ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গায় ডিজিটাল প্রযুক্তির সর্বজনীন ব্যবহার ও মুক্তিযুদ্ধ শীর্ষক সভায় হুইপ ছেলুন এমপি
নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গায় সুখি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে ডিজিটাল প্রযুক্তির সর্বজনীন ব্যবহার ও মুক্তিযুদ্ধ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ৭টার সময় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শিল্পকলা একাডেমি’র ম্ক্তুমঞ্চে এ সভা ও সঙ্গীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সাংসদ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলাইমান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটা রাজনৈতিক দলকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় রাজনীতি করতে হবে। তাছাড়া এদেশে রাজনীতি করার কোন অধিকার তাদের নেই। কারো করুনাতে এ দেশ স্বাধীন হয়নি। এ দেশ স্বাধীন হয়েছে ত্রিশ লাখ শহীদ, দুই লাখ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময় এবং সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে। একজন কর্মি হিসেবে রাজনীতি শুরু করা বঙ্গবন্ধু সে সময় পাকিস্তানিদের বৈষম্যমূলক আচরণ মেনে নেননি। পাকিস্তানের জনগনের ৫৬ ভাগ বাঙালি হওয়ায় তিনি অর্থনৈতিক উন্নয়ন, চাকুরীসহ প্রতিটা ক্ষেত্রে এই ৫৬ ভাগ দাবী করতেন বাঙালিদের জন্য। তিনি সর্বদা বাঙালি জাতির অধিকার আদায়ের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে ছিলেন। তার সেই বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারনে বাঙ্গালি জাতি একত্রিত হয়ে এ দেশকে শত্রুমুক্ত করেছে। এই স্বাধীন দেশে বিএনপিকেও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাই রাজনীতি করার পরামর্শ দেন তিনি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রির বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক অর্থনৈতিক, সামাজিক প্রতিটা ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনেক অগ্রগতি হয়েছে। সাম্প্রতিক উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় নাম লিখিয়েছে উল্লেখ করে বলেন, যারা ২১ ফেব্রুয়ারী, ২৫ মার্চ, ২৬ মার্চ, ১৬ ডিসেম্বর মানে না। তারা এ দেশের স্বাধীনতা বিশ্বাস করে না। এসকল রাজাকার আলবদর আল্সামসদের প্রতি হুশিয়ার থাকতে হবে তারা যেন পূণরায় বাংলাদেশের ক্ষতি সাধন করতে না পারে।
তিনি আরও বলেন, কিছু কিছু মানুষ হকারী, স্ট্যার্টারী করেও এখন সাংবাদিক হয়ে গেছে। সঠিক তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে সংবাদ উপস্থাপন করার কথা বলেন হুইপ। এছাড়াও সাংবাদিকতা পেশাকে ব্যক্তি স্বার্থের উর্ধে রাখার পরামর্শদিয়ে বলেন, একটা সময় এ জনপদ ছিলো সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য। বিকালের পর এ অঞ্চলের মানুষ বাইরে থাকতে পারেনি। সে সময় এসকল সন্ত্রাসীদের কাছে মানুষ হত্যা করা ছিলো মামুলি ব্যাপার। সেই সন্ত্রাস কবলিত জনপদকে মুক্ত করার জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি। অনেক কষ্ট করে তখনকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাসিমের মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করা হয়েছে এ সকল সন্ত্রাসীদের। ঠিক তখনি এধরনের হকারী, স্টাটারী করা সাংবাদিকরা আমার বিরুদ্ধে পত্রিকায় বড় বড় অক্ষরে হেড লইন করলেন ছেলুন সাহেব এসকল সন্ত্রাসীদের পুষতো। তার ইচ্ছাই এসকল সন্ত্রাসীরা আতœসমর্পণ করেছে। আবার আজ আমাদের জেলা প্রশাসক এসকল সাংবাদিকদের দাওয়াত করে ভুড়িভোজ করান।
বর্তমান যুবসমাজ যারা রাজনীতির সাথে জড়িত তাদেরকে বাংলাদেশের ইতিহাসের বই পড়ার পরামর্শ দিয়ে হুইপ ছেলুন এমপি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস জানতে হবে। তারপর রজনীতি করতে হবে। যারা এ দেশের ভালই চাইনি সেই সকল অপশক্তি রাজাকার আলবদর আল্সামস স্বপরিবারে হত্যা করেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। তার পর দীর্ঘ ২১ বছর রাষ্ট্র ক্ষমতার বাইরে ছিলো আওয়ামী লীগ। এই দীর্ঘ সময়ে বাংলাদেশকে অনেক পিছনে নেওয়া হয়েছে। কারণ তারা সেই পাকিস্থানীদের দোষর ছিলো। এই দীর্ঘ সময়ে এ অঞ্চলের ব্যবাসায়ী, চাকুরী জীবি রাজনৈতিক ব্যাক্তি এমনকি কৃষকদেরকেও চাঁদা দিতে দিতে মাজা বেকা হয়ে গিয়েছে। এসময় তিনি চ্যালেঞ্জ করে বলেন, বর্তমানে কেউ বলতে পারবে না আওয়ামী লীগের কোন কর্মী চাঁদাবাজী করে। বর্তমান সরকার দেশের উন্নয়ন করছে জানিয়ে এসময় তিনি আরো বলেন, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক,শিক্ষা স্বাস্থ রাস্তা ঘাট ব্রীজ রেল পথ প্রতিটা ক্ষেত্রে উন্নয়নের মহাসড়কে আছে বাংলাদেশ। এই উন্নয়রে ধারা অব্যাহত রাখতে হলে পূণরাই শেখ হাসিনার সরকারকে ক্ষমতায় আনতে হবে। তা না হলে এ উন্নায়ন বাধা গ্রস্থ হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান পিপিএম, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার মেয়র ওবাইদুর রহমান চৌধুরী জিপু, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (ডিডিএলজি) সৈয়দ ফারুক আহমদ, অবসরপ্রাপ্ত সুবেদর মেজর খোন্দকার সাইদুর রহমান বীর প্রতীক। চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুন্সি আবু সাইফ এর ছন্দময়ী সঞ্চালনায় এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক আব্দুর রাজ্জাক, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসীমুল বারী প্রমুখ। এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন কালেক্টরেট মসজিদের ইমাম কবির আহম্মেদ। পরে স্থানীয় শিল্পিদের পরিবেশনায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
