ছবির ক্যাপশন:
আলমডাঙ্গা প্রতিনিধি: আলমডাঙ্গা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী খর¯্রােতা কুমার নদ এখন মৎস্য ও পানি শূন্য মরা খাল। বেদখল হয়ে যাচ্ছে শুকিয়ে যাওয়া নদীর শত শত একর জমি। নদী এখন ফসলের মাঠ। ফলে, দেখা দিয়েছে প্রাকৃতিক মাছের সংকট। নদী থেকে প্রাকৃতিক মাছের এক বিরাট চাহিদা জোগান হত। কালের বিবর্তনে কুমার নদীর তলদেশে পলি জমে ভরাট হওয়া, দুপাড় কেটে ফসলের চাষ করা হচ্ছে। অত্যাধুনিক কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের ব্যাবহার এবং অপরিকল্পিত ভাবে মাছের আহরন প্রভৃতি কারণে নদী মাছ শূন্য হয়ে পড়েছে। এলাকার প্রবীন লোকের সাথে আলাপ কালে জানা যায়, ৩০-৪০ বছর আগেও কুমার নদ গভীর ছিলো।
এককালীন সময়ে ব্যাবসা বাণিজ্যসহ বিভিন্ন যাতায়াতের মাধ্যম ছিলো আলমডাঙ্গার বুকে বিলিন হওয়া এই কুমার নদটি। এই নদ দিয়ে বড় বড় জাহাজসহ ছোট-বড় নৌকা চলাচল করতো। মাথাভাঙ্গা নদীর একাংশ থেকেই এই কুমার নদীর জাগ্রত। মাথাভাঙ্গা নদী পলি জমাট হলেও স্রোতের ধারা এখনো বিদ্যমান। তবে কুমার নদ আলমডাঙ্গা উপজেলার হাজার হাজার হেক্টর জমি ভরাট হয়ে চলে গেছে প্রভাবশালী কিছু মানুষের কাছে।পানির বদলে সবুজ শ্যামলীতের চাষের যোগ্য স্থান হিসাবে ব্যবহার করছে।
প্রবীণ লোকজন এখনো দাবি করেন, নদ মরে যাওয়ার কারনে এসব এলাকার অনেক মৎস্য চাষী বেকার হয়ে গেছে। তারা পৈত্রিক পেশা ছেড়ে কেউবা রিক্সা ভ্যান ও দিনমুজুরের কাজে নিয়োজিত আছে। নদের বুকে পলি আর কাদা জমে বোঝার কোন উপায় নেই যে এখানে কোন দিন নদ ছিলো। এই সকল নদ সংস্কার না হওয়ার কারণে অনেক গ্রামের ফসলাজমি বর্ষার পানির নিচে তলিয়ে যায়।
নদ পানি শূন্যতা হওয়ায় অনেক ক্ষমতাশীল লোকেরা বাশের ঘের বানিয়ে মাছ চাষ করছে।স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বন্ধ হওয়ায় বর্ষাকালে দেখা দেয় চাষের জমিতে জলাবদ্ধতা। এসকল নদের বিলিন হওয়ার কারনে প্রাকৃতিক দুর্যোগ সহ আমিষ ঘাটতি বৃদ্ধি পেয়েছে। চোখ দিয়ে যতদূর দেখা যায় তত দুরই শুধু নদটি অবৈধ ভাবে দখল করে চাষের জমি তৈরি করেছে।
আলমডাঙ্গা উপজেলা ভূমি অফিস সুত্রে জানা যায়, নদী আইনে কোন প্রকার ব্যক্তি মালিকানার সুযোগ নাই। তবে উপজেলার আসাননগর মৌজার ৭৬ বিঘা জমির মধ্যে ২০ বিঘা জমি নদের মধ্যে অবস্থান করছে আর এরই বেশির ভাগ স্থানীয়রা অবৈধ ভাবে চাষাবাদ সহ নদের পাশে বেড়ে ওঠা ফলজ সহ কাঠের গাছ ক্ষমতার অপব্যাবহার করে সকলে ভোগ করছে। এই নদীর মূখ যেনো আবারো নতুন প্রজন্ম দেখতে পায় এমনটাই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন আলমডাঙ্গা উপজেলার নতুন প্রজন্মসহ অপামর জনসাধারন। তাদের একটাই দাবি, চুয়াডাঙ্গার সুযোগ্য জেলা প্রশাসক নতুন করে কুমার নদ সংস্কার ও অবৈধ বাধ উচ্ছেদ করে আবারো কুমার নদের পানি প্রবাহ যেনো স্বাভাবিক ও পূর্ণসংস্কার করলে আবারো জীবিত হয়ে উঠতে পারে মৃত প্রায় কুমার নদটি।
