ইপেপার । আজবৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় বেহাল দশা; মৌলিক বিষয় পাচ্ছে না গুরুত্ব

সমীকরণ প্রতিবেদন
  • আপলোড টাইম : ০৩:৫৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ জুন ২০২৪
  • / ১৪ বার পড়া হয়েছে

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা নিয়ে অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন। তারা মন্তব্য করছেন এই স্তরে তাদের সন্তানদের কার্যকর কিছুই শিখানো হচ্ছে না। গণিত, বিজ্ঞান ও ভাষার দক্ষতায় তারা একেবারে কাঁচা থেকে যাচ্ছে। এ জন্য তাদের অভিযোগ নির্বাচিত পাঠ্যের দিকে। এগুলোতে পাঠ্যবিষয়কে এমনভাবে সাজানো হয়েছে যার কোনো সারমর্ম নেই। শৈশবে যেসব মৌলিক বিষয় ক্লাসে শেখা হয়ে যাওয়ার কথা সেটি হচ্ছে না। এর বদলে হাতে-কলমে শিখানোর নামে যা সামনে আনছে এগুলোর বেশির ভাগ প্রয়োজন নেই। এগুলো সময় নষ্ট করা এবং প্রতিভাবান ছাত্রদের বিকশিত হওয়ার ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করে। দরকার ছিল পাঠ্যপুস্তকের আধেয়কে পরিবর্তন এবং ঠুনকো বিষয়গুলোকে বাদ দিয়ে মৌলিক বিষয় শিক্ষায় অধিক গুরুত্ব প্রদান। দশম শ্রেণী পর্যন্ত সরকার নতুন শিক্ষাক্রম চালু করেছে। বর্তমানে নবম শ্রেণীতে পড়ুয়ারা এই শিক্ষাক্রম অনুযায়ী প্রথম এসএসসি পরীক্ষা দেবে। এই শিক্ষাক্রম অনুযায়ী এসএসসি পরীক্ষায় লিখিত অংশের জন্য ৬৫ নম্বর এবং কার্যক্রমভিত্তিক রাখা হয়েছে ৩৫ শতাংশ। হাতে-কলমে শিক্ষার বিষয়টি কিছু ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সাধারণ শিক্ষাক্রমে সেভাবে গুরুত্বপূর্ণ নয়। শিক্ষার্থী মূল্যায়নে এটি অনেক বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে এমন অবস্থায় যে, এই মূল্যায়নের জন্য আমাদের শিক্ষকদের সেই মানের পেশাদারিত্ব নেই। এ অবস্থায় প্রস্তাব রাখা হয়েছে- কোনো শিক্ষার্থী ৭০ শতাংশ শ্রেণিকার্যক্রমে উপস্থিত না থাকলে সে চূড়ান্ত পরীক্ষার জন্য বিবেচিত হবে না। নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী দুই বিষয়ে অনুত্তীর্ণ হলে তাকে শর্তসাপেক্ষে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ দেয়া হবে। এটি কোনোভাবে একটি মানদণ্ড হতে পারে না। এতে করে উত্তীর্ণ আর অনুত্তীর্ণ ছাত্রের মধ্যে তফাত থাকছে না।
এখন ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পাস করে যায়। এমনকি ভালো ফলাফলেও সয়লাব। লাখ লাখ শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ জিপিএ ৫ পাচ্ছে। মূলত অভাব দেখা যাচ্ছে শিক্ষার্থীর মান। এই ভালো পাস আমাদের দেশের উচ্চ শিক্ষার মান বাড়ায়নি; বরং বিগত বছরগুলোতে দেখা গেল দশম ও দ্বাদশ শ্রেণীতে ভালো ফলাফল করা ছাত্র উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি পরীক্ষায় পাস করতে পারছে না। এমনকি উচ্চ শিক্ষার মানেও এ কারণে ধস নামতে দেখা যাচ্ছে। বৈশ্বিক শিক্ষার মানের তালিকায় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় কেবল পিছিয়ে যাচ্ছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাক্রম নিয়ে দেশে বিদেশে সমালোচনা চলছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর কয়েক দশক আমাদের শিক্ষার ধারাবাহিক উন্নতি দেখা গেছে। বর্তমান সরকারের আমলে এর গতি উল্টো দিকে ধাবিত হচ্ছে। কেবল শিক্ষার মানের অধঃপাত নয়, একের পর এক পাঠ্যপুস্তকে সব বিতর্কিত বিষয় স্থান পেয়েছে। ইতিহাস শিক্ষায় দেখা যাচ্ছে দল ও ধর্মের প্রভাব। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে সংস্কৃতি। হঠাৎ করে এমন সব আয়োজন করা হচ্ছে যাতে পুরোনো সব বিষয়কে ভুল ঠাওর করা হচ্ছে। শিক্ষা নিয়ে অভিভাবকদের দুশ্চিন্তা দূর করতে হলে পাঠ্যপুস্তকে পরিবর্তন আনতে হবে। বিজ্ঞান ও ভাষা শিক্ষার গুরুত্বকে প্রাধান্য দিতে হবে। বিতর্কিত বিষয়কে বাদ দিতে হবে। এর সাথে নৈতিক শিক্ষাকে পুনরায় চালু করতে হবে।

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় বেহাল দশা; মৌলিক বিষয় পাচ্ছে না গুরুত্ব

আপলোড টাইম : ০৩:৫৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ জুন ২০২৪

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা নিয়ে অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন। তারা মন্তব্য করছেন এই স্তরে তাদের সন্তানদের কার্যকর কিছুই শিখানো হচ্ছে না। গণিত, বিজ্ঞান ও ভাষার দক্ষতায় তারা একেবারে কাঁচা থেকে যাচ্ছে। এ জন্য তাদের অভিযোগ নির্বাচিত পাঠ্যের দিকে। এগুলোতে পাঠ্যবিষয়কে এমনভাবে সাজানো হয়েছে যার কোনো সারমর্ম নেই। শৈশবে যেসব মৌলিক বিষয় ক্লাসে শেখা হয়ে যাওয়ার কথা সেটি হচ্ছে না। এর বদলে হাতে-কলমে শিখানোর নামে যা সামনে আনছে এগুলোর বেশির ভাগ প্রয়োজন নেই। এগুলো সময় নষ্ট করা এবং প্রতিভাবান ছাত্রদের বিকশিত হওয়ার ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করে। দরকার ছিল পাঠ্যপুস্তকের আধেয়কে পরিবর্তন এবং ঠুনকো বিষয়গুলোকে বাদ দিয়ে মৌলিক বিষয় শিক্ষায় অধিক গুরুত্ব প্রদান। দশম শ্রেণী পর্যন্ত সরকার নতুন শিক্ষাক্রম চালু করেছে। বর্তমানে নবম শ্রেণীতে পড়ুয়ারা এই শিক্ষাক্রম অনুযায়ী প্রথম এসএসসি পরীক্ষা দেবে। এই শিক্ষাক্রম অনুযায়ী এসএসসি পরীক্ষায় লিখিত অংশের জন্য ৬৫ নম্বর এবং কার্যক্রমভিত্তিক রাখা হয়েছে ৩৫ শতাংশ। হাতে-কলমে শিক্ষার বিষয়টি কিছু ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সাধারণ শিক্ষাক্রমে সেভাবে গুরুত্বপূর্ণ নয়। শিক্ষার্থী মূল্যায়নে এটি অনেক বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে এমন অবস্থায় যে, এই মূল্যায়নের জন্য আমাদের শিক্ষকদের সেই মানের পেশাদারিত্ব নেই। এ অবস্থায় প্রস্তাব রাখা হয়েছে- কোনো শিক্ষার্থী ৭০ শতাংশ শ্রেণিকার্যক্রমে উপস্থিত না থাকলে সে চূড়ান্ত পরীক্ষার জন্য বিবেচিত হবে না। নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী দুই বিষয়ে অনুত্তীর্ণ হলে তাকে শর্তসাপেক্ষে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ দেয়া হবে। এটি কোনোভাবে একটি মানদণ্ড হতে পারে না। এতে করে উত্তীর্ণ আর অনুত্তীর্ণ ছাত্রের মধ্যে তফাত থাকছে না।
এখন ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পাস করে যায়। এমনকি ভালো ফলাফলেও সয়লাব। লাখ লাখ শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ জিপিএ ৫ পাচ্ছে। মূলত অভাব দেখা যাচ্ছে শিক্ষার্থীর মান। এই ভালো পাস আমাদের দেশের উচ্চ শিক্ষার মান বাড়ায়নি; বরং বিগত বছরগুলোতে দেখা গেল দশম ও দ্বাদশ শ্রেণীতে ভালো ফলাফল করা ছাত্র উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি পরীক্ষায় পাস করতে পারছে না। এমনকি উচ্চ শিক্ষার মানেও এ কারণে ধস নামতে দেখা যাচ্ছে। বৈশ্বিক শিক্ষার মানের তালিকায় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় কেবল পিছিয়ে যাচ্ছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাক্রম নিয়ে দেশে বিদেশে সমালোচনা চলছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর কয়েক দশক আমাদের শিক্ষার ধারাবাহিক উন্নতি দেখা গেছে। বর্তমান সরকারের আমলে এর গতি উল্টো দিকে ধাবিত হচ্ছে। কেবল শিক্ষার মানের অধঃপাত নয়, একের পর এক পাঠ্যপুস্তকে সব বিতর্কিত বিষয় স্থান পেয়েছে। ইতিহাস শিক্ষায় দেখা যাচ্ছে দল ও ধর্মের প্রভাব। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে সংস্কৃতি। হঠাৎ করে এমন সব আয়োজন করা হচ্ছে যাতে পুরোনো সব বিষয়কে ভুল ঠাওর করা হচ্ছে। শিক্ষা নিয়ে অভিভাবকদের দুশ্চিন্তা দূর করতে হলে পাঠ্যপুস্তকে পরিবর্তন আনতে হবে। বিজ্ঞান ও ভাষা শিক্ষার গুরুত্বকে প্রাধান্য দিতে হবে। বিতর্কিত বিষয়কে বাদ দিতে হবে। এর সাথে নৈতিক শিক্ষাকে পুনরায় চালু করতে হবে।