট্রেনের টিকিট কেটেছেন তিনি। সিয়াম বলেন, গত ঈদ থেকে কমলাপুরে ভোগান্তি পোহাতে হয় না। শুধু টিকিট পেলেই নির্বিঘ্নে যাওয়া যায়। স্টেশনে হুড়োহুড়ি নেই। পরিবেশটা সুন্দর। চট্টলা এক্সপ্রেসের যাত্রী সোহেল হোসেন বলেন, অনলাইনে টিকিট পাওয়া কঠিন। অনেক চাপ থাকে সার্ভারে। আমি ৩টা টিকিট পেয়েছি। তবে স্টেশনে অতিরিক্ত যাত্রীদের চাপ নেই তাই ভালো লাগছে। ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মাসুদ সারওয়ার বলেন, সকাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রতিটি ট্রেন নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে গেছে। এখন আর প্রথমদিনের মতো ট্রেনে কোনো বিলম্ব নেই।
এদিকে গতকালও সড়ক পথে ঘরমুখো হয়েছে মানুষ। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল, জনপদ মোড় ও যাত্রাবাড়ীর কাউন্টারগুলোতে যাত্রীদের চাপ ছিল অনেক। এসব জায়গায় শ্যামলী, এনা, হানিফ, একুশে এক্সপ্রেস, ইকোনোসহ বিভিন্ন এসি-ননএসি বাসে যাত্রীদের ভিড় ছিল। এ ছাড়া গাবতলী বাস টার্মিনালেও উত্তরাঞ্চলের যাত্রীরা যাত্রা করেছেন। গাবতলী বাস টার্মিনালের অধিকাংশ কাউন্টারের টিকিট অনলাইনে বিক্রি হয়ে গেছে। যারা অগ্রিম টিকিট কিনে রেখেছেন তারা নির্ধারিত সময়ে বাসে উঠতে পারছেন। কিন্তু অগ্রিম টিকিট না কেনা যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। তারা অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ারও অভিযোগ করছেন। শহিদুল নামের এক যাত্রী বলেন, কাউন্টারে আসার পর শুনি টিকিট নেই। সব নাকি অগ্রিম বিক্রি হয়ে গেছে। যেই বাসের টিকিট পাচ্ছি সেখানেও ভাড়া বেশি নেয়া হচ্ছে। সোহাগ পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার নয়ন বলেন, ঈদের আগেরদিন পর্যন্ত টিকিটগুলো অনলাইনেই বিক্রি হয়ে গেছে। এজন্য এখন যারা আসছেন তাদের টিকিট দিতে পারছি না। আরেক কাউন্টার ম্যানেজার বলেন, শুক্রবার দেখে যাত্রীর চাপ অনেক। ঈগের আগ মূহুর্ত পর্যন্ত চাপ থাকবে। সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম বলেন, ভোর থেকে ভিড় বেড়েছে। আশা করছি সামনে যাত্রী আরও বাড়বে। যারা অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে প্রশাসন।
সড়ক ও রেলপথের পাশাপাশি নৌপথেও বেড়েছে ঘরমুখো মানুষের ভিড়। কিছুটা মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়া থাকলেও মানুষ নৌপথে বাড়ি ফিরছেন। বিশেষ করে সদরঘাটে বরিশাল, চাঁদপুরের মানুষের ভিড় ছিল বেশি। প্রতিটি লঞ্চেই যাত্রীদের ভিড় ছিল। লঞ্চের কেবিন ও ডেকগুলোর চাহিদাও ছিল অনেক। হাঁকডাক করে লঞ্চে যাত্রী তুলতে ব্যস্ত সময় পার করেছেন শ্রমিকরা। যাত্রীদের চলাচলের সুবিধার্থে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ঈদ স্পেশাল সার্ভিসের আওতায় এবার সদরঘাট টার্মিনাল থেকে মোট ১৮০টি লঞ্চ ছাড়বে। এসব নৌপরিবহনের মধ্যে ঢাকা থেকে ছাড়বে ৯০টি, বিভিন্ন স্থান থেকে ৯০টি ঢাকায় আসবে।

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

ঝক্কি নিয়েই ঘরে ফিরছে মানুষ

আপলোড টাইম : ১২:৫১:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে সড়ক, রেল ও নৌপথে মানুষের ভিড় বাড়ছে। গতকাল ঢাকার বাইরের বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে যানবাহনের বাড়তি চাপে যানজট ও যান চলাচলে ছিল ধীরগতি। এ ছাড়া বিভিন্ন রুটের সেতুর টোলপ্লাজা ঘিরেও চাপ থাকায় দীর্ঘ জটলা লাগে পরিবহনের। এদিন সকাল থেকেই ঢাকার রেলওয়ে স্টেশন, বাস টার্মিনাল ও লঞ্চ ঘাটে যাত্রীদের চাপ ছিল। বাস টার্মিনালগুলোতে টিকিট সংকট ও বাড়তি ভাড়া নেয়ার অভিযোগও ছিল যাত্রীদের। এসব কারণে ঝক্কি নিয়েই ঢাকা ছাড়তে হয়েছে ঘরমুখো মানুষকে। তারপরও বাড়ি ফিরে প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ করার অপেক্ষায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। গতকাল সকাল থেকেই ঢাকা (কমলাপুর) রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীদের ভিড় ছিল। প্ল্যাটফর্ম থেকে একের পর এক ট্রেন ছেড়ে গেছে। অনেক যাত্রী আগেভাগেই এসে প্ল্যাটফর্মে বসে ট্রেনের অপেক্ষায় ছিলেন।
এদিন দু-একটি ছাড়া অধিকাংশ ট্রেনই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ছেড়েছে। এজন্য কমলাপুর থেকে যেসব যাত্রীরা ভ্রমণ করেছেন তারা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া এবার শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রি হওয়ায় কমলাপুর স্টেশনে এখনো পর্যন্ত বাড়তি কোনো চাপ পড়েনি। টিকিট ছাড়া স্টেশনের ভেতরে কেউ যেন প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া দাঁড়িয়ে যাওয়ার জন্য ১ থেকে ৬ নাম্বার কাউন্টারে স্ট্যান্ডিং টিকিট বিক্রি হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিমানবন্দর ও টঙ্গি স্টেশনে যাত্রীদের চাপ কিছুটা বেশি ছিল। কমলাপুর ও বিমানবন্দরে কড়াকটি থাকলেও টঙ্গী স্টেশন থেকে ট্রেনের ছাদেও ভ্রমণ করতে দেখা গেছে যাত্রীদের। ঈদের ছুটিতে রাজশাহী যাওয়ার জন্য কমলাপুর স্টেশনে অপেক্ষা করছিলেন সিয়াম আহমেদ। অনলাইনে সিল্ক সিটি ট্রেনের টিকিট কেটেছেন তিনি। সিয়াম বলেন, গত ঈদ থেকে কমলাপুরে ভোগান্তি পোহাতে হয় না। শুধু টিকিট পেলেই নির্বিঘ্নে যাওয়া যায়। স্টেশনে হুড়োহুড়ি নেই। পরিবেশটা সুন্দর। চট্টলা এক্সপ্রেসের যাত্রী সোহেল হোসেন বলেন, অনলাইনে টিকিট পাওয়া কঠিন। অনেক চাপ থাকে সার্ভারে। আমি ৩টা টিকিট পেয়েছি। তবে স্টেশনে অতিরিক্ত যাত্রীদের চাপ নেই তাই ভালো লাগছে। ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মাসুদ সারওয়ার বলেন, সকাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রতিটি ট্রেন নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে গেছে। এখন আর প্রথমদিনের মতো ট্রেনে কোনো বিলম্ব নেই।
এদিকে গতকালও সড়ক পথে ঘরমুখো হয়েছে মানুষ। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল, জনপদ মোড় ও যাত্রাবাড়ীর কাউন্টারগুলোতে যাত্রীদের চাপ ছিল অনেক। এসব জায়গায় শ্যামলী, এনা, হানিফ, একুশে এক্সপ্রেস, ইকোনোসহ বিভিন্ন এসি-ননএসি বাসে যাত্রীদের ভিড় ছিল। এ ছাড়া গাবতলী বাস টার্মিনালেও উত্তরাঞ্চলের যাত্রীরা যাত্রা করেছেন। গাবতলী বাস টার্মিনালের অধিকাংশ কাউন্টারের টিকিট অনলাইনে বিক্রি হয়ে গেছে। যারা অগ্রিম টিকিট কিনে রেখেছেন তারা নির্ধারিত সময়ে বাসে উঠতে পারছেন। কিন্তু অগ্রিম টিকিট না কেনা যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। তারা অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ারও অভিযোগ করছেন। শহিদুল নামের এক যাত্রী বলেন, কাউন্টারে আসার পর শুনি টিকিট নেই। সব নাকি অগ্রিম বিক্রি হয়ে গেছে। যেই বাসের টিকিট পাচ্ছি সেখানেও ভাড়া বেশি নেয়া হচ্ছে। সোহাগ পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার নয়ন বলেন, ঈদের আগেরদিন পর্যন্ত টিকিটগুলো অনলাইনেই বিক্রি হয়ে গেছে। এজন্য এখন যারা আসছেন তাদের টিকিট দিতে পারছি না। আরেক কাউন্টার ম্যানেজার বলেন, শুক্রবার দেখে যাত্রীর চাপ অনেক। ঈগের আগ মূহুর্ত পর্যন্ত চাপ থাকবে। সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম বলেন, ভোর থেকে ভিড় বেড়েছে। আশা করছি সামনে যাত্রী আরও বাড়বে। যারা অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে প্রশাসন।
সড়ক ও রেলপথের পাশাপাশি নৌপথেও বেড়েছে ঘরমুখো মানুষের ভিড়। কিছুটা মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়া থাকলেও মানুষ নৌপথে বাড়ি ফিরছেন। বিশেষ করে সদরঘাটে বরিশাল, চাঁদপুরের মানুষের ভিড় ছিল বেশি। প্রতিটি লঞ্চেই যাত্রীদের ভিড় ছিল। লঞ্চের কেবিন ও ডেকগুলোর চাহিদাও ছিল অনেক। হাঁকডাক করে লঞ্চে যাত্রী তুলতে ব্যস্ত সময় পার করেছেন শ্রমিকরা। যাত্রীদের চলাচলের সুবিধার্থে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ঈদ স্পেশাল সার্ভিসের আওতায় এবার সদরঘাট টার্মিনাল থেকে মোট ১৮০টি লঞ্চ ছাড়বে। এসব নৌপরিবহনের মধ্যে ঢাকা থেকে ছাড়বে ৯০টি, বিভিন্ন স্থান থেকে ৯০টি ঢাকায় আসবে।