৫ সহোদরের কাছে জিম্মি জলমহাল : কোমর সরাতে তিনদিনের আল্টিমেটাম

আপলোড তারিখঃ 2018-04-05 ইং
৫ সহোদরের কাছে জিম্মি জলমহাল : কোমর সরাতে তিনদিনের আল্টিমেটাম ছবির ক্যাপশন:
মাথাভাঙ্গার বুকে অসংখ্যা বাঁধ আর কোমর : থামিয়ে দিচ্ছে  স্রোতধারা : তলদেশে জমছে পলি-মাটি এসএম শাফায়েত/মেহেরাব্বিন সানভী: উত্তাল পদ্মার দ্বিতীয় বৃহত্তম শাখা মাথাভাঙ্গা নদী এখন মৃতপ্রায়। জেলা সৃষ্টি ও ঐতিহ্যের ধারক বাহক এই নদী এখন শ্রীহীন। বিচিত্র এই নদীর গতিপথ কালের বিবর্তনে আজ হারাতে বসেছে। এখন আর নেই তার বিচিত্র লাবণ্যতা; নেই নাব্যতা। মাথাভাঙ্গা’র বুকে অসংখ্য বাঁধ (বাঁশ ও চাটাইয়ের বেড়া) আর কোমর (চারদিকে বাঁশ পুঁতে জাল দিয়ে ঘিরে এর মধ্যে ডালপালা ফেলে অভয়াশ্রম তৈরী) মাছের অবাধ বিচরণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক শ্রেণীর অসাদু মৎস্য শিকারী সিন্ডিকেট বছরের পর বছর এভাবে বাঁধ দিয়ে কোমর ছড়িয়ে মাছ শিকার করে আসছে। এসব বাঁধ ও কোমরে আটকে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা মারা যাচ্ছে। পাশাপাশি নদীতে পানিপ্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় তলদেশে পলি-মাটি জমে ভরাট হচ্ছে গভীর নদী। এলাকাবাসী জানান, এভাবে কয়েক বছর ধরে মাছ শিকার করা হচ্ছে। তবে মাছ শিকারে গত বছর থেকে নদীতে বাঁধ ও কোমরের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। ¯্রােতস্মীনি এই নদী যখন মৃতপ্রায় তখনও চলছে এই কর্মকান্ড। দীর্ঘদিন যাবৎ এমন অবৈধ মাছ শিকার চললেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন নিরব ভূমিকায় রয়েছে। তাই নদী বাঁচাতে চুয়াডাঙ্গার সুযোগ্য জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ’র কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছে ভূক্তভোগীরা। সম্প্রতি এ প্রসঙ্গে একটি অভিযোগ পাওয়ায় তাৎক্ষণিক সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.ওয়াশীমুল বারীকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার অভিযোগটি আমলে নিয়ে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ফিরোজ আহমেদকে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিলে তিনি কোমর ও বাঁধ সরাতে সময় বেঁধে দেন। আগামী শনিবারের (৭ এপ্রিল) মধ্যে বাঁধ না সরালে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারী দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। জানা যায়, মাথাভাঙ্গা পদ্মার শাখা নদী। কুষ্টিয়া ভেড়ামারার ভারত সীমান্ত ঘেঁষে মাথাভাঙ্গার উৎপত্তিস্থল। প্রমত্ত পদ্মা বর্ষায় পূর্বের রূপের কিছুটা ফিরে পেলেও বর্ষা যাওয়ার সাথে সাথে ফারাক্কা আটকে দেয় অধিকাংশ গেট। দ্রুত পানি হ্রাস পেয়ে পদ্মার রুগ্ন চেহারা যেমন ফুটে ওঠে, তেমনই মাথাভাঙ্গাও উৎসমুখ থেকে পানি না পেয়ে নদী রেখায় রূপান্তর হওয়ার উপক্রম ঘটে। নদীর কুলে ও বুকে ঝরনা ধারা জিয়ে রেখেছে ¯্রােতে। অথচ সেই মিন মিনে ¯্রােতও বাধ দিয়ে আটকে দিচ্ছে অসাধু কিছু মৎস্য শিকারী। তাদেরই কিছু চুয়াডাঙ্গা জেলা সদরের হাটকালুগঞ্জের বাসিন্দা। অবাক হলেও সত্য যে, তারা ৫ সহোদর। কোমর বাঁধ দিয়ে মাছ শিকারের অভিযোগে ৫ সহোদর মন্টু, ঘেনা, নজরুল, হারুন ও রমজানের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। এ ছাড়াও শুকিয়ে যাওয়া নদীর কূল দখল করে চাষাবাদও করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে ভুক্তভোগী জনসাধারণের পক্ষে গত ২৭/০৩/১৮ তারিখে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক বরাবর একটি অভিযোগ দাখিল করে জ্বীনতলা মল্লিকপাড়ার হাবিবুর রহমান। তিনি তার লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন অবৈধ ভাবে মাথাভাঙ্গা নদীতে কোমর ও বাঁধ সৃষ্টি করে কতিপয় কিছু ব্যক্তি নদীর ¯্রােতকে থামিয়ে দিয়েছে; যা উচ্ছেদে কার্যকরী পদক্ষেপ জরুরী। ওই অভিযোগ পত্রে আরো বলা হয়, চুয়াডাঙ্গা জেলার উপর দিয়ে পদ্মার প্রধান উপ শাখা নদী মাথাভাঙ্গা বহমান। এই নদীতে চুয়াডাঙ্গা সদরের হাজরাহাটি গ্রামের হাজী পাড়া মোড়ের বাসিন্দা সানোয়ারের ছেলে লাল্টু স্থানীয় চাঁন্দের কোণা মাঠ এলাকা ও হাইকোখালী দোহার মাঠ (শ্বশানঘাট সংলগ্ন) নামকস্থান দিয়ে বয়ে চলা নদীর বুকে দু’টি বড় কোমর স্থাপন করেছে, তালতলা বোরিং ঘাটে কয়েকটি কোমর রয়েছে। এ ছাড়াও হাটকালুগঞ্জের মকছেদ শেখের ছেলে রূপচাঁদ ওরফে ঘেনা, মন্টু হাজী, রমজান, হারুন ও নজু এবং একই এলাকার রেনু শেখের ছেলে হারুন, লিয়াকত, জয়নাল ও সবুর আলী, কাদের আলীর ছেলে বসিরদের ৩০-৩৫টি কোমর রয়েছে, যা মাথাভাঙ্গা নদীর চলমান ¯্রােতকে থামিয়ে দিয়েছে। নদীতে এই কোমর স্থাপনের ফলে পানি দূষিত হচ্ছে; ডিম ওয়ালা মাছ মরে ভেসে উঠছে। পানি দূষিত হওয়ার কারণে জনসাধারণের ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বছরের বিশেষ কিছু সময়ে বড় জাল দিয়ে ওই সমস্ত কোমর ঘিরে মাছ আহরণ করা হয়; যা অবৈধ। তারপরেও অবৈধ মাছ শিকারীরা জেলা মৎস্য কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট অনেকেরই নদীর মাছ উপঢোকন দিয়ে থামিয়ে রাখে। আজ থেকে বছর দুয়েক আগে জেলা প্রশাসক ভোলা নাথ দে মাথাভাঙ্গা বাঁচাও আন্দোলনের মাধ্যমে নদী থেকে সকল বাঁধ ও কোমর অপসারণে সক্ষমতা দেখান। এরপর বছর খানেক আর এ কাজে কাউকে সাহস দেখাতে দেখা যায়নি। ভোলা নাথ দে বদলি জনিত কারণে চুয়াডাঙ্গা ছেড়ে চলে গেলে আবারও গর্জে ওঠে বাঁধ কোমর সিন্ডিকেটের সদস্যরা। ওই ৫ সহোদর মন্টু, ঘেনা, নজরুল, হারুন ও রমজানই এ সিন্ডিকেটের মূলহোতা বলা হয়। বর্তমানে নদীতে ঘুরলে হাজরাহাটি থেকে হাটকালুগঞ্জ পর্যন্তই অর্ধশতাধিক ছোট বড় কোমর ও নদীর মধ্যে আড়াআড়ি ভাবে বাঁধ দেখা যায়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত প্রশাসনের আল্টিমেটাম মেনে এখন পর্যন্ত একটিও কোমর অপসারণ করা হয়নি নদী থেকে। সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ওয়াশীমুল বারী বলেন, ‘মাথাভাঙ্গা নদীতে কোমর বাঁধ দিয়ে অবৈধ ভাবে মাছ শিকারের একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ হাতে পাওয়া মাত্র সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি কোমর সরিয়ে ফেলা হয়েছে; বাকীগুলো সরানোর প্রক্রিয়া চলছে। সকল ধরণের বাঁধ ও কোমর অপসারণে আগামী শনিবার পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছে। এরপর মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে কোমর বাঁধ স্থাপন করা হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ফিরোজ আহমেদ জানান, নদীর বুক থেকে কোমর বাঁধ অপসারণ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আজ (গতকাল) বুধবার নদী এলাকায় মাইকিং করে কোমর তুলে নিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া আগামী শনিবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে কোমর বাঁধ সরিয়ে না নিতে পারলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)