ছড়াচ্ছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা : রাজনীতিতে ফের সন্ত্রাসীদের কদর

আপলোড তারিখঃ 2018-03-23 ইং
ছড়াচ্ছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা : রাজনীতিতে ফের সন্ত্রাসীদের কদর ছবির ক্যাপশন:
ডেস্ক রিপোর্ট : ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর দেশের রাজনীতিতে অপরাধ জগতের ডন ও তাদের সহযোগীদের কদর প্রায় শূন্যের কোটায় এসে ঠেকলেও এ ধারায় ফের উল্টো শ্রোত বইতে শুরু করেছে। বিশেষ করে জাতীয় একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোনয়নপ্রত্যাশী অনেকেই এখন পেশাদার সন্ত্রাসীদের দলে ভিড়ানোর চেষ্টায় মরিয়া হয়ে উঠেছেন। এদের কেউ কেউ আবার কারাবন্দি গডফাদারদের জামিনে মুক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। এ অবস্থায় নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার মাঠ ও ভোটের দিনের নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি খোদ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাঝেও উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছড়াচ্ছে। এদিকে জাতীয় রাজনীতিতে ফের সন্ত্রাসীদের কদর বাড়ার বিষয়টি অভিজ্ঞ রাজনীতিকরা ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখছেন। তাদের ভাষ্য, রাজনীতিতে গণতন্ত্রের ঘোর সংকট দেখা দেয়ায় ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দল দু’পক্ষই ‘ক্যাডার পলিটিক্সে ঝুঁকেছে। প্রভাবশালী নেতারা জনসমর্থন ছাড়াই শুধু পেশিশক্তিতে নির্বাচনী বিজয় ছিনিয়ে আনতে চাইছে। রাজনীতিতে গণতন্ত্রের কোণঠাসা দশা সহসাই না কাটলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে এ পালস্না আরও জোরদার হবে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে খুনোখুনি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা জানান, গত বছরের শেষভাগ থেকে আকস্মিক সন্ত্রাসীদের রাজনৈতিক দলে ভেড়ানোর তৎপরতা বাড়ছে। এমনকি ক্যাডার পলিটিক্স থেকে পুরোপুরি দূরে থাকা ক্লিন ইমেজের নেতারাও এখন একই পথে এগোচ্ছেন, যা তাদের জন্য চরম উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিষয়টি তারা শীর্ষ প্রশাসনকেও অবহিত করেছেন। এদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও প্রধান বিরোধী দল বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী অনেক প্রার্থীই দলে পেশাদার সন্ত্রাসীদের ভেড়ানোর কথা দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করলেও ক্লিন ইমেজের কেউ কেউ তা স্বীকার করেছেন। তাদের ভাষ্য, দেশে গণতান্ত্রিক রাজনীতির চর্চা পুরোপুরি উঠে যাওয়ায় সবাই এখন ‘বিজয় মুকুটকে’ সর্বোচ্চ প্রাধন্য দিচ্ছেন। আর তা অর্জনের জন্য যে কোনো ধরনের নোংরামিতে জড়াচ্ছেন। পরিস্থিতি বর্তমানে এ পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী ছাড়া নির্বাচনে জয়লাভ দূরে থাক, প্রচার-প্রচারণা চালানোও হয়তো সম্ভব হবে না বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন ক্লিন ইমেজের একাধিক রাজনীতিক নেতা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সম্ভাব্যপ্রার্থী বলেন, অপরাধ জগতের ডন থেকে মাত্র কয়েক বছর আগে রাজনীতির খাতায় নাম লেখানো তার দলেরই একজন নেতা নিজেই নিজেকে দলীয় প্রার্থী দাবি করে আগাম নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। তার ক্যাডাররা এলাকায় নিয়মিত অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে মহড়া দিচ্ছে। অথচ দলের অন্য নেতারা ভয়ে মুখে কুলুপ এঁটে রয়েছেন। এ অবস্থায় তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতে প্রতিপক্ষও দলে সন্ত্রাসীদের টানছেন। এমন একই পরিবেশ-পরিস্থিতি এখন সব জায়গায় বিরাজমান। তার এ দাবি যে অমূলক নয়, সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার বিপুল সংখ্যক মাঠকর্মকর্তারা নিঃসংকোচে তা স্বীকার করেন। তারা জানান, আওয়ামী লীগ প্রথম টার্মে ক্ষমতায় আসার পর রাজনীতিতে সন্ত্রাসীদের কদর কমতে শুরু করে। যা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর দ্রুত শূন্যের কোটায় এসে ঠেকে। এ পরিস্থিতিতে অপরাধ জগতের আধিপত্য টিকিয়ে রাখতে শীর্ষসন্ত্রাসীদের অনেকেই তাদের সহযোগীদের নিয়ে দলেবলে রাজনীতির খাতায় নাম লেখান। তাদের কেউ কেউ আবার ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ সংগঠনের গুরম্নত্বপূর্ণ পদও বাগিয়ে নেন। যাদের বেশিরভাগই এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। এ অবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই একই আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী অপর নেতারাও দলে সন্ত্রাসী বহর বাড়ানোর দিকে ঝুঁকেছেন। একাধিক জেলার ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, রাজনৈতিক দলে নতুন করে সন্ত্রাসীদের কাছে টানার প্রবণতা এতটাই বেড়েছে যে, চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের যাকেই পুলিশ গ্রেপ্তার করছে, তাকেই কোনো না কোনো নেতা নিজ দলের কর্মী হিসেবে দাবি করছেন। অথচ একই দলের প্রতিপক্ষ নেতা ওই সন্ত্রাসীদের অপরাধমূলক কর্মকান্ডের চিত্র পুলিশের কাছে তুলে ধরছেন। ক্ষমতাসীন দলের দু’নেতার দু’ধরনের বক্তব্যে পুলিশ বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ছে বলে দাবি করেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে সন্ত্রাসীদের কদর বাড়ার বিষয়টি তারা নিজেরাও অনেকে স্বীকার করেছেন। বিদেশে আত্মগোপনে থাকা রাজধানীর একজন শীর্ষসন্ত্রাসীর প্রধান সহযোগী জানান, ক্ষমতাসীন দলের একই আসনের একাধিক নেতা তাদের হয়ে কাজ করার জন্য ‘অফার’ দিয়েছেন। তবে তারা সবদিক ভেবেচিন্তে দেখবে যে কোনো একজনের পক্ষ নেবেন। নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালানোর কাজে সম্পৃক্ত থাকার কথা বলে তাদের দলে টানার প্রস্তাব দেয়া হলেও তাদেরকে মূলত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে পেশিশক্তিতে দমিয়ে রাখার জন্যই নেয়া হচ্ছে বলে স্বীকার করেন সন্ত্রাসী দলের ওই সেকেন্ড-ইন-কমান্ড। রাজনীতিতে নতুন করে অপরাধ জগতের ডনদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির বিষয়টি স্বীকার করে বিএনপির প্রথম সারির একজন নেতা জানান, তার আসনেই এ নিয়ে যেভাবে দর কষাকষি শুরু হয়েছে তাতে তিনি নিজেই আতঙ্ক বোধ করছেন। এ পরিস্থিতি থাকলে আগামী নির্বাচনে তিনি অংশ নেবেন না দাবি করে ওই নেতা বলেন, ‘কোটি কোটি টাকা সন্ত্রাসীদের পেছনে ঢেলে ভোটবাক্স ছিনিয়ে নিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার কোনো মানে হয় না।’

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)