আসন্ন জীবননগর উপজেলার তিন ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের ভোটগ্রহন আগামী ২৯ মার্চ
মিঠুন মাহমুদ/শাকিল হাসান: আগামী ২৯ শে মার্চ জীবননগর উপজেলার হাসাদহ, রায়পুর ও বাঁকা ইউনিয়ন পরিষদের একযোগে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বাঁকা উইনিয়ন পরিষদ নির্বাচরেন ইতোমধ্যেই প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা শুরু করলেও আ.লীগের দলীয় প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে অন্য প্রার্থীর নির্বাচনী কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ২০১৭ সালের হালনাগাকৃত এ ইউনিয়নের ভোটার সংখ্য ১৩ হাজার ৩’শ ৭০ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ হাজার ৬’শ ৬৫জন এবং নারী ভোটার ৬ হাজার ৭’শ ৫জন।
এদিকে আগামী ২৯মার্চ বাঁকা ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির দলীয় প্রতীক ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে আবুল কাশেম মুন্সী ও জামায়াত সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী মাওলানা হাফিজুর রহমান মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে এবং এ ইউনিয়নে ক্ষমতাশীন দলের কোন স্বতন্ত্র প্রার্থী না থাকায় এ ইউনিয়নে ক্ষমতাশীন দল আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক নৌকা নিয়ে নির্বাচন করছেন জীবননগর থানা আওয়ামী লীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক আব্দুল কাদের প্রধান। বাঁকা ইউপি নির্বাচনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী ও জামায়াতের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা করতে পারছেনা বলে অভিযোগ তোলেন আ.লীগের প্রার্থী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে।
এ ব্যাপারে জামায়াতের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মাওলানা হাফিজুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, যারা নির্বাচনে অংশগ্রহন করেছে তারা যদি নির্বাচনে কোন প্রচার প্রচারণা করতে না পারে তা হলে কিভাবে নির্বাচন করা সম্ভব? তিনি আরো বলেন, আমি এবং আমার সাথে থাকা আমার কয়েক জন কর্মি নিয়ে ভোটারদের নিকট যায়। এ সময় সোন্দাহ গ্রামের তোফাজ্জেল হোসেনের ছেলে ক্ষমতাশীন দলের কর্মি করিক আমার এবং আমার সাথে থাকা আমার কর্মিদের গালিগালাজ করতে থাকে এবং নির্বাচনে কোন ভোটারদের নিকট যাতে ভোট চেতে না যায় সে জন্য আমাকে হুমকি ধামকি প্রদান করে। এমন কি আমার নির্বাচনী প্রতীক মোটরসাইকেলের প্রচারের জন্য যে গাড়ি দেওয়া হয়েছে সেই গাড়ির ড্রাইভারকে প্রচার করতে নিষেধ করে। তাদের এ আচরণে নির্বাচন সুষ্ঠভাবে হওয়া নিয়ে আমরা আতঙ্কে আছি।
একই অভিযোগ করলেন বিএনপির দলীয় প্রার্থী আবুল কাশেম মুন্সী। তিনি বলেন, ক্ষমতাশীন দলের প্রার্থী ও তার অনুসারীরা প্রতিনিয়ত জীবননগরসহ বাইরে থেকে নেতাকর্মি নিয়ে নির্বাচনী প্রচার প্রচারনা করলেও কোন অপরাধ নেই। আমরা দুই থেকে তিনটি মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরলেই তারা আমাদের হুমকি ধামকি প্রদান করছে। এমনকি আমরা যাতে কোন ভোটারদের নিকট ভোট চেতে না পারি সে জন্য আমাদের কর্মিদের মামলা হামলার ভয়ভীতি প্রদান করছে।
অপরদিকে, বাঁকা ইউপি নির্বাচন নিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে একটি আতঙ্ক বিরাজ করছে। আদৌও কি নির্বাচন সুষ্ঠ হবে না কি ভোট ছিনতাই হবে এ নিয়ে এলাকাবাসীল মধ্যে বিরুপ মতভেদ দেখা দিয়েছে। তবে যদি সুষ্ঠ নির্বাচন হয় তা হলে ত্রিমুখী লড়াই হওয়ার সম্ভবনা হবে বলে তাদের ধারনা। এ ব্যাপারে বাঁকা ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল কাদের প্রধান বলেন, আমি কাওকে হুমকি ধামকি কেন দেব আমি দীর্ঘদিন যাবৎ আওয়ামী লীগ দল করি। গতবার নির্বাচনে সীমিত ভোটের ব্যবধানে আমি পরাজয় করি এবং এলাকায় আমার একটি প্রভাব আছে তা ছাড়া দলীয় সভানেত্রী আমাকে যোগ্য প্রার্থী হিসাবে দলীয় প্রতিক নৌকা দিয়েছে। আমি আশাবাদি আমি নির্বাচনে অবশ্যই জয়লাভ করবো। এ বিষয়ে জীবননগর উপজেলা নির্বাচন অফিসার মোতাওয়াক্কিল হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাঁকা ইউপি নির্বাচন যে ধরনের অভিযোগ উঠেছে আমাদের কাছে তেমন কোন লিখিত অভিযোগ নেই তবে অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নিব।
