ইপেপার । আজরবিবার, ২১ জুলাই ২০২৪, ৬ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

এমপি আনার হত্যাকাণ্ডে নজরদারিতে দেশের ৬ মডেল ও নায়িকা

হাইকমান্ডের গ্রিন সিগন্যাল পেয়ে আটক করা হয় মিণ্টুকে

ঝিনাইদহ অফিস:
  • আপলোড টাইম : ০৮:২৫:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪
  • / ৩১ বার পড়া হয়েছে

সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যার ঘটনায় নজরদারিতে রয়েছেন ছয় চিত্রনায়িকা। তাদের শিগগিরই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানা গেছে। কলকাতার পুলিশের কাছে দেশের গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন যে, বাংলাদেশের ছয়জন নায়িকা ও মডেলকে কলকাতার পঞ্চলা ও গৌরবতীর ফ্ল্যাটে শাহীন নিয়ে গিয়েছিলেন। এদের মধ্যে আনার এক চিত্রনায়িকার সঙ্গে সময়ও কাটিয়েছিলেন। ওই নায়িকা কলকাতার একাধিক ছবিতে অভিনয় করে সুনামও কুড়িয়েছেন। বয়স ৩০-এর কোটায় বাংলাদেশি ওই নায়িকা চলনে-বলনে স্মার্ট বলে পরিচিত।

আনার হত্যার ঘটনায় এই ছয় মডেল ও নায়িকাকে খুব শিগগিরই জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সূত্র জানিয়েছে। গত মঙ্গলবার বিকেলে এমপি আনার হত্যার ঘটনায় ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিণ্টুকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ঢাকার ধানমন্ডি এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। আনার হত্যার ঘটনায় জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক কাজী কামাল গিয়াস আহমেদ বাবু ওরফে গ্যাস বাবু গ্রেপ্তার হওয়ার পর এ খুনের সঙ্গে ঝিনাইদহের ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের জড়িত হওয়ার বিষয়টি সামনে আসতে শুরু করে। এরপরই গোয়েন্দারা জেলার নেতাদের নজরদারিতে রাখা শুরু করেন। খুনের মোটিভ জানতে সংগ্রহ করে সবার বায়োডাটা।

এ হত্যাকাণ্ডে মাঠপর্যায়ে তদন্তের শুরুতেই সাইদুল করিম মিণ্টুর সম্পৃক্ততার নাম আসে। তখন মাঠপর্যায়ে আরও তদন্ত করে ডিবি পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা বিষয়টি হাইকমান্ডকে অবহিত করে। তাকে আটকের বিষয়ে গ্রিন সিগন্যাল পাওয়ার পর গতকাল তাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তার গ্যাস বাবু পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিণ্টুর নাম বলেছিলেন। গ্যাস বাবু আওয়ামী লীগ নেতা মিণ্টুর দক্ষিণহস্ত হিসেবে পরিচিত। নৃশংস এই খুনের অন্যতম হোতা সিয়াম এখন ভারতের সিআইডির হেফাজতে রয়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গ সিআইডি বাংলাদেশের ডিবি পুলিশকে কিছু তথ্য দিয়েছে। সেই তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই কারা হচ্ছে। শিমুল ভূঁইয়া তার জবানবন্দিতে গ্যাস বাবুর কথা বলেন। গ্যাস বাবু আবার ঝিনাইদহ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিণ্টু এ খুনের সঙ্গে জড়িত হওয়ার কথা মামলার তদন্ত কর্মকর্তাদের জানান।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওয়ারী বিভাগের ডিসি আব্দুল আহাদ সাংবাদিকদের বলেন, আনার হত্যাকাণ্ডে যারাই জড়িত হোক না কেন সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। আমরা তদন্ত অব্যাহত রেখেছি। তদন্তের সঙ্গে জড়িত একাধিক কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, গ্যাস বাবু গ্রেপ্তারের পর মিণ্টুর গতিবিধি ভালো ছিল না। প্রযূক্তির মাধ্যমে তাকে ডিবি ট্র্যাকিং করা শুরু করলে তিনি ঢাকা, ঝিনাইদহ, খুলনায় অবস্থান করা শুরু করেন। আটকের আগে তার মধ্যে অস্থিরতা কাজ করে।

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

এমপি আনার হত্যাকাণ্ডে নজরদারিতে দেশের ৬ মডেল ও নায়িকা

হাইকমান্ডের গ্রিন সিগন্যাল পেয়ে আটক করা হয় মিণ্টুকে

আপলোড টাইম : ০৮:২৫:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪

সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যার ঘটনায় নজরদারিতে রয়েছেন ছয় চিত্রনায়িকা। তাদের শিগগিরই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানা গেছে। কলকাতার পুলিশের কাছে দেশের গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন যে, বাংলাদেশের ছয়জন নায়িকা ও মডেলকে কলকাতার পঞ্চলা ও গৌরবতীর ফ্ল্যাটে শাহীন নিয়ে গিয়েছিলেন। এদের মধ্যে আনার এক চিত্রনায়িকার সঙ্গে সময়ও কাটিয়েছিলেন। ওই নায়িকা কলকাতার একাধিক ছবিতে অভিনয় করে সুনামও কুড়িয়েছেন। বয়স ৩০-এর কোটায় বাংলাদেশি ওই নায়িকা চলনে-বলনে স্মার্ট বলে পরিচিত।

আনার হত্যার ঘটনায় এই ছয় মডেল ও নায়িকাকে খুব শিগগিরই জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সূত্র জানিয়েছে। গত মঙ্গলবার বিকেলে এমপি আনার হত্যার ঘটনায় ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিণ্টুকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ঢাকার ধানমন্ডি এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। আনার হত্যার ঘটনায় জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক কাজী কামাল গিয়াস আহমেদ বাবু ওরফে গ্যাস বাবু গ্রেপ্তার হওয়ার পর এ খুনের সঙ্গে ঝিনাইদহের ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের জড়িত হওয়ার বিষয়টি সামনে আসতে শুরু করে। এরপরই গোয়েন্দারা জেলার নেতাদের নজরদারিতে রাখা শুরু করেন। খুনের মোটিভ জানতে সংগ্রহ করে সবার বায়োডাটা।

এ হত্যাকাণ্ডে মাঠপর্যায়ে তদন্তের শুরুতেই সাইদুল করিম মিণ্টুর সম্পৃক্ততার নাম আসে। তখন মাঠপর্যায়ে আরও তদন্ত করে ডিবি পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা বিষয়টি হাইকমান্ডকে অবহিত করে। তাকে আটকের বিষয়ে গ্রিন সিগন্যাল পাওয়ার পর গতকাল তাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তার গ্যাস বাবু পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিণ্টুর নাম বলেছিলেন। গ্যাস বাবু আওয়ামী লীগ নেতা মিণ্টুর দক্ষিণহস্ত হিসেবে পরিচিত। নৃশংস এই খুনের অন্যতম হোতা সিয়াম এখন ভারতের সিআইডির হেফাজতে রয়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গ সিআইডি বাংলাদেশের ডিবি পুলিশকে কিছু তথ্য দিয়েছে। সেই তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই কারা হচ্ছে। শিমুল ভূঁইয়া তার জবানবন্দিতে গ্যাস বাবুর কথা বলেন। গ্যাস বাবু আবার ঝিনাইদহ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিণ্টু এ খুনের সঙ্গে জড়িত হওয়ার কথা মামলার তদন্ত কর্মকর্তাদের জানান।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওয়ারী বিভাগের ডিসি আব্দুল আহাদ সাংবাদিকদের বলেন, আনার হত্যাকাণ্ডে যারাই জড়িত হোক না কেন সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। আমরা তদন্ত অব্যাহত রেখেছি। তদন্তের সঙ্গে জড়িত একাধিক কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, গ্যাস বাবু গ্রেপ্তারের পর মিণ্টুর গতিবিধি ভালো ছিল না। প্রযূক্তির মাধ্যমে তাকে ডিবি ট্র্যাকিং করা শুরু করলে তিনি ঢাকা, ঝিনাইদহ, খুলনায় অবস্থান করা শুরু করেন। আটকের আগে তার মধ্যে অস্থিরতা কাজ করে।