ইপেপার । আজরবিবার, ২১ জুলাই ২০২৪, ৬ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু

সমীকরণ প্রতিবেদন
  • আপলোড টাইম : ০৩:০০:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪
  • / ২৯ বার পড়া হয়েছে

প্রাণোত্সারিত আবেগ ঘিরে রেখেছে আল্লাহর মেহমানদের। দেহ-মনে তাদের অপার্থিব রোমাঞ্চ, কণ্ঠে তালবিয়া। কেউ গাড়িতে, কেউ চলছেন পদব্রজে, সবার গন্তব্য মিনা। গতকাল রাতে মক্কা থেকে মিনার পথ ছিল লাখ লাখ মানুষের পদভারে মুখরিত। আকাশ-বাতাস মন্দ্রিত করেছে ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক…’ ধ্বনি। এই তাঁবুনগরী মিনা থেকেই সূচনা মুসলমানদের অন্যতম ফরজ ইবাদত পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা।

নজিরবিহীন নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সারা পৃথিবী থেকে আসা ২০ লাখের বেশি মুসলমান মসজিদুল হারামে (কাবা) গতকাল  বৃহস্পতিবার এশার নামাজ আদায় করেন। পরে মসজিদুল হারাম থেকে ইহরাম বাঁধা অবস্থায় মক্কা থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে মিনার উদ্দেশে যাত্রা করেন। মিনায় যাত্রার মধ্য দিয়ে হজ পালনের সূচনা হয়, যা শেষ হবে ১২ জিলহজ শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে। অন্যান্য হজযাত্রীদের মতো বাংলাদেশের ৮৫ হাজার ২৫৭ জন হজযাত্রীও মিনায় পৌঁছে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়সহ ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকবেন। মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর নামে গুঞ্জরিত হবে পুরো মিনা এলাকা। রাতে মিনায় অবস্থান করা সুন্নত। মিনায় ফজরের নামাজ আদায় করে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা পালনের জন্য ৯ জিলহজ ভোরে তারা যাবেন বিদায় হজের ঐতিহাসিক স্মৃতিবিজড়িত আরাফাত ময়দানে। সেলাইবিহীন শুভ্র এক কাপড়ে সূর্যাস্ত পর্যন্ত তারা সেখানে থাকবেন। মূলত ৯ জিলহজ আরাফাতের ময়দানে অবস্থানের দিনকেই হজের দিন বলা হয়।

সূর্যাস্তের পর আরাফাত থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে মুজদালিফায় গিয়ে রাতযাপন ও পাথর সংগ্রহ করবেন হজযাত্রীরা। ১০ জিলহজ ফজরের নামাজ আদায় করে মুজদালিফা থেকে আবার মিনায় ফিরবেন। ১০ জিলহজ মিনায় প্রত্যাবর্তনের পর হজযাত্রীদের পর্যায়ক্রমে চারটি কাজ সম্পন্ন করতে হয়। শয়তানকে (জামারা) পাথর নিক্ষেপ, আল্লাহর উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি (অনেকেই মিনায় না পারলে মক্কায় ফিরে গিয়ে পশু কোরবানি দেন), মাথা ন্যাড়া করা এবং তাওয়াফে জিয়ারত। মিনায় ফিরে ১১ ও ১২ জিলহজ অবস্থান করবেন ও প্রতিদিন তিনটি শয়তানকে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপ করবেন। সবশেষে কাবা শরিফকে বিদায়ি তাওয়াফের মধ্য দিয়ে শেষ হবে হজের আনুষ্ঠানিকতা।

চলতি বছর পুরো বিশ্বের ১৮০টির বেশি দেশের ২০ লাখের বেশি মানুষ হজ পালন করছেন। এদিকে এবার প্রথম বারের মতো বিশ্বের ৫০টি ভাষায় অনুবাদ করা হবে হজের খুতবা। এর মধ্যে বাংলা ভাষাও রয়েছে। বিশ্বের প্রায় সব প্রান্তের মানুষের কাছে হজ ও ইসলামের শান্তির বার্তা পৌঁছানোর লক্ষ্যে সৌদি সরকার এমন উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি গণমাধ্যম আরব নিউজ।

প্রসঙ্গত, ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের অন্যতম পবিত্র হজ। আর্থিক ও শারীরিকভাবে সামর্থ্যবান প্রতিটি মুসলিম নারী ও পুরুষের জন্য সারা জীবনে অন্তত এক বার হজ পালন করা ফরজ, অর্থাত্ অবশ্যই পালনীয়। মক্কার আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, হজের এই সময় মক্কার তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকতে পারে। আর্দ্রতা থাকবে ৮৫ শতাংশ। আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে।

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু

আপলোড টাইম : ০৩:০০:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪

প্রাণোত্সারিত আবেগ ঘিরে রেখেছে আল্লাহর মেহমানদের। দেহ-মনে তাদের অপার্থিব রোমাঞ্চ, কণ্ঠে তালবিয়া। কেউ গাড়িতে, কেউ চলছেন পদব্রজে, সবার গন্তব্য মিনা। গতকাল রাতে মক্কা থেকে মিনার পথ ছিল লাখ লাখ মানুষের পদভারে মুখরিত। আকাশ-বাতাস মন্দ্রিত করেছে ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক…’ ধ্বনি। এই তাঁবুনগরী মিনা থেকেই সূচনা মুসলমানদের অন্যতম ফরজ ইবাদত পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা।

নজিরবিহীন নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সারা পৃথিবী থেকে আসা ২০ লাখের বেশি মুসলমান মসজিদুল হারামে (কাবা) গতকাল  বৃহস্পতিবার এশার নামাজ আদায় করেন। পরে মসজিদুল হারাম থেকে ইহরাম বাঁধা অবস্থায় মক্কা থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে মিনার উদ্দেশে যাত্রা করেন। মিনায় যাত্রার মধ্য দিয়ে হজ পালনের সূচনা হয়, যা শেষ হবে ১২ জিলহজ শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে। অন্যান্য হজযাত্রীদের মতো বাংলাদেশের ৮৫ হাজার ২৫৭ জন হজযাত্রীও মিনায় পৌঁছে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়সহ ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকবেন। মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর নামে গুঞ্জরিত হবে পুরো মিনা এলাকা। রাতে মিনায় অবস্থান করা সুন্নত। মিনায় ফজরের নামাজ আদায় করে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা পালনের জন্য ৯ জিলহজ ভোরে তারা যাবেন বিদায় হজের ঐতিহাসিক স্মৃতিবিজড়িত আরাফাত ময়দানে। সেলাইবিহীন শুভ্র এক কাপড়ে সূর্যাস্ত পর্যন্ত তারা সেখানে থাকবেন। মূলত ৯ জিলহজ আরাফাতের ময়দানে অবস্থানের দিনকেই হজের দিন বলা হয়।

সূর্যাস্তের পর আরাফাত থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে মুজদালিফায় গিয়ে রাতযাপন ও পাথর সংগ্রহ করবেন হজযাত্রীরা। ১০ জিলহজ ফজরের নামাজ আদায় করে মুজদালিফা থেকে আবার মিনায় ফিরবেন। ১০ জিলহজ মিনায় প্রত্যাবর্তনের পর হজযাত্রীদের পর্যায়ক্রমে চারটি কাজ সম্পন্ন করতে হয়। শয়তানকে (জামারা) পাথর নিক্ষেপ, আল্লাহর উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি (অনেকেই মিনায় না পারলে মক্কায় ফিরে গিয়ে পশু কোরবানি দেন), মাথা ন্যাড়া করা এবং তাওয়াফে জিয়ারত। মিনায় ফিরে ১১ ও ১২ জিলহজ অবস্থান করবেন ও প্রতিদিন তিনটি শয়তানকে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপ করবেন। সবশেষে কাবা শরিফকে বিদায়ি তাওয়াফের মধ্য দিয়ে শেষ হবে হজের আনুষ্ঠানিকতা।

চলতি বছর পুরো বিশ্বের ১৮০টির বেশি দেশের ২০ লাখের বেশি মানুষ হজ পালন করছেন। এদিকে এবার প্রথম বারের মতো বিশ্বের ৫০টি ভাষায় অনুবাদ করা হবে হজের খুতবা। এর মধ্যে বাংলা ভাষাও রয়েছে। বিশ্বের প্রায় সব প্রান্তের মানুষের কাছে হজ ও ইসলামের শান্তির বার্তা পৌঁছানোর লক্ষ্যে সৌদি সরকার এমন উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি গণমাধ্যম আরব নিউজ।

প্রসঙ্গত, ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের অন্যতম পবিত্র হজ। আর্থিক ও শারীরিকভাবে সামর্থ্যবান প্রতিটি মুসলিম নারী ও পুরুষের জন্য সারা জীবনে অন্তত এক বার হজ পালন করা ফরজ, অর্থাত্ অবশ্যই পালনীয়। মক্কার আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, হজের এই সময় মক্কার তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকতে পারে। আর্দ্রতা থাকবে ৮৫ শতাংশ। আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে।