ইপেপার । আজরবিবার, ২১ জুলাই ২০২৪, ৬ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে অগ্রাধিকার

সমীকরণ প্রতিবেদন
  • আপলোড টাইম : ০৯:২৪:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ জুন ২০২৪
  • / ১৬ বার পড়া হয়েছে

চলতি বছরের শেষ নাগাদ মূল্যস্ফীতি কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার জানিয়ে এ সময় অর্থমন্ত্রী বলেন, মূল্যস্ফীতি এখনো আমাদের দেশে ৯ শতাংশের ঘরে রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে দেশে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় আসে তখন মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের কাছাকাছি ছিল, ২০১০ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১০ শতাংশে। কিন্তু সরকার দুই বছরের মধ্যে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। পরবর্তী এক দশক মূল্যস্ফীতি ৫ থেকে ৬ শতাংশের মধ্যে ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে গতকাল শুক্রবার স্বাগতিক বক্তব্যে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। বেলা ৩টায় রাজধানীর আব্দুল গনি রোডের ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন অর্থ সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন- স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, পরিকল্পনামন্ত্রী মেজর জেনারেল (অব) আব্দুস সালাম, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমান, কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুস শহীদ, শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু, অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়শা খান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম প্রমুখ।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আপনারা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন- বাজেটের আকার আমরা কমিয়ে রেখেছি। যাতে মূল্যস্ফীতির ওপর কোনো চাপ না পড়ে। মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক প্রভাব অর্থনীতিতে পড়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। মূল্যস্ফীতি এখনো ৯ শতাংশের ঘরে রয়েছে। পৃথিবীর কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার বাড়িয়েছে। যার চাপ ডলারে পড়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার অবমূল্যায়ন মূল্যস্ফীতির বড় কারণ। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সংকোচনমূলক পদক্ষেপ আরো কিছুদিন চলবে। এর মধ্যেও প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশে উন্নীত করার চেষ্টা করব, যেটা এখন চলতি অর্থবছরে ৫ দশমিক ৮২ শতাংশ হিসাবে প্রাক্কলন করা হচ্ছে। মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে ধরে রাখার চেষ্টা করব। ২০২৬ সালে ‘এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন’ এবং ২০৪১ সালে উন্নত দেশ হওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানান মাহমুদ আলী।
ব্যাংকের তারল্য সংকটের সময়ে প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছেন, এতে ব্যাংকে তারল্য সংকট হবে কিনা- এমন প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়া এটা সব বাজেটেই অর্থমন্ত্রীরা করে থাকেন। সব সরকার করে থাকে। উন্নত দেশে আরো অনেক বেশি নিয়ে থাকে; আমরা তো মাত্র ৫ শতাংশের মধ্যে এটা ধরে রেখেছি। কাজেই এটা এত গুরুত্বপূর্ণ কিছু না। এটা নিয়ে চিন্তার কোনো কারণ নেই। তিনি আরও বলেন, ৫ হাজার টাকা করে দিলে আজীবন পেনশন পাওয়া যাবে ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা। কর কাঠামোতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। বিভিন্ন কর কমানো হচ্ছে। শেয়ার বাজারে বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় বাজেটে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ক্যাশলেস সোসাইটি তৈরির জন্য কাজ করা হচ্ছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) জনবল বৃদ্ধির কোনো উদ্যোগ নেয়া হবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থসচিব খায়েকুজ্জামান মজুমদার বলেন, জনবল নিয়োগের বিষয়ে এনবিআর থেকে চিঠি এসেছিল। ইতোমধ্যে আমরা ব্যাপক জনবল বাড়িয়েছি। আশা করছি সামনে আরো বাড়ানো হবে। এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য অটোমেশনের বিষয়টি শুরু হয়েছে। অর্থবিভাগ থেকে আমরা জনবল নিয়োগের বিষয়ে অনুমোদন পেয়েছি। সমুদ্র অর্থনীতি বিষয়ে বাজেটে কোনো উদ্যোগ আছে কিনা- এমন প্রশ্নের উত্তরে অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়শা খান বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে সুনীল অর্থনীতির গবেষণায় ও অন্যান্য বিষয়ের জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান বলেন, বিশ্বব্যাংকের কল্পিত দুষ্ট ব্যক্তি আমি ছিলাম। প্রধানমন্ত্রী পাশে না থাকলে এখানে কথা বলতে পারতাম না। তবে এটা কানাডার আদালতে মিথ্যা প্রমাণ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজের টাকায় পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন করে বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছেন। এ সময় অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়া নৈমিত্তিক কাজ। ব্যাংকে টাকা রাখলে তো সুদ বাড়ে। ব্যাংক এসব সুদ কীভাবে দেবে? এজন্য ব্যাংক টাকা বিনিয়োগ করছে। এ পদ্ধতি বিশ্বব্যাপী চলমান। ব্যাংকের ব্যবসা বন্ধ না করে চালু রাখতে হবে। ঋণ খেলাপি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঋণ খেলাপি একদিনের নয়, দীর্ঘদিনের। সরকারের অন্যতম টার্গেট খেলাপি ঋণ কমানো। মূলত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সচল রাখা এবং ব্যাংকের সুস্থ পরিচালনা করা; এই দুটোর ভারসাম্য রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। সরকার এ বিষয়ে সচেতন। এমপিদের বিনা শুল্কে গাড়ি কেন দেয়া হচ্ছে? এ প্রসঙ্গে মসিউর রহমান বলেন, এটা আমরা নই, এরশাদ সাহেব চালু করেছিলেন। একটা বিষয় চালু হলে সেটা বন্ধ করা কঠিন। সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিষয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান বলেন, সাবেক কর্মকর্তা নিয়ে আপনারা প্রশ্ন করেছেন, তার বিচার হবে না এটা কেউ বলেননি। দুদক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। তার বিরুদ্ধে তথ্য সংগ্রহ না করে তাকে জেলে বা ফাঁসি দেব- বিষয়টি এমন নয়; কারণ তিনি তো এ দেশের মানুষ। বেনজীর বিদেশে আছেন, দুদকের কাছে সময় চেয়েছেন।
১৫ শতাংশ কর দিলে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের কালো টাকা সাদা হবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেছেন, এ টাকা মামলায় পড়ে গেছে, এটা কীভাবে সাদা হবে। এখন ফৌজদারি মামলা চলছে। বাজেটে কলো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, কালো টাকা যারা তৈরি করেন- তারা এটা বাইরে নিয়ে ভোগবিলাস করেন। এ অপ্রদর্শিত আয় দেশে রাখার জন্য বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়া হয়েছে। এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, নানা কারণে কালো টাকা হয়। রিটার্ন জমা না দিলে, ভুলবশত নানা কারণে কালো টাকা হয়। তিনি বলেন, এটা সত্য জমি বেচাকেনায় কালো টাকা ব্যবহার করা হয়। অনেক পক্ষের মতামত ছিল কিছু অপ্রদর্শিত টাকা অনেকে সাদা করতে চায়, এজন্য সুযোগ দেয়া। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির করপোরেট করহার দীর্ঘদিন কমিয়ে রাখা হলেও পুঁজিবাজার খুব বেশি ভালো অবস্থায় ছিল কিনা, সেই প্রশ্ন রেখে রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান বলেন, ক্যাপিটাল মার্কেটের (পুঁজিবাজার) সমস্যা আসলেই কি চিহ্নিত করা হয়েছে?
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আপনারা সব সময় মনে করছেন, শুধু বুঝি করছাড়ই ক্যাপিটাল মার্কেট ভালো করার জন্য একটি ভালো জায়গা। ক্যাপিটাল মার্কেটে করছাড়ের এ চর্চা দীর্ঘ সময় ছিল। এখন যেটি হয়েছে, আমাকে রেভিনিউ জেনারেট করতে হবে। করছাড়ের যে জায়গাটি রয়েছে, সেটা ধীরে ধীরে আমাদের কমিয়ে আনার প্রচেষ্টার মধ্যে আছে। অনেকেই নিজ খরচে পদ্মা সেতু করার কথা বলেছেন। আমরা আরো পদ্মা সেতু করতে চাই। সেটার জন্য আমাদের রেভিনিউ জেনারেট (রাজস্ব আহরণ) করতে হবে। সেটারই একটি প্রক্রিয়া হলো করছাড়ের জায়গাটা কমিয়ে আনা। তিনি বলেন, এখানে ৫ শতাংশ যে ব্যবধান দেয়া হয়েছে, এর ফলে করপোরেট ট্যাক্স ২০ শতাংশ রয়েছে। ২০ শতাংশের নিচে যদি করপোরেট ট্যক্স করা হয়, তাহলে আমাদের রেভিনিউ জেনারেট করবে না। ১৫ শতাংশ করপোরেট ট্যাক্স করার পর্যায়ে আমাদের দেশ এখনো আসেনি। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত এ দুই ধরনের কোম্পানির কর কমিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে না। এটা করা হলে এনবিআরের রেভিনিউ কালেকশনের (রাজস্ব আদায়) ওপর বিরাট হুমকি হয়ে যাবে।
আরেক প্রশ্নের উত্তরে অর্থ সচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার বলেন, বাজেটে পুঁজিবাজার নিয়ে যে কিছুই নেই, এটা ঠিক নয়। বাজেট বক্তৃতায় যেসব কথা বলা থাকবে, এমনটি নয়। তারপরও আমরা বাজেটে পুঁজিবাজার নিয়ে কিছু বলার চেষ্টা করেছি। বিশেষ করে গ্রিন বন্ড ফাইন্যান্সিং নিয়ে কাজ করছি। দীর্ঘমেয়াদে বন্ড মার্কেট নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করছি। এজন্য বাজেটে গ্রিন বন্ডকে হাইলাইট করা হয়েছে। বিদেশি ঋণ নেয়ার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা কখনোই শতভাগ অর্জিত হয়নি। আমাদের বাজেট ঘাটতিও খুব বেশি নয়। দুশ্চিন্তা করার মতো ভয়াবহ ঋণগ্রস্ত হয়নি সরকার। নতুন বাজেটে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা প্রসঙ্গে অর্থ সচিব মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার বলেন, এনবিআরের রাজস্ব আহরণ কম হবে ধারণা করেই অভ্যন্তরীণ ঋণ নেয়ার বড় পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। নওফেল বলেন, এবারের প্রস্তাবিত বাজেট ঘাটতি অনেক দেশের চেয়ে কম। তাই এমন কোনো পরিস্থিতি দেশে তৈরি হয়নি- বাংলাদেশ ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়বে। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এ ধরনের প্রচারণা চলে আসছে- দেশ ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। এর আগেও করোনার সময় একই ধরনের প্রচারণা চালানো হয়, যোগ করেন শিক্ষামন্ত্রী।
আলোচনায় নিত্যপণ্যের বাজার ও ঊর্ধ্বগতির প্রসঙ্গ উঠে আসে। দাম নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু বলেন, নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানোর মতো কোনো ঘোষণা নেই নতুন বাজেটে। এসময় বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার পেছনে কৃষকরাও দায়ী বলে মন্তব্য করেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, আপনারা জানেন এখন কৃষকরাও অনেক স্মার্ট। দেশে ধানের উৎপাদন বাড়লে কৃষকরা ধান বিক্রি করে তেল কিনে, সবজি কিনে। সবজি আর তেল কেনার জন্য দেখা গেল ধান বেশি করে বিক্রি করছেন। এতে চালের দাম বেড়ে যাচ্ছে।
বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, রমজানের পর থেকে এখনো তেল-চিনির দামে ভারসাম্য আছে। ধান-চাল আমদানিতে কর দুই-এক শতাংশ করা হয়েছে বাজেটে। এখন এক কোটি নাগরিক ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে পণ্য পাচ্ছেন। আসন্ন বাজেটের মেয়াদে ন্যায্যমূল্যে পণ্য দিতে স্থায়ী দোকানের মাধ্যমে টিসিবির পণ্য দেয়ার কাজ চলছে। এটা হলে আরো বেশিসংখ্যক মানুষ এর মাধ্যমে উপকৃত হবেন। তিনি বলেন, আমাদের ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর রয়েছে। সেটির মাধ্যমে আমরা বাজার মনিটরিং করি। ঈদকে সামনে রেখে সেটি অব্যাহত রেখেছি। বাজেটে কর মওকুফ করায় নিত্যপণ্যের দাম কমবে। বাজার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি দেশে বিভিন্ন ঋতুতে আবহাওয়ার বিপর্যয় ঘটে। এতে আমরা যখন দেখতে পাই নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে, তখন ট্যাক্স কমিয়ে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করব। এবারের বাজেটে ১৭২টি পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক কর কমানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে অগ্রাধিকার

আপলোড টাইম : ০৯:২৪:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ জুন ২০২৪

চলতি বছরের শেষ নাগাদ মূল্যস্ফীতি কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার জানিয়ে এ সময় অর্থমন্ত্রী বলেন, মূল্যস্ফীতি এখনো আমাদের দেশে ৯ শতাংশের ঘরে রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে দেশে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় আসে তখন মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের কাছাকাছি ছিল, ২০১০ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১০ শতাংশে। কিন্তু সরকার দুই বছরের মধ্যে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। পরবর্তী এক দশক মূল্যস্ফীতি ৫ থেকে ৬ শতাংশের মধ্যে ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে গতকাল শুক্রবার স্বাগতিক বক্তব্যে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। বেলা ৩টায় রাজধানীর আব্দুল গনি রোডের ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন অর্থ সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন- স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, পরিকল্পনামন্ত্রী মেজর জেনারেল (অব) আব্দুস সালাম, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমান, কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুস শহীদ, শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু, অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়শা খান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম প্রমুখ।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আপনারা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন- বাজেটের আকার আমরা কমিয়ে রেখেছি। যাতে মূল্যস্ফীতির ওপর কোনো চাপ না পড়ে। মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক প্রভাব অর্থনীতিতে পড়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। মূল্যস্ফীতি এখনো ৯ শতাংশের ঘরে রয়েছে। পৃথিবীর কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার বাড়িয়েছে। যার চাপ ডলারে পড়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার অবমূল্যায়ন মূল্যস্ফীতির বড় কারণ। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সংকোচনমূলক পদক্ষেপ আরো কিছুদিন চলবে। এর মধ্যেও প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশে উন্নীত করার চেষ্টা করব, যেটা এখন চলতি অর্থবছরে ৫ দশমিক ৮২ শতাংশ হিসাবে প্রাক্কলন করা হচ্ছে। মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে ধরে রাখার চেষ্টা করব। ২০২৬ সালে ‘এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন’ এবং ২০৪১ সালে উন্নত দেশ হওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানান মাহমুদ আলী।
ব্যাংকের তারল্য সংকটের সময়ে প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছেন, এতে ব্যাংকে তারল্য সংকট হবে কিনা- এমন প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়া এটা সব বাজেটেই অর্থমন্ত্রীরা করে থাকেন। সব সরকার করে থাকে। উন্নত দেশে আরো অনেক বেশি নিয়ে থাকে; আমরা তো মাত্র ৫ শতাংশের মধ্যে এটা ধরে রেখেছি। কাজেই এটা এত গুরুত্বপূর্ণ কিছু না। এটা নিয়ে চিন্তার কোনো কারণ নেই। তিনি আরও বলেন, ৫ হাজার টাকা করে দিলে আজীবন পেনশন পাওয়া যাবে ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা। কর কাঠামোতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। বিভিন্ন কর কমানো হচ্ছে। শেয়ার বাজারে বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় বাজেটে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ক্যাশলেস সোসাইটি তৈরির জন্য কাজ করা হচ্ছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) জনবল বৃদ্ধির কোনো উদ্যোগ নেয়া হবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থসচিব খায়েকুজ্জামান মজুমদার বলেন, জনবল নিয়োগের বিষয়ে এনবিআর থেকে চিঠি এসেছিল। ইতোমধ্যে আমরা ব্যাপক জনবল বাড়িয়েছি। আশা করছি সামনে আরো বাড়ানো হবে। এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য অটোমেশনের বিষয়টি শুরু হয়েছে। অর্থবিভাগ থেকে আমরা জনবল নিয়োগের বিষয়ে অনুমোদন পেয়েছি। সমুদ্র অর্থনীতি বিষয়ে বাজেটে কোনো উদ্যোগ আছে কিনা- এমন প্রশ্নের উত্তরে অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়শা খান বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে সুনীল অর্থনীতির গবেষণায় ও অন্যান্য বিষয়ের জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান বলেন, বিশ্বব্যাংকের কল্পিত দুষ্ট ব্যক্তি আমি ছিলাম। প্রধানমন্ত্রী পাশে না থাকলে এখানে কথা বলতে পারতাম না। তবে এটা কানাডার আদালতে মিথ্যা প্রমাণ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজের টাকায় পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন করে বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছেন। এ সময় অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়া নৈমিত্তিক কাজ। ব্যাংকে টাকা রাখলে তো সুদ বাড়ে। ব্যাংক এসব সুদ কীভাবে দেবে? এজন্য ব্যাংক টাকা বিনিয়োগ করছে। এ পদ্ধতি বিশ্বব্যাপী চলমান। ব্যাংকের ব্যবসা বন্ধ না করে চালু রাখতে হবে। ঋণ খেলাপি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঋণ খেলাপি একদিনের নয়, দীর্ঘদিনের। সরকারের অন্যতম টার্গেট খেলাপি ঋণ কমানো। মূলত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সচল রাখা এবং ব্যাংকের সুস্থ পরিচালনা করা; এই দুটোর ভারসাম্য রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। সরকার এ বিষয়ে সচেতন। এমপিদের বিনা শুল্কে গাড়ি কেন দেয়া হচ্ছে? এ প্রসঙ্গে মসিউর রহমান বলেন, এটা আমরা নই, এরশাদ সাহেব চালু করেছিলেন। একটা বিষয় চালু হলে সেটা বন্ধ করা কঠিন। সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিষয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান বলেন, সাবেক কর্মকর্তা নিয়ে আপনারা প্রশ্ন করেছেন, তার বিচার হবে না এটা কেউ বলেননি। দুদক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। তার বিরুদ্ধে তথ্য সংগ্রহ না করে তাকে জেলে বা ফাঁসি দেব- বিষয়টি এমন নয়; কারণ তিনি তো এ দেশের মানুষ। বেনজীর বিদেশে আছেন, দুদকের কাছে সময় চেয়েছেন।
১৫ শতাংশ কর দিলে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের কালো টাকা সাদা হবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেছেন, এ টাকা মামলায় পড়ে গেছে, এটা কীভাবে সাদা হবে। এখন ফৌজদারি মামলা চলছে। বাজেটে কলো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, কালো টাকা যারা তৈরি করেন- তারা এটা বাইরে নিয়ে ভোগবিলাস করেন। এ অপ্রদর্শিত আয় দেশে রাখার জন্য বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়া হয়েছে। এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, নানা কারণে কালো টাকা হয়। রিটার্ন জমা না দিলে, ভুলবশত নানা কারণে কালো টাকা হয়। তিনি বলেন, এটা সত্য জমি বেচাকেনায় কালো টাকা ব্যবহার করা হয়। অনেক পক্ষের মতামত ছিল কিছু অপ্রদর্শিত টাকা অনেকে সাদা করতে চায়, এজন্য সুযোগ দেয়া। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির করপোরেট করহার দীর্ঘদিন কমিয়ে রাখা হলেও পুঁজিবাজার খুব বেশি ভালো অবস্থায় ছিল কিনা, সেই প্রশ্ন রেখে রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান বলেন, ক্যাপিটাল মার্কেটের (পুঁজিবাজার) সমস্যা আসলেই কি চিহ্নিত করা হয়েছে?
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আপনারা সব সময় মনে করছেন, শুধু বুঝি করছাড়ই ক্যাপিটাল মার্কেট ভালো করার জন্য একটি ভালো জায়গা। ক্যাপিটাল মার্কেটে করছাড়ের এ চর্চা দীর্ঘ সময় ছিল। এখন যেটি হয়েছে, আমাকে রেভিনিউ জেনারেট করতে হবে। করছাড়ের যে জায়গাটি রয়েছে, সেটা ধীরে ধীরে আমাদের কমিয়ে আনার প্রচেষ্টার মধ্যে আছে। অনেকেই নিজ খরচে পদ্মা সেতু করার কথা বলেছেন। আমরা আরো পদ্মা সেতু করতে চাই। সেটার জন্য আমাদের রেভিনিউ জেনারেট (রাজস্ব আহরণ) করতে হবে। সেটারই একটি প্রক্রিয়া হলো করছাড়ের জায়গাটা কমিয়ে আনা। তিনি বলেন, এখানে ৫ শতাংশ যে ব্যবধান দেয়া হয়েছে, এর ফলে করপোরেট ট্যাক্স ২০ শতাংশ রয়েছে। ২০ শতাংশের নিচে যদি করপোরেট ট্যক্স করা হয়, তাহলে আমাদের রেভিনিউ জেনারেট করবে না। ১৫ শতাংশ করপোরেট ট্যাক্স করার পর্যায়ে আমাদের দেশ এখনো আসেনি। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত এ দুই ধরনের কোম্পানির কর কমিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে না। এটা করা হলে এনবিআরের রেভিনিউ কালেকশনের (রাজস্ব আদায়) ওপর বিরাট হুমকি হয়ে যাবে।
আরেক প্রশ্নের উত্তরে অর্থ সচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার বলেন, বাজেটে পুঁজিবাজার নিয়ে যে কিছুই নেই, এটা ঠিক নয়। বাজেট বক্তৃতায় যেসব কথা বলা থাকবে, এমনটি নয়। তারপরও আমরা বাজেটে পুঁজিবাজার নিয়ে কিছু বলার চেষ্টা করেছি। বিশেষ করে গ্রিন বন্ড ফাইন্যান্সিং নিয়ে কাজ করছি। দীর্ঘমেয়াদে বন্ড মার্কেট নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করছি। এজন্য বাজেটে গ্রিন বন্ডকে হাইলাইট করা হয়েছে। বিদেশি ঋণ নেয়ার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা কখনোই শতভাগ অর্জিত হয়নি। আমাদের বাজেট ঘাটতিও খুব বেশি নয়। দুশ্চিন্তা করার মতো ভয়াবহ ঋণগ্রস্ত হয়নি সরকার। নতুন বাজেটে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা প্রসঙ্গে অর্থ সচিব মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার বলেন, এনবিআরের রাজস্ব আহরণ কম হবে ধারণা করেই অভ্যন্তরীণ ঋণ নেয়ার বড় পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। নওফেল বলেন, এবারের প্রস্তাবিত বাজেট ঘাটতি অনেক দেশের চেয়ে কম। তাই এমন কোনো পরিস্থিতি দেশে তৈরি হয়নি- বাংলাদেশ ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়বে। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এ ধরনের প্রচারণা চলে আসছে- দেশ ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। এর আগেও করোনার সময় একই ধরনের প্রচারণা চালানো হয়, যোগ করেন শিক্ষামন্ত্রী।
আলোচনায় নিত্যপণ্যের বাজার ও ঊর্ধ্বগতির প্রসঙ্গ উঠে আসে। দাম নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু বলেন, নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানোর মতো কোনো ঘোষণা নেই নতুন বাজেটে। এসময় বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার পেছনে কৃষকরাও দায়ী বলে মন্তব্য করেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, আপনারা জানেন এখন কৃষকরাও অনেক স্মার্ট। দেশে ধানের উৎপাদন বাড়লে কৃষকরা ধান বিক্রি করে তেল কিনে, সবজি কিনে। সবজি আর তেল কেনার জন্য দেখা গেল ধান বেশি করে বিক্রি করছেন। এতে চালের দাম বেড়ে যাচ্ছে।
বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, রমজানের পর থেকে এখনো তেল-চিনির দামে ভারসাম্য আছে। ধান-চাল আমদানিতে কর দুই-এক শতাংশ করা হয়েছে বাজেটে। এখন এক কোটি নাগরিক ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে পণ্য পাচ্ছেন। আসন্ন বাজেটের মেয়াদে ন্যায্যমূল্যে পণ্য দিতে স্থায়ী দোকানের মাধ্যমে টিসিবির পণ্য দেয়ার কাজ চলছে। এটা হলে আরো বেশিসংখ্যক মানুষ এর মাধ্যমে উপকৃত হবেন। তিনি বলেন, আমাদের ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর রয়েছে। সেটির মাধ্যমে আমরা বাজার মনিটরিং করি। ঈদকে সামনে রেখে সেটি অব্যাহত রেখেছি। বাজেটে কর মওকুফ করায় নিত্যপণ্যের দাম কমবে। বাজার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি দেশে বিভিন্ন ঋতুতে আবহাওয়ার বিপর্যয় ঘটে। এতে আমরা যখন দেখতে পাই নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে, তখন ট্যাক্স কমিয়ে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করব। এবারের বাজেটে ১৭২টি পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক কর কমানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।