মৃন্ময়ের তিনদিনেও সন্ধান মেলেনি : শোকের ছায়া

আপলোড তারিখঃ 2018-03-21 ইং
মৃন্ময়ের তিনদিনেও সন্ধান মেলেনি : শোকের ছায়া ছবির ক্যাপশন:
রাজশাহী পদ্মায় বেড়াতে গিয়ে বিপত্তি : নিখোঁজ দামুড়হুদার মেধাবীছাত্র দামুড়হুদা প্রতিনিধি: রাজশাহী নগরীর চরশ্রীরামপুর এলাকায় পদ্মায় নৌকা করে বন্ধু-বান্ধবদের গত ১৮ মার্চ রোববার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে ঘুরতে গিয়ে নৌকা থেকে পা ফসকে পানিতে ডুবে নিখোঁজ দামুড়হুদা উপজেলা সদরের দশমীপাড়ার মহাসিন আলী ওরফে মহাসিন দর্জির ছেলে রাজশাহী মডেলস্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ (বিজ্ঞান) শ্রেণির মেধাবী ছাত্র আসিফ আল মাসুদ মৃন্ময়ের (১৮) এখনও পর্যন্ত কোন সন্ধান মেলেনি। পানিতে ডুবে নিখোঁজের ৩য় দিন গতকাল মঙ্গলবারও রাজশাহী সদর ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরিদল দিনভর উদ্ধার অভিযান চালালেও শেষমেশ তার সন্ধান মেলাতে পারেনি। এদিকে কলেজছাত্র মৃন্ময় রাজশাহী পদ্মায় ডুবে নিখোঁজের ঘটনায় পরিবারে যেমন নেমে এসেছে শোকের মাতম। তেমনই দামুড়হুদা বাসীর মাঝেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পদ্মায় ডুবে ছেলে নিখোঁজের সংবাদ পেয়ে দামুড়হুদা থেকে রাজশাহী নগরীর চরশ্রীরামপুর এলাকায় পদ্মা পাড়ে ছুটে যায় মৃন্ময়ের পিতা-মাতা, ভাই-বোন, মামা. চাচাসহ নিকট আতœীয় অনেকেই। কিন্তু গত ৩ দিনেও তার কোন সন্ধান না পাওয়ায় হতাশ পরিবারের অনেকেই বাড়ি ফিরলেও ফিরতে পারেনন নি মৃন্ময়ের পিতা-মাতা। গত ১৮ মার্চ রোববার এই ঘটনার পর সংবাদ পেয়ে রাজশাহী নগরীর মতিহার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ঘটনার বিস্তারীত খোজ খবর নেন। এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নৌকার মাঝিসহ ৬ জনকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে থানা থেকে মৃন্ময়ের সহপাঠি ৫ বন্ধু-বান্ধব ও মাঝিকে তাদের পরিবারের হেফাজতে জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। তবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা পুলিশের কাছে কোন তথ্য দিয়েছে কিনা তা জানা সম্ভব হয়নি। পুলিশ বলছে তদন্তেরস্বার্থে এখন কোন তথ্য দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। পদ্মায় নৌকা থেকে পড়ে নিখোঁজ মৃন্ময়ের পিতা মহাসিন আলী বাদি হয়ে ঘটনার বিষয়টি উল্লেখ করে ঘটনার সাথে জড়িত ছেলের দুই বন্ধু, ৩ বান্ধবী ও নৌকার মাঝির নাম দিয়ে মতিহার থানায় একটি সাধারণ ডায়রী (জিডি) করেছে। গতরাত ১০ টার দিকে মোবাইলে কথা হয় নিখোঁজ মৃন্ময়ের মামা রাজশাহী কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহকারী প্রভাষক আব্দুল মালেকর। তিনি জানান ভাগ্নেকে মৃত. অথবা জীবিত ফিরে পেতে আজ ৩ দিন (রাত-দিন ২৪ ঘন্টা) কখনও নদীর পাড়ে কখনও নৌকা নিয়ে নদীর বিভিন্ন কিনারে কখনও মাঝ নদীতে খুজে বেড়াচ্ছি। বিভিন্ন মাধ্যমে ভারতের অভ্যান্তরেও খোঁজ নিচ্ছি সেখানের নদীতে কোন জীবিত বা মৃত যুবকে ভাসতে দেখা যাচ্ছে কিনা। কিন্তু এখনও পর্যন্ত আমরা মৃন্ময়ের কোন সন্ধান পেলাম না। মৃন্ময়ের পানিতে পড়ে ডুবে যাওয়াটা নিছকই কোন দুর্ঘটনা, নাকি এর পিছনে অন্যকোন রহস্য আছে এমন সন্দেহ নিয়ে পুলিশ যেমন তদন্ত কাজ শুরু করেছে। তেমনই মৃন্ময়ের আব্বা-মা কখনও ছুটে যাচ্ছে তার হোষ্টেলে, কখনও ছুটে যাচ্ছে তার বন্ধু-বান্ধবদের কাছে। তার ভাগ্যে কী ঘটেছে এবং কিভাবে ঘটেছে তা এখনও অনেকটাই অ¯পষ্ট। নৌকার মাঝি রকি জানান, নৌকার সামনের মাথায় দাড়িয়ে ছবি তুলছিল। এ সময় পা ফসকে পানিতে পড়ে যায়। দুই ছাত্রসহ তিনি পানিতে নেমে তাকে তুলতে চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুই ছাত্রের মধ্যে একজন সাঁতার জানে না। তাকে রক্ষা করতে গিয়ে মৃন্ময় পানিতে তলিয়ে যায়। পরে পাড়ে এসে দমকল কর্মীদের খবর দেয়া হয় বলে জানান রকি। উল্লেখ্য, রাজশাহী মডেলস্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র দামুড়হুদা দশমীপাড়ার মহাসিন দর্জির ছেলে আসিফ আল মাসুদ মৃন্ময়সহ ৬ শিক্ষার্থী গত রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পদ্মা নদীতে বেড়াতে যায়। এদের মধ্যে ৩জন ছাত্র ও ৩জন ছাত্রী ছিলো। তারা পদ্মা নদীর টি বাঁধ এলাকা থেকে একটি নৌকা ভাড়া নিয়ে রাজশাহীর চরশ্রীরামপুর অঞ্চলে পদ্মা নদীর মধ্যচরের বাঁধ এলাকায় ঘুরছিলো। এরই একপর্যায়ে সে নৌকা থেকে পড়ে পানিতে ডুবে যায়। খবর পেয়ে রাজশাহী সদর ফায়ার সার্ভিসের সাত সদস্যের একটি দল দুপুর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোঁজাখুঁজি করলেও তার হদিস মেলাতে পারেনি। গত সোমবার ও মঙ্গলবার সকাল থেকে ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরীদল পুনরায় উদ্ধার অভিযান শুরু করলেও কোন সন্ধান মেলাতে পারেনি। মৃন্ময় নৌকার মাথায় দাঁড়িয়ে সেলফি তুলতে গিয়ে পা ফঁসকে নৌকা থেকে পড়ে ডুবে যায় বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গেলেও তা নিয়ে পরিবারে সদস্যদের মাঝে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। সে নগরের একটি ছাত্রবাসে থেকে লেখাপড়া করতো।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)