ইপেপার । আজশনিবার, ২০ জুলাই ২০২৪, ৫ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নবায়নযোগ্য জ্বালানি আশা জাগাচ্ছে ; সরকারের আগ্রহ নেই কেন

সমীকরণ প্রতিবেদন
  • আপলোড টাইম : ০২:৪২:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪
  • / ৩৪ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশে বিদ্যুৎ নিয়ে তেলেসমাতি কম হচ্ছে না। বিদ্যুৎ উৎপাদন বোর্ডের হিসাবে, দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৬ হাজার মেগাওয়াট। চাহিদা এর প্রায় অর্ধেক- ১৩-১৭ হাজার মেগাওয়াট। দ্বিগুণ ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও লোডশেডিং করতে হচ্ছে, এমন দ্বিতীয় কোনো দেশ পৃথিবীতে পাওয়া দুষ্কর। বিষয়টি কোনোভাবে বোধগম্য নয় যে, বিপুল সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কেন চাহিদার জোগান দেয়া যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ- সরকারের বিদ্যুৎনীতি টেকসই নয়। সরকার শুধু কিছু লোকের পকেট ভরতে বিদ্যুৎ খাত ব্যবহার করেছে। এর মাশুল দিচ্ছে জনগণ। এমনকি সরকার অত্যন্ত সম্ভাবনাময় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনেও উৎসাহী নয়। আগ্রহী হলে গত ১৫ বছরে দেশে প্রকৃতিনির্ভর সবুজ জ্বালানি-ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারত। গত বুধবার রাজধানীতে সৌরশক্তির সম্ভাবনা নিয়ে একটি গবেষণার ফল উপস্থাপন করা হয়। ওই গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- খাসজমি, জলাশয় ও বহুতল ভবনের ছাদ ব্যবহার করে দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানো সম্ভব। শুধু ঢাকা শহরের ছাদ এ কাজে ব্যবহার হলে পুরো দেশের বিদ্যুতের চাহিদার বড় অংশ জোগান দেয়া সম্ভব। এ ক্ষেত্রে ঢাকা বিভাগের ১০ শতাংশ ছাদ ব্যবহার করে ১০ হাজার ৭৭৯ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকা বিভাগে মোট খাসজমি রয়েছে তিন হাজার ৩৮৮ একর। এ বিপুল অবরাদ্দকৃত জমি সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করা যায়। এতে এক হাজার ৩৬৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে। শুধু এ বিদ্যুৎ দিয়ে ঢাকা বিভাগের ২৬ শতাংশ চাহিদা পূরণ করা যাবে। জলাশয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা আরো বেশি। ঢাকা বিভাগে এক লাখ ৪৮ হাজার ২৩৫ একর জলাশয় রয়েছে। এর মধ্যে ১০ শতাংশ জলাশয় ব্যবহার করে পাঁচ হাজার ৯৮৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। ঢাকা বিভাগে বিদ্যুতের বর্তমান চাহিদা এর চেয়ে কম পাঁচ হাজার ২৭৬ মেগাওয়াট। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার বাড়ানোর একটি বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতি রয়েছে। উষ্ণতা কমাতে সব দেশ এ প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। বাংলাদেশও এমন অঙ্গীকারের বাইরে নয়। বর্তমানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা মাত্র ৩ শতাংশ। বোঝা যাচ্ছে, আমরা বেশ পিছিয়ে। গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে অগ্রসর হলে আমরা সহজে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সক্ষমতা তৈরি করতে পারব। তাদের মতে, ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের শতভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল হওয়া সম্ভব।
বাংলাদেশে বিদ্যুৎ খাত অনিয়ম অব্যবস্থাপনা এবং খেয়ালখুশিতে চলেছে। এখন দেশে ১৭০টি বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে। এর মধ্যে তিন ভাগের কম মাত্র ৫৭টি পূর্ণ উৎপাদনে রয়েছে। বেশির ভাগ কেন্দ্র অলস বসিয়ে রেখে বিপুল ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ করা হচ্ছে। এ দিকে সাধারণ মানুষকে লোডশেডিং ভোগ করে বিদ্যুতের বাড়তি দাম গুনতে হচ্ছে। তেল-গ্যাসের ওপর নির্ভর করে ব্যাঙের ছাতার মতো বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। এর সরবরাহ নিয়মিত রাখা যাবে কি না তা ভাবেনি সরকার। এ অপরিণামদর্শী কর্মের ফল ভোগ করতে হচ্ছে পুরো জাতিকে। অথচ সরকার যদি নবায়নযোগ্য জ্বালানি অবকাঠামো দেশব্যাপী গড়ে তুলতো তাহলে দুই ভাবে লাভবান হতো জাতি। প্রথমত, এ অব্যবস্থাপনার শিকার হয়ে বাড়তি অর্থ খরচ করতে হতো না। অন্য দিকে পরিবেশের স্বার্থে এটি হতো ইতিবাচক।

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

নবায়নযোগ্য জ্বালানি আশা জাগাচ্ছে ; সরকারের আগ্রহ নেই কেন

আপলোড টাইম : ০২:৪২:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪

বাংলাদেশে বিদ্যুৎ নিয়ে তেলেসমাতি কম হচ্ছে না। বিদ্যুৎ উৎপাদন বোর্ডের হিসাবে, দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৬ হাজার মেগাওয়াট। চাহিদা এর প্রায় অর্ধেক- ১৩-১৭ হাজার মেগাওয়াট। দ্বিগুণ ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও লোডশেডিং করতে হচ্ছে, এমন দ্বিতীয় কোনো দেশ পৃথিবীতে পাওয়া দুষ্কর। বিষয়টি কোনোভাবে বোধগম্য নয় যে, বিপুল সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কেন চাহিদার জোগান দেয়া যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ- সরকারের বিদ্যুৎনীতি টেকসই নয়। সরকার শুধু কিছু লোকের পকেট ভরতে বিদ্যুৎ খাত ব্যবহার করেছে। এর মাশুল দিচ্ছে জনগণ। এমনকি সরকার অত্যন্ত সম্ভাবনাময় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনেও উৎসাহী নয়। আগ্রহী হলে গত ১৫ বছরে দেশে প্রকৃতিনির্ভর সবুজ জ্বালানি-ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারত। গত বুধবার রাজধানীতে সৌরশক্তির সম্ভাবনা নিয়ে একটি গবেষণার ফল উপস্থাপন করা হয়। ওই গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- খাসজমি, জলাশয় ও বহুতল ভবনের ছাদ ব্যবহার করে দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানো সম্ভব। শুধু ঢাকা শহরের ছাদ এ কাজে ব্যবহার হলে পুরো দেশের বিদ্যুতের চাহিদার বড় অংশ জোগান দেয়া সম্ভব। এ ক্ষেত্রে ঢাকা বিভাগের ১০ শতাংশ ছাদ ব্যবহার করে ১০ হাজার ৭৭৯ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকা বিভাগে মোট খাসজমি রয়েছে তিন হাজার ৩৮৮ একর। এ বিপুল অবরাদ্দকৃত জমি সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করা যায়। এতে এক হাজার ৩৬৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে। শুধু এ বিদ্যুৎ দিয়ে ঢাকা বিভাগের ২৬ শতাংশ চাহিদা পূরণ করা যাবে। জলাশয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা আরো বেশি। ঢাকা বিভাগে এক লাখ ৪৮ হাজার ২৩৫ একর জলাশয় রয়েছে। এর মধ্যে ১০ শতাংশ জলাশয় ব্যবহার করে পাঁচ হাজার ৯৮৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। ঢাকা বিভাগে বিদ্যুতের বর্তমান চাহিদা এর চেয়ে কম পাঁচ হাজার ২৭৬ মেগাওয়াট। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার বাড়ানোর একটি বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতি রয়েছে। উষ্ণতা কমাতে সব দেশ এ প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। বাংলাদেশও এমন অঙ্গীকারের বাইরে নয়। বর্তমানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা মাত্র ৩ শতাংশ। বোঝা যাচ্ছে, আমরা বেশ পিছিয়ে। গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে অগ্রসর হলে আমরা সহজে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সক্ষমতা তৈরি করতে পারব। তাদের মতে, ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের শতভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল হওয়া সম্ভব।
বাংলাদেশে বিদ্যুৎ খাত অনিয়ম অব্যবস্থাপনা এবং খেয়ালখুশিতে চলেছে। এখন দেশে ১৭০টি বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে। এর মধ্যে তিন ভাগের কম মাত্র ৫৭টি পূর্ণ উৎপাদনে রয়েছে। বেশির ভাগ কেন্দ্র অলস বসিয়ে রেখে বিপুল ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ করা হচ্ছে। এ দিকে সাধারণ মানুষকে লোডশেডিং ভোগ করে বিদ্যুতের বাড়তি দাম গুনতে হচ্ছে। তেল-গ্যাসের ওপর নির্ভর করে ব্যাঙের ছাতার মতো বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। এর সরবরাহ নিয়মিত রাখা যাবে কি না তা ভাবেনি সরকার। এ অপরিণামদর্শী কর্মের ফল ভোগ করতে হচ্ছে পুরো জাতিকে। অথচ সরকার যদি নবায়নযোগ্য জ্বালানি অবকাঠামো দেশব্যাপী গড়ে তুলতো তাহলে দুই ভাবে লাভবান হতো জাতি। প্রথমত, এ অব্যবস্থাপনার শিকার হয়ে বাড়তি অর্থ খরচ করতে হতো না। অন্য দিকে পরিবেশের স্বার্থে এটি হতো ইতিবাচক।