ইম্প্যাক্ট ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের ব্যাখ্যা

আপলোড তারিখঃ 2018-04-01 ইং
ইম্প্যাক্ট ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের ব্যাখ্যা ছবির ক্যাপশন:
গত ১৮ই মার্চ ২০১৮ তারিখ থেকে চুয়াডাঙ্গা জেলার স্থানীয় কিছু পত্রিকায় ই¤প্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কম্যুনিটি হেল্থ সেন্টার হাসপাতালের চক্ষু সেবা কার্যক্রম নিয়ে কিছুৃ বিভ্রান্তিকর তথ্য ছাপিয়ে জনগণের মনে বিরূপ ধারণা সৃষ্টির অপচেষ্টা করা হচ্ছে, ই¤প্যাক্ট ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এর পক্ষ থেকে তার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে। সাথে সাথে প্রকৃত ঘটনা জনগণের সামনে তুলে ধরা কর্তব্য বলে মনে করছে। এই ফাউন্ডেশন দুই দশকেরও বেশী সময় ধরে অত্যন্ত সুনামের সাথে চুয়াডাঙ্গা ও এর নিকটবর্তী জেলা সমূহের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবন-মানের উন্নতির লক্ষ্যে স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ২০০২ সালে ই¤প্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কম্যুনিটি হেল্থ সেন্টার প্রতিষ্ঠিত হয়। এই হাসপাতাল অন্যান্য স্বাস্থ্য সেবার পাশাপাশি চোখের ছানী রোগের অস্ত্রোপচারও অত্যন্ত সাফল্যের সাথে দীর্ঘ দিন ধরে পরিচালনা করে আসছে। গত ৪-৬ই মার্চ এই হাসপাতালে মোট ৬০ জন রোগীর চোখের ছানীর অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের পরবর্তী দিন রোগীদের ছাড়পত্র (ডিসচার্জ) দেয়ার সময় সার্জন যখন তাদের চূড়ান্তবারের মত পরীক্ষা করেন, তখনো সকল রোগী তাদের অস্ত্রোপচারকৃত চোখে পরিষ্কার দেখতে পান বলে জানিয়েছিলেন এবং কোন রোগীর চোখে অস্ত্রোপচার সংক্রান্ত কোন ধরনের জটিলতা লক্ষ্য করা যায়নি, এছাড়া সকল রোগীর দৃষ্টিসীমা (ভিশন) সন্তোষজনক ছিল। তখন সবাই ভাল হয়ে বাড়ীতে চলে যাবার পর তারা ০৮ই ও ০৯ই মার্চ চোখের সমস্যা নিয়ে পূনরায় ইম্প্যাক্ট হাসপাতালে আসেন। বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দেখা যায় ৬০ জন রোগীর মধ্যে শুধুমাত্র ০৫ই মার্চে অস্ত্রোপচারকৃত রোগীর মধ্যে ২০ জন রোগীর চোখে মারাত্মক জটিলতা (ইনফেকশন) দেখা দিয়েছে। তখন স্থানীয়ভাবে ও ঢাকার অভিজ্ঞ চক্ষু বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা শুরু করে তাৎক্ষনিকভাবে রোগীদের আরো উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় বিশেষায়িত হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। অতঃপর, রোগীদের প্রয়োজনীয় সকল চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয় এবং তা এখনো অব্যাহত আছে। অত্র সংস্থার পক্ষ থেকে এই ২০ জন রোগীর চিকিৎসার যাবতীয় দায়িত্ব নেয়া হয়েছে। এছাড়াও এই জটিলতা (ইনফেকশন) কোথা থেকে হয়েছে তা নিরূপনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সংস্থার আভ্যন্তরীন তদন্তে দেখা গেছে যে, অপারেশন থিয়েটারের ব্যবস্থাপনা বিশেষ করে জীবানুমক্তকরণ প্রক্রিয়া সঠিক ও নিয়ম অনুযায়ী ছিল এবং প্রতিটি রোগীর অস্ত্রোপচারের ভিডিও রেকর্ড পর্যালোচনা করে দেখা গেছে যে নির্ভুল অস্ত্রোপচার হয়েছে। এর পাশাপাশি রোগীর অস্ত্রোপচারে ব্যবহৃত সমস্ত ঔষধ পত্র ও অন্যান্য সামগ্রী ঢাকার আইসিডিডিআর,বি-তে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। আইসিডিডিআর,বির পরীক্ষায় আপারেশনকালীন সময়ে ব্যাবহার করা ডাই (ত্রপেনব্লু-অরে‌্যাল্যাব)-এর মধ্যে ব্যাক্টোরয়েডস ফ্যাজিলিস নামক ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া যায়। এ ছাড়া ইসলামিয়া আই হাসপাতালে অস্ত্রোপচারকৃত রোগীদের চোখ থেকে সংগৃহিত নমুনার পরীক্ষাতেও একই ধরনের ব্যাটেরিয়ার উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। তাই আশঙ্কা করা হচ্ছে যে রোগীদের চোখের জটিলতার (ইনফেকশনের) পিছনে এটাই কারন। এখানে উল্লেখ্য যে ডাই (ত্রপেনব্লু-অরে‌্যাল্যাব) একটি বিদেশী কো¤পানির, যা বাংলাদেশের অনেক চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও হাসপাতালে ক্যাটারেক্ট সার্জারিতে ব্যাবহার করা হয়। ই¤প্যাক্ট ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ সব সময় সকল অস্ত্রেপচারে মানসম্পন্ন ওষুধ-পত্র ব্যবহার করে থাকে, শুধুমাত্র রোগীর নিরাপত্তার কথা চিন্তা করেই এই সব দামী এবং বিশ্বস্ত ওষুধ-পত্র ব্যবহার করা হয়। এখানে আর্থিক সাশ্রয়ের কথা প্রশ্নাতীত। তাছাড়া উক্ত ওষুধটি ই¤প্যাক্ট ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ অনেক দিন থেকেই ব্যবহার করে আসছে। অতীতে এই ধরনের কোন জটিলতাই লক্ষ্য করা যায়নি। এখানে উল্লেখ্য যে, অস্ত্রোপচারে ব্যবহৃত সকল ঔষধ ও অন্যান্য সামগ্রী শুধুমাত্র নির্ধারিত বিক্রেতাদের কাছ থেকেই সংগ্রহ করা হয়। কোন অবস্থায় খোলা বাজার থেকে এগুলো কেনা হয় না। তা ছাড়া যিনি অস্ত্রেপচার করেছেন তিনিও একজন অভিজ্ঞ ও পরিচিত আই সার্জন। তিনি এমবিবিএস পাশ করার পর জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিউট থেকে ২০০৫ সালে চক্ষু অপারেশনের উপর বিশেষ প্রশিক্ষন নিয়েছেন এবং ২০০৭ সালে ডিপ্লোমা ইন অফথালমোলজী ডিগ্রী নিয়েছেন। তিনি আজ পর্যন্ত ২০,০০০ (বিশ হাজার)-এরও বেশী অপারেশন করেছেন। চুয়াডাঙ্গা মেহেরপুর-বরিশাল অঞ্চলে এক নামে তাকে সবাই চিনে। দূর-দূরাšত থেকে তার কাছে অপারেশন করতে রোগীরা ছুটে আসে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে উক্ত আলোচ্য ঔষধের দেশীয় আমদানীকারক কো¤পানির কাছে লিখিত করা হয়েছে এবং ব্যবহার করা ঔষধের ব্যাচ নম্বরসহ যাবতীয় তথ্য তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। তারাও ঔষধটির বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছেন এবং বিদেশী উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করছেন। অনাকাঙ্খিত ও দুঃখজনক এই ঘটনাটির পিছনের প্রকৃত কারন উৎঘাটনে অত্র সংস্থার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। কারন, ঘটনাটির সাথে যেমন রোগীর জীবন জড়িত, তেমনিভাবে ই¤প্যাক্ট ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের সুনামও জড়িত। এই দুর্ঘটনার অব্যবহিত পরেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে উক্ত হাসপাতালে চক্ষু সেবা কার্যক্রম ৭ই মার্চ থেকে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। ইম্প্যাক্ট ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ সব সময় সবার আগে রোগীর স্বার্থের কথা চিন্তা করে, তাই কোন ধরনের কাল-বিলম্ব না করে ভুক্তভোগী সকল রোগীর তড়িৎ উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে এবং যে ২০জন রোগীর চোখে জটিলতা (কমপ্লিকেশন) হয়েছে এই সকল রোগীর চিকিৎসার জন্য যাবতীয় ব্যয় যেমন, ঢাকায় যাতায়াত (একজন সাহায্য কারী অ্যাটেন্ড্যান্টসহ), থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা, হাসপাতালে ভর্তি, অস্ত্রোপচার ও ঔষধ-পত্রের সার্বিক দায়িত্ব নেয়া হয়েছে এবং যথাযথভাবে পালন করা হচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করা হবে। ইম্প্যাক্ট গভীরভাবে উপলব্ধি করে যে, উক্ত রোগীদের যে ক্ষতি হয়েছে তা কোনভাবেই অর্থ দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়, তারপরও মানবিকতার তাড়নায় এই রোগীদের কাছে অস্ত্রোপচার চার্জ বাবদ যে সামান্য পরিমান টাকা নেয়া হয়েছিল (সর্বোচ্চ তিন হাজার টাকা), তাও এর মধ্যে ফেরৎ দেয়া হয়েছে। এখানে উল্লেখ্য যে, অস্ত্রোপচার পরবর্তী চিকিৎসা বাবদ প্রতি রোগীর পিছনে এখন পর্যন্ত আমাদের প্রায় ৩৩ হাজার টাকার বেশী খরচ হয়েছে এবং আগামীতে তাদের এই সম্পর্কিত চিকিৎসা বাবদ যাবতীয় খরচও বহন করা হবে। যে ২০জন রোগীর চোখে জটিলতা হয়েছে তাদের জন্য ইম্প্যাক্ট অত্যন্ত মর্মাহত ও ব্যাথিত এবং বিষয়টি সর্বাধিক মানবিক বিবেচনায় দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের অনাকাঙ্খিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে ইম্প্যাক্ট-এর নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। উল্লিখিত বিষয়টিকে পুঁজি করে যাতে কেউ গরীব রোগীদের চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত করতে না পারে, সে বিষয়ে খেয়াল রাখার জন্য সচেতন নাগরিকের নিকট বিনীত অনুরোধ জানানো হচ্ছে। পরিচালক, ইম্প্যাক্ট ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)