ইপেপার । আজরবিবার, ২১ জুলাই ২০২৪, ৬ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ঝিনাইদহে কোরবানির জন্য প্রস্তুত প্রায় দুই লক্ষাধিক গবাদিপশু

জেলার চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত থাকবে ৭৪ হাজার পশু

আসিফ কাজল, ঝিনাইদহ:
  • আপলোড টাইম : ০২:৫১:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪
  • / ৩০ বার পড়া হয়েছে

ঝিনাইদহে কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে দুই লাখ ১৮ হাজার গবাদিপশু। এবারের কোরবানিতে জেলায় কোনো পশু সংকট নেই, বরং চাহিদার থেকে ৭৪ হাজার ৬৯১টি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। খামারিরা দামও ভালো পাচ্ছেন। আবার ক্রেতাদের কাছেও দাম রয়েছে নাগালের মধ্যে। ফলে এ বছর কোরবানির বাজার বেশ জমে উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ঝিনাইদহ শহরের গরুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, ছোট বা মাঝারি সাইজের গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। মানুষ ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকার মধ্যে গরু কিনতে সাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। কুমড়াবাড়িয়া গ্রামের আব্দুর রহমান নামে এক গরু বিক্রেতা জানান, বড় সাইজের গরু সব ঢাকায় চলে গেছে। আর ঝিনাইদহের বিভিন্ন হাটে বাজারে এখন যা বিক্রি হচ্ছে, সবই ছোট ও মাঝারি সাইজের গরু।

ঝিনাইদহ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ঝিনাইদহ জেলার ৬ উপজেলায় ২ লাখ ১৮ হাজার ৪৩১টি পশু কোরবানির জন্য তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৭৭ হাজার ৯০৭টি ষাঁড়, ১৫ হাজার ৩০৬টি বলদ, ৮ হাজার ৬৩৫টি গাভী, ৩ হাজার ১১৩টি মহিষ, এক লাখ ৩ হাজার ৩৪টি ছাগল ও ১০ হাজার ৪৩৬টি ভেড়া। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার দপ্তরের দেয়া তথ্যমতে, কোরবানির পরও সারা জেলায় ৭৪ হাজারের বেশি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। জেলার ২৩ হাজার ১২৬ জন খামারি কোরবানির এই পশু প্রতিপালনে ভূমিকা পালন করেন। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সুব্রত কুমার ব্যানার্জী জানান, নিরাপদ গবাদিপশু মাংস উৎপাদনে বরাবরই ঝিনাইদহ এগিয়ে আছে। এই জেলার ২৩ হাজারেরও বেশি খামারিকে প্রতিনিয়ত পরামর্শ ও চিকিৎসা সহায়তা দিয়ে আসা হচ্ছে। ফলে তারা এ বছর চাহিদার থেকেও ৭৪ হাজার বেশি পশু পালন করেছে।

তিনি আরও জানান, ঝিনাইদহে জেলায় কোরবানি পশুর চাহিদা রয়েছে এক লাখ ৪৩ হাজার ৭৪০টি। কিন্তু জেলায় খামারিরা দুই লাখ ১৮ হাজার ৪৩১টি পশু প্রস্তুত করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, খামারিরা তাদের খামারে প্রতিপালিত প্রায় ৯০ ভাগ পশু ইতিমধ্যে ঢাকার বাজার ধরার জন্য নিয়ে গেছে। শুনছি তারা দামও ভালো পাচ্ছেন।

ঝিনাইদহ শহরের নতুন কোর্টপাড়ার মহিউদ্দীন নামে এক খামারি জানান, সাধারণত ঝিনাইদহে অন্য জেলা থেকে কোরবানির গরু-ছাগল আসে না। এ জন্য তারা নিজেরাই খামারে গরু ও ছাগল প্রস্তুত করেন। তিনি এবার তিনটি বড় গরু ও দুটি ছাগল পালন করেছেন বলেও জানান। হরিণাকুণ্ডুর হাফিজুর রহমান জানান, করোনার কারণে অনেক মানুষ ব্যবসা ও চাকরি হারিয়ে পশুপালন শুরু করে বেশ সফলতা পেয়েছেন। তিনিও চারটি পশু কোরবানির বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে গেছেন। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গান্না এলাকার কেপি হাসান জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার ঝিনাইদহ পশুর হাটে ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকার মধ্যে যে সব গরু ছিল, সবই বিক্রি হয়ে গেছে। মানুষ এই দামে কোরবানির গরু কেনার সাধ্য দেখছেন।

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

ঝিনাইদহে কোরবানির জন্য প্রস্তুত প্রায় দুই লক্ষাধিক গবাদিপশু

জেলার চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত থাকবে ৭৪ হাজার পশু

আপলোড টাইম : ০২:৫১:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪

ঝিনাইদহে কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে দুই লাখ ১৮ হাজার গবাদিপশু। এবারের কোরবানিতে জেলায় কোনো পশু সংকট নেই, বরং চাহিদার থেকে ৭৪ হাজার ৬৯১টি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। খামারিরা দামও ভালো পাচ্ছেন। আবার ক্রেতাদের কাছেও দাম রয়েছে নাগালের মধ্যে। ফলে এ বছর কোরবানির বাজার বেশ জমে উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ঝিনাইদহ শহরের গরুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, ছোট বা মাঝারি সাইজের গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। মানুষ ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকার মধ্যে গরু কিনতে সাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। কুমড়াবাড়িয়া গ্রামের আব্দুর রহমান নামে এক গরু বিক্রেতা জানান, বড় সাইজের গরু সব ঢাকায় চলে গেছে। আর ঝিনাইদহের বিভিন্ন হাটে বাজারে এখন যা বিক্রি হচ্ছে, সবই ছোট ও মাঝারি সাইজের গরু।

ঝিনাইদহ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ঝিনাইদহ জেলার ৬ উপজেলায় ২ লাখ ১৮ হাজার ৪৩১টি পশু কোরবানির জন্য তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৭৭ হাজার ৯০৭টি ষাঁড়, ১৫ হাজার ৩০৬টি বলদ, ৮ হাজার ৬৩৫টি গাভী, ৩ হাজার ১১৩টি মহিষ, এক লাখ ৩ হাজার ৩৪টি ছাগল ও ১০ হাজার ৪৩৬টি ভেড়া। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার দপ্তরের দেয়া তথ্যমতে, কোরবানির পরও সারা জেলায় ৭৪ হাজারের বেশি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। জেলার ২৩ হাজার ১২৬ জন খামারি কোরবানির এই পশু প্রতিপালনে ভূমিকা পালন করেন। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সুব্রত কুমার ব্যানার্জী জানান, নিরাপদ গবাদিপশু মাংস উৎপাদনে বরাবরই ঝিনাইদহ এগিয়ে আছে। এই জেলার ২৩ হাজারেরও বেশি খামারিকে প্রতিনিয়ত পরামর্শ ও চিকিৎসা সহায়তা দিয়ে আসা হচ্ছে। ফলে তারা এ বছর চাহিদার থেকেও ৭৪ হাজার বেশি পশু পালন করেছে।

তিনি আরও জানান, ঝিনাইদহে জেলায় কোরবানি পশুর চাহিদা রয়েছে এক লাখ ৪৩ হাজার ৭৪০টি। কিন্তু জেলায় খামারিরা দুই লাখ ১৮ হাজার ৪৩১টি পশু প্রস্তুত করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, খামারিরা তাদের খামারে প্রতিপালিত প্রায় ৯০ ভাগ পশু ইতিমধ্যে ঢাকার বাজার ধরার জন্য নিয়ে গেছে। শুনছি তারা দামও ভালো পাচ্ছেন।

ঝিনাইদহ শহরের নতুন কোর্টপাড়ার মহিউদ্দীন নামে এক খামারি জানান, সাধারণত ঝিনাইদহে অন্য জেলা থেকে কোরবানির গরু-ছাগল আসে না। এ জন্য তারা নিজেরাই খামারে গরু ও ছাগল প্রস্তুত করেন। তিনি এবার তিনটি বড় গরু ও দুটি ছাগল পালন করেছেন বলেও জানান। হরিণাকুণ্ডুর হাফিজুর রহমান জানান, করোনার কারণে অনেক মানুষ ব্যবসা ও চাকরি হারিয়ে পশুপালন শুরু করে বেশ সফলতা পেয়েছেন। তিনিও চারটি পশু কোরবানির বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে গেছেন। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গান্না এলাকার কেপি হাসান জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার ঝিনাইদহ পশুর হাটে ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকার মধ্যে যে সব গরু ছিল, সবই বিক্রি হয়ে গেছে। মানুষ এই দামে কোরবানির গরু কেনার সাধ্য দেখছেন।