দৃষ্টিশক্তি হারাতে বসেছে ২০ রোগী : দ্বায়ভার নিয়েছে কর্তৃপক্ষ : অনুসন্ধানে আইসিডিডিআরবি টিম

আপলোড তারিখঃ 2018-03-21 ইং
দৃষ্টিশক্তি হারাতে বসেছে ২০ রোগী : দ্বায়ভার নিয়েছে কর্তৃপক্ষ : অনুসন্ধানে আইসিডিডিআরবি টিম ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা ইম্প্যাক্ট মাসুদুল হক হাসপাতালে চক্ষু অপারেশন পরবর্তী পোস্ট অপারেটিভ ইনফেকশনে বিশেষ প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গায় ইম্প্যাক্ট মাসুদুল হক হাসপাতালে চোখের ছানি অপারেশন করে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাবার বদলে ২০ রোগীর চিরতরে দৃষ্টিশক্তি হানির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অপারেশন পরবর্তী পোস্ট অপারেটিভ ইনফেকশনের কারণে এ সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে জানা যায়। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দ্বায় না এড়িয়ে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা ভারগ্রহণসহ ইনফেকশনের কারণ অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ৪, ৫ ও ৬ মার্চ তিনদিনে ৬০ জন রোগী চোখের ছানি অপারেশনের জন্য এই হাসপাতালে আসে। এরমধ্যে ৪ তারিখে ৩৪ জন, ৫ তারিখে ২৪ জন ও ৬ তারিখে ২ জন। ৪ ও ৬ তারিখে ৩৬ জন রোগীর ছানি অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়। কিন্তু ৫ তারিখে যে ২৪ জন রোগীর ছানি অপারেশন করা হয় তার মধ্যে ২০ জন রোগী পোস্ট অপারেটিভ ইনফেকশনে আক্রান্ত হন। ওই সকল রোগীরা অপারেশন শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফেরেন। বাড়ি ফেরার পর থেকে তাদের চোখে জ্বালা-যন্ত্রণা শুরু হয়। এরপর ওই সকল রোগীরা তাদের চোখের সমস্যা নিয়ে আবারো হাসপাতালে আসতে থাকেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই সকল রোগীদের চোখের পরীক্ষা নিরিক্ষা করে পোস্ট অপারেটিভ ইনফেকশনের উপস্থিতি জানতে পেরে আবারো চিকিৎসা নেয়ার জন্য বলেন। পরবর্তীতে ওই ২০ জন রোগীকে স্থানীয় ভাবে ও ঢাকায় নিয়ে গিয়ে আলাদা আলাদা ভাবে চিকিৎসা ও পরামর্শ দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। পোস্ট অপারেটিভ ইনফেকশনে আক্রান্ত (২০ জন) রোগীরা হলেন- আলমডাঙ্গা উপজেলার নতিডাঙ্গার ফাতেমা খাতুন, দামুড়হুদা লক্ষীপুরের তৈয়ব আলী, আলমডাঙ্গা খাসকররার লাল মোহাম্মদ, চুয়াডাঙ্গা গাইদঘাটের গোলজার হোসেন, দামুড়হুদা চিৎলার নবিছদ্দিন, বড়বলদিয়ার আয়শা খাতুন, চুয়াডাঙ্গা আলুকদিয়ার অলি মোহাম্মদ, জীবননগর সিংনগরের আজিজুল হক, দামুড়হুদা কার্পাসডাঙ্গার গোলজান বিবি, আলমডাঙ্গার কবিরন নেছা, চুয়াডাঙ্গা পৌর শহরের স্বর্ণকার পট্টি এলাকার অবনি দত্ত, দামুড়হুদা মদনার মধু হাওলাদার, একই উপজেলার মজলিসপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম, আলমডাঙ্গা এনায়েতপুরের খন্দকার ইয়াকুব আলী, মোড়ভাঙ্গার আহম্মদ আলী, আলমডাঙ্গা রংপুরের ইখলাছ আলী, মধুপুরের আমিমুদ্দিন, হারদির হাওয়াতন নেছা, আলমডাঙ্গা স্টেশন পাড়ার কুটিয়া খাতুন ও দামুড়হুদা সদাবরির হানিফা খাতুন। এ ছাড়াও একই সাথে অপারেশন করা ৪ জন রোগী আলমডাঙ্গা পুটিপাইকপাড়ার উসা রানী, চুয়াডাঙ্গা সদরের গড়াইটুপির হাবিবা খাতুন, দামুড়হুদা দর্শনার রাবেয়া খাতুন ও দর্শনার ফরিদা খাতুন এখন সুস্থ আছেন। এ প্রসঙ্গে বেশ কয়েকজন রোগীর সাথে কথা বলা হলে তারা জানায়, ৫ তারিখ রাতে ইম্প্যাক্ট হাসপাতালে চোখের অপারেশন করানোর পর ২৪ ঘন্টার মাথায় তাদের চোখে জ্বালা পোড়া ও যন্ত্রণা শুরু হয়। এ নিয়ে আবারো হাসপাতালে এসে সমস্যার কথা জানালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের চোখ পরীক্ষা করে। এরপর এখানে চিকিৎসা দেয়া যাবে না জানিয়ে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। তাদের পরামর্শ মোতাবেক অনেককেই ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করাসহ পরীক্ষা নিরিক্ষা করানো হচ্ছে। গত এক সপ্তাহের মধ্যে সকলকেই (২০ জনকে) ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে ইসলামি হাসপাতালের চিকিৎসকদের দিয়ে পরীক্ষা নিরিক্ষাসহ বেশ কয়েক জনকে ভর্তিও রাখা হয়। তবে দৃষ্টিশক্তি হারানোর সদ্ধিহানমুক্ত হতে পারেনি এখনও কোন রোগী। আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী মোড়ভাঙ্গার মৃত জিতু মন্ডলের ছেলে আহম্মদ আলী জানান, তিনিও ৫ মার্চ ইম্প্যাক্ট হাসপাতালে চোখের অপারেশন করান। অপারেশনের পরদিন চোখের ব্যান্ডেজ খুলে দেয়া হয় এবং তাকে ছুটি দিয়ে দেয়া হয়। ওইদিন রাতে তার চোখে জ্বালা যন্ত্রণা শুরু হয়। সকালে আবারো হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে তার চোখ দেখে ও পরীক্ষা নিরিক্ষা করে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। তারা (ইম্প্যাক্ট) নিজ খরচে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে প্রথমে ইসলামী হাসপাতালের বর্হিবিভাগে ভর্তি করে ডাক্টার দেখিয়ে ৬ জায়গায় পরীক্ষা করায়। এরপর সেখানে কোন বেড ফাঁকা না থাকায় মোহাম্মদপুর ভিশন আইকেয়ার হাসপাতালে ৪দিন ভর্তি রাখে। তারপর আবারো ছুটি দিয়ে দেয়া হয় এবং কিছু ওষুধ দেয়া হয়েছে নিয়মিত খাওয়ার জন্য। এখন তার ব্যাথা, জ্বালা, যন্ত্রণার সমস্যা না হলেও চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন বলে জানান তিনি। ইম্প্যাক্ট মাসুদুল হক হাসপাতালের প্রশাসক ডা. শাফিউল কবীর জানিয়েছেন, দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে সেবা দিয়ে আসছে ইম্প্যাক্ট মাসুদুল হক হাসপাতাল। হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পর এটিই প্রথম ও বিরল একটি ঘটনা। অজ্ঞাত এ ঘটনায় ২০ জন রোগীর চোখে একই সমস্যা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে তাদেরকে ইম্প্যাক্ট ফাউন্ডেশনের খরচে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে যথাযথ পরীক্ষা নিরীক্ষাসহ চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তিনি আরো জানান, গত ৪-৬ মার্চ পর্যন্ত ৬০ জনের চোখের ছানি অপারেশন করা হয়েছে। অপারেশন করেন চক্ষু বিশেষজ্ঞ (সার্জন) ডা. মোহাম্মদ শাহীন। গত ৪ মার্চ ৩৪ জনের চোখের অপারেশন করা হয়। কোন সমস্যা ছাড়াই তারা সকলে সুস্থ ও স্বাভাবিক হয়ে উঠেছেন। একই ভাবে পরদিন ৫ মার্চ ২৪ জন ও ৬ মার্চ ২ জনের চোখের অপারেশন করা হয়। এরমধ্যে ৫ মার্চ অপারেশন করা ২৪ জনের মধ্যে ২০ জনের চোখে সমস্যা দেখা দেয়; বাকীরা সকলেই সুস্থ আছেন। অপারেশন পরবর্তী সমস্যার সম্মুখিন হওয়া রোগীদের স্থানীয় ভাবে পরীক্ষা নিরিক্ষা করা হয় এবং পরবর্তীতে ঢাকা ইসলামি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আপাতত তাদের চোখের জীবাণু নিয়ন্ত্রণ (ইনফেকশন কন্ট্রোল) করতে হবে; সে দায়িত্ব ইম্প্যাক্ট সংস্থা নিয়েছে। তারা সকলেই এখন বিপদমুক্ত; তবে কেউ স্বাভাবিক দৃষ্টি ফিরে নাও পেতে পারেন। সমস্যার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, পোস্ট অপারেটিভ ইনফেকশনের কারণে তাদের এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। অপারেশনকালে বা পরবর্তী সময়ে চোখে জীবানুর প্রবেশের কারণেও এ সমস্যা হতে পারে। তবে এর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সৃষ্ট সমস্যার কারণ জানতে ঢাকা আইসিডিডিআরবি’র পরীক্ষাগারে অপারেশন কাজে ব্যবহৃত লেন্স, মেডিসিন ও অন্যান্য সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া আগামী দু’একদিনের মধ্যে তাদের একটি টিম সরেজমিনে এসে অপারেশন থিয়েটারের (ওটি) স্যাম্পুল সংগ্রহ করবে এবং এর সুনির্দিষ্ট কারণ খুজে বের করবে। এরআগে তেমন কিছু বলা যাবে না। এ সকল রোগীদের নিয়ে পরিকল্পনা প্রসঙ্গে ডা. শাফিউল কবীর বলেন, সকলকেই উন্নত চিকিৎসার আওতায় রাখা হয়েছে। একই সাথে নিয়মিত খোঁজখবর রাখা হচ্ছে। এই সকল রোগীদের অধিকাংশই এখনও ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং যারা ফিরে এসেছেন তারা চিকিৎসকের দেয়া সাক্ষাতের সময়সূচী অনুযায়ী আবারো চিকিৎসা নিতে যাবেন। তবে তাদের নিয়ে দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা অনুযায়ী- যাদের একটি চোখ অপারেশন করে এমন সমস্যা হয়েছে পরবর্তীতে তাদের আরো একটি চোখ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অপারেশন করা হবে। যদি অপর চোখটি পূর্বে অপারেশন করা না হয়ে থাকে এবং অপারেশনের সুযোগ থাকে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)