৭৮ কোটি ৩০ লাখ মানুষ নিরাপদ পানি থেকে বঞ্চিত

আপলোড তারিখঃ 2018-03-19 ইং
৭৮ কোটি ৩০ লাখ মানুষ নিরাপদ পানি থেকে বঞ্চিত ছবির ক্যাপশন:
পানি নিরাপত্তায় পিছিয়ে বাংলাদেশ সমীকরণ ডেস্ক: পানি নিরাপত্তা সূচকের বাংলাদেশের অবস্থান কোথায় তা জানে না পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ড। টেকসই উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পানি নিরাপত্তা। অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পানির নিরাপত্তা সূচক তাই তিনটি সাব সূচকের উপর নির্ভর করে। এগুলো হলো- খাদ্য উৎপাদনে পানির নিরাপত্তা, শিল্পপণ্য উৎপাদনে পানির নিরাপত্তা এবং শক্তি উৎপাদনে পানির নিরাপত্তা। এই তিনটির মধ্যে একটিতেও নেই বাংলাদেশের নাম। অথচ খাদ্য নিরাপত্তা, জ্বালানি নিরাপত্তা ও পানি নিরাপত্তা অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।২০২০ সালের মধ্যে সকলের জন্য সরাসরি নিরাপদ খাবার পানির সংস্থান নিশ্চিত করতে চায় বাংলাদেশ। এ জন্য গত ১৪ মার্চ জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে পানি বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের প্যানেলের প্রতিবেদন হস্তান্তর করেছে বাংলাদেশ। আগামী ২২ মার্চ জাতিসংঘ হাই-লেবেল প্যানেল অন ওয়াটার (এইচএলপিডব্লিউ) এর ফলাফল ডকুমেন্টের সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য সরকার পক্ষ থেকে পানি সরবরাহের একটি সমন্বিত জাতীয় পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হবে। পানি জীবনের একটি মৌলিক উপাদন। জীবন এবং জীবিকার জন্য পানির সঠিক ব্যবহার ও টেকসই ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বরোপ করে ১৯৯৩ সাল থেকে জাতিসংঘের উদ্যোগে প্রতি বছর ২২ মার্চ বিশ্ব পানি দিবস পালিত হয়ে আসছে। জাতিসংঘ প্রণীত ২০১৬-২০৩০ মেয়াদী টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাগুলোকে সুনির্দিষ্টভাবে কাজ করতে বলা হয়েছে। অথচ বাংলাদেশে জাতিসংঘ প্রণীত সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন হচ্ছে না। পানিকে মৌলিক অধিকারের স্বীকৃতি না দিয়ে পানি সম্পদের সমন্বিত উন্নয়ন, ব্যবস্থাপনা, আহরণ, বিতরণ, ব্যবহার, সুরক্ষা ও সংরক্ষণ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট বিধান করে ২০১৩ পানি আইন পাস করা হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সারা বিশ্বের ৭৮৩ মিলিয়ন অর্থাৎ ৭৮ কোটি ৩০ লাখ মানুষ নিরাপদ বা পানযোগ্য পানির অধিকার থেকে বঞ্চিত। ২৫ লাখ মানুষ এখনো নূন্যতম স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন সুবিধা বঞ্চিত। ২০৪০ সাল নাগাদ প্রায় ৬০ কোটি শিশুর বসবাসের এলাকায় পানির তীব্র সঙ্কট দেখা দিবে। এতে করে জীবনধারণ ও সুস্থতা হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে ইউনিসেফের প্রতিবেদনে। পৃথিবীতে মোট শ্রমশক্তির প্রায় অর্ধেক জনশক্তিই পানি সংক্রান্ত এবং পানিকে ঘিরে জীবিকা নির্বাহের কাজে নিয়োজিত রয়েছে। সারা বিশ্বে বিভিন্ন কর্মে নিয়োজিত সে সংখ্যা প্রায় দেড় বিলিয়ন। পৃথিবীপৃষ্ঠের চার ভাগের তিন ভাগই পানি। শতকরা হিসাবে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৭১ দশমিক ৪ শতাংশ। এত পানি থাকার পরও চারদিকে শুধু পানির অভাব। আর সেই অভাবটি হলো বিশুদ্ধ পানির। কারণ ৭১ দশমিক ৪ শতাংশ পানির মধ্যে ৯৭ শতাংশ পানিই লবণাক্ত পানি, ২ শতাংশ বরফ এবং বাকি মাত্র ১ শতাংশ বিশুদ্ধ পানি। পানির রাসায়নিক গুণাবলির মধ্যে রয়েছে, এর কোনো অম্লত্ব কিংবা ক্ষারকত নেই। অর্থাৎ পানির পিএইচ মান হলো সাত (৭)। মহাবিশ্বে এখন পর্যন্ত পৃথিবীই একমাত্র গ্রহ যেখানে পানি রয়েছে। পানি আইনের প্রথমেই বলা হয়েছে, পানিসম্পদের সমন্বিত উন্নয়ন, ব্যবস্থাপনা, আহরণ, বিতরণ, ব্যবহার, সুরক্ষা ও সংরক্ষণের লক্ষ্যে বিধান প্রণয়ন করা। যা এখনো করা হয়নি। জানা গেছে, গত ১৪ মার্চ জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে পানিবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের প্যানেলের প্রতিবেদন হস্তান্তর করা হয়। প্রতিবেদন বলা হয়েছে, সর্বোচ্চ নেতৃবৃন্দের পক্ষে যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর করা হল তা সরকার ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের এসডিজি বাস্তবায়ন এবং সকলের জন্য ‘পানি-নিরাপদ’ পৃথিবী গড়ার ক্ষেত্রে পানিসংক্রান্ত অর্থবহ পদক্ষেপ গ্রহণে পথ দেখাবে। ১৬০ মিলিয়নেরও অধিক মানুষের বাংলাদেশে প্রায় প্রতিটি মানুষের জন্যই নিরাপদ খাবার পানির সংস্থান করা হয়েছে। ২০২০ সালের মধ্যে সকলের জন্য সরাসরি নিরাপদ খাবার পানির সংস্থান নিশ্চিত হবে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)