আজ মধ্যরাতে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শেষ : সুষ্ঠু ভোটগ্রহণে শঙ্কা!

আপলোড তারিখঃ 2018-03-27 ইং
আজ মধ্যরাতে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শেষ : সুষ্ঠু ভোটগ্রহণে শঙ্কা! ছবির ক্যাপশন:
জীবননগর উপজেলার তিন ও আলমডাঙ্গার দুই ইউপি নির্বাচনের ভোটগ্রহন আগামী ২৯ মার্চ সোহেল রানা ডালিম/ফেরদৌস ওয়াহিদ:আসন্ন জীবননগর উপজেলার তিন ইউপি ও আলমডাঙ্গা উপজেলার দুই ইউপি নির্বাচনের ভোটগ্রহন আগামী ২৯ মার্চ বৃহস্পতিবার। জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ, বাঁকা ও রায়পুর এবং আলমডাঙ্গা উপজেলার নাগদাহ ও আইলহাঁস ইউপি নির্বাচনের আজ মধ্যেরাতেই শেষ হচ্ছে প্রচার-প্রচারণা। ইউপি নির্বাচনের আর মাত্র বাকি দুই দিন। যতই দিন ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে ভোটের হিসেব-নিকেষ। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অফিস, বাজার, হোটেল পাড়া-মহল্লার চায়ের দোকানসহ ঘরোয়া আড্ডাতেও এখন চলছে ভোটের হিসেব কষাকষি। ভোট নিজেদের পাল্লায় নিতে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সাথে জামায়াতে ইসলামীর চেয়ারম্যান প্রার্থীরাও। তবে আজ মঙ্গলবার মধ্যরাতেই শেষ হচ্ছে ইউপি নির্বাচনের প্রচার-প্রচরণা। তাই যে যার মত পারছে দিনটাকে কাজে লাগিয়ে খুব জোরেসারে নির্বাচনের প্রচার প্রচরণা চালাচ্ছে। এ দিকে নির্বাচনে জয় লাভ করার জন্য বিশেষ করে বড় তিন দল আওয়ামীলীগ, বিএনপি ও জামায়াত ইসলামীর প্রার্থীরা ভোটারদের নানা রকম প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তবে বিগত ৫ বছরে পাওয়া-না পাওয়ার ও যোগ্য প্রার্থীকে ভোট প্রদান করার হিসেব কষছে সাধারণ ভোটাররা। এখানে প্রতীকের চেয়ে ব্যক্তি ইমেজটাই অধিকাংশ ভোটারদের কাছে গুরুত্ব পাচ্ছে বলে একাধিক ভোটারের সাথে কথা বলে জানা গেছে। এদিকে, বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচার-প্রচরণায় বাধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে। জানা যায়, আসন্ন ২৯ মার্চ নির্বাচনে পাঁচ ইউপিতে মোট ৬১ হাজার ১৩৯ জন ভোটার ভোট প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩০ হাজার ৬৫৮ জন এবং নারী ভোটার ৩০ হাজার ৪৭৮ জন। নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার পাঁচটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বর্তমানে ৫টি চেয়ারম্যান পদে ২১ জন, ১৫টি সংরক্ষিত সদস্য পদে ৫২ জন এবং ৪৫টি সাধারণ সদস্য পদে ২’শ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী করছেন। প্রার্থীরা হলেন, আলমডাঙ্গার নাগদাহ ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আবুল কালাম আজাদ (আওয়ামী লীগ-নৌকা), আবুল হোসেন (মোটর সাইকেল,আ’লীগ-বিদ্রোহী), মকলেছুর রহমান জোয়ার্দ্দার (বিএনপি-ধানের শীষ), স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান দারুস সালাম (আনারস, জামায়াত), আলমগীর হোসেন (ঘোড়া- প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছেন) ও জাহাঙ্গীর আলম (গোলাপফুল, জাকের পার্টি) প্রতিদ্বন্দ্বী করছেন। এই ইউপিতে ৩টি সংরক্ষিত সদস্য পদে ১৩ জন এবং ৯টি সাধারণ সদস্য পদে ২৭ জন নির্বাচনে লড়ছেন। আইলহাঁস ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে অ্যাড. আব্দুল মালেক (আওয়ামী লীগ-নৌকা), রকিবুল হাসান (আনারস, আ’লীগ-বিদ্রোহী), আব্দুল ওয়াহাব (বিএনপি-ধানের শীষ) এবং বর্তমান চেয়ারম্যান মিনাজ উদ্দীন বিশ্বাস (চশমা, বিএনপি-বিদ্রোহী) প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। এই ইউপিতে ৩টি সংরক্ষিত সদস্য পদে ১০জন এবং ৮টি সাধারণ সদস্য পদে ২৫ জন নির্বাচনে লড়ছেন। ৩নং ওয়ার্ডে ১ জন প্রার্থী মনেয়নয়নপত্র প্রত্যাহার করায় আবু হানিফ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বী বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। জীবননগরের বাঁকা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আব্দুল কাদের প্রধান (আওয়ামী লীগ-নৌকা), আবুল কাশেম মুন্সী (বিএনপি-ধানের শীষ) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হাফিজুর রহমান (মোটর সাইকেল) প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। এই ইউনিয়নে ৩টি সংরক্ষিত সদস্য পদে ৯ জন এবং ৯টি সাধারণ সদস্য পদে ৫২ জন নির্বাচনে লড়ছেন। নির্বাচনে বর্তমান চেয়ারম্যান বাবলুর রহমান নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন না। হাসাদহ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে রবিউল ইসলাম (আওয়ামী লীগ-নৌকা), মো. সোহরাব বিশ্বাস (চশমা, আ’লীগ-বিদ্রোহী), কামাল উদ্দীন সিদ্দীকী (বিএনপি-ধানের শীষ) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান সিরাজুল হক (আনারস, জামায়াত) নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। এই ইউপিতে ৩টি সংরক্ষিত সদস্য পদে ১৩ জন এবং ৯টি সাধারণ সদস্য পদে ৫৮ জন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। রায়পুর উনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বর্তমান চেয়ারম্যান তাহাজ্জত হোসেন (আওয়ামী লীগ-নৌকা), আব্দুর রশীদ শাহ (আনারস, আ.লীগ-বিদ্রোহী), মতিয়ার রহমান (বিএনপি-ধানের শীষ) ও স্বতন্ত্র মোহাম্মদ আলী (মোটর সাইকেল, জামায়াত) প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। এই ইউপিতে ৩টি সংরক্ষিত সদস্য পদে ৭ জন এবং ৯টি সাধারণ সদস্য পদে ৩৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। এদিকে, বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় বাধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে। পোস্টার, ব্যানার ছেড়াসহ ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যেয়ে হুমকি-ধামকি দেয়ারও অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ সমর্থিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর বিরুদ্ধে। জীবননগর উপজেলার বাঁকা ইউপি নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাওলানা হাফিজুর রহমান অভিযোগ তুলে বলেন, আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নেতাকর্মিরা ও সমর্থকরা তার নির্বাচনী কাজে বাধা প্রদান করছে। নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় তার দলীয় নেতাকর্মিদের উপস্থিতিতে প্রকাশ্য তাকে বাধা প্রদান এবং গালিগালাজ করছে। এমনকি ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যেয়ে নৌকা প্রতীকে ভোট দেয়ার জন্য হুমকি প্রদান করে আসছে। এ অবস্থায় তিনি সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। একই অভিযোগ করলেন বিএনপির দলীয় প্রার্থী আবুল কাশেম মুন্সী। তিনি বলেন, ক্ষমতাশীন দলের প্রার্থী ও তার অনুসারীরা প্রতিনিয়ত জীবননগরসহ বাইরে থেকে নেতাকর্মি নিয়ে নির্বাচনী প্রচার প্রচারনা করলেও কোন অপরাধ নেই। আমরা দুই থেকে তিনটি মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরলেই তারা আমাদের হুমকি ধামকি প্রদান করছে। এমনকি আমরা যাতে কোন ভোটারদের নিকট ভোট চেতে না পারি সে জন্য আমাদের কর্মিদের মামলা হামলার ভয়ভীতি প্রদান করছে। অপরদিকে, বাঁকা ইউপি নির্বাচন নিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে একটি আতঙ্ক বিরাজ করছে। আদৌও কি নির্বাচন সুষ্ঠ হবে না কি ভোট ছিনতাই হবে এ নিয়ে এলাকাবাসীল মধ্যে বিরুপ মতভেদ দেখা দিয়েছে। তবে যদি সুষ্ঠ নির্বাচন হয় তা হলে ত্রিমুখী লড়াই হওয়ার সম্ভবনা হবে বলে তাদের ধারনা।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)