ছবির ক্যাপশন:
বারোর ফাইনালকেও ছাপিয়ে গেল আঠারোর কান্না!
সমীকরণ ডেস্ক: কে কাকে সান্ত¡না দেবেন! তাসকিন-আবু হায়দাররা সাইডলাইনে দাঁড়িয়ে চোখ মুছছেন! কে পেতে দেবে বুক, বাড়িয়ে দেবে সান্ত¡নার কাঁধ? ঠিক যেন ফিরে এল ২০১২ সালের এশিয়া কাপের ফাইনাল। সাকিব কাঁদছেন। নাসির কাঁদছেন। কাঁদছিল আসলে সারা দেশ। প্রবাসীরাও। এবারও কাঁদতে তৈরি ছিল বাংলাদেশ। অশ্রু তো আনন্দেরও হয়। কিন্তু শেষ বলে ৫ রান দরকার এমন সমীকরণ মিলিয়ে দিলেন দীনেশ কার্তিক! যাকে নামানো হয়েছিল বিজয় শঙ্করেরও পরে। সেই কার্তিক যেন তির ছুড়লেন একের পর এক! এবং জিততে জিততে আরও একটি ফাইনালে হেরে যাওয়ার জ্বালায় পুড়ল বাংলাদেশ। প্রথম কোনো বহুজাতিক টুর্নামেন্টে শিরোপা জয়ের স্বপ্ন পূরণ হলো না এবারও। ভারতের বিপক্ষে নিদাহাস ট্রফি টি-টোয়েন্টি সিরিজের ফাইনালে দুর্দান্ত একটা আশা জাগিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর হলো না। ১৬৭ রানের টার্গেটে শেষ বলে ভারতের প্রয়োজন ছিল পাঁচ রানের। সেই বলে ছক্কা মেরে চার উইকেটের নাটকীয় জয় তুলে নেয় ভারত। তাই পঞ্চমবারের মতো ফাইনালে ওঠেও বহুজাতিক টুর্নামেন্টে ট্রফি জেতার অপেক্ষায় থাকতে হলো টাইগারদের।
ফাইনালে জয়ের জন্য ১৬৭ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ভারত দুর্দান্ত সূচনা করেছিল। ৩৭ রানের মধ্যে শিখর ধাওয়ান ও সুরেশ রায়নার উইকেট হারায়। এর মধ্যে রোহিত শর্মা ও লুকেস রাহুলের ব্যাটে প্রত্যাবর্তন করে ভারত। তবে হঠাৎই দুই উইকেট হারিয়ে ভারত চাপে পড়ে যায়। ৫৬ রান করে অধিনায়ক রোহিত শর্মা ও রাহুল (২৪) আউট হয়ে যান। ১৪ ওভার শেষে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় চার উইকেটে ১০৪ রান। এরপর সমান তালেই লড়েছে বাংলাদেশ। ১৮তম ওভারে মুস্তাফিজ মাত্র ১ রান দিয়ে এক উইকেট তুলে নেন। শেষ দুই ওবারে ৩৪ রান প্রয়োজন ছিল ভারতের। কিন্তু পরের ওভারে রুবেল ২২ রান দিয়ে ভারতের কাজকে সহজ করে দেয়। যে কারণে শেষ ওভারে সৌম্য দুর্দান্ত প্রচেষ্টা চালিয়েও জয় আটকাতে পারেননি। জয়ের মূল নায়ক বলতে হবে দিনেশ কার্তিককেই। শেষ দিকে মাত্র ৮ বল থেকে দুটি চার ও তিনটি ছক্কার মারে ২৯ রান করে ভারতের জন্য অসম্ভবকে সম্ভব করে দেন তিনি।
এর আগে ভারতকে ১৬৭ রানের লক্ষ্য দিয়েছে বাংলাদেশ। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতে ব্যাট করতে নেমে ৮ উইকেটে ১৬৬ রান করেছে সাকিব আল হাসানের দল। দুর্দান্ত একটা সূচনার আভাস দিয়ে আউট হয়ে যান দুই ওপেনার লিটন দাস ও তামিম ইকবাল। চতুর্থ ওভারের দ্বিতীয় বলে দলীয় ২৭ রানে ওয়াশিংটন সুন্দরের বলে সুরেশ রায়নার হাতে ধরা পড়েন লিটন। ওয়ানডাউনে তামিমের সঙ্গে জুটি বাঁধেন সাব্বির রহমান। কিন্তু দলের স্কোরে কোন রান যোগ হওয়ার আগেই দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হয়ে যান তামিমও। চাহালের বলে সীমানার দড়ির একেবারে উপরে শারদুল ঠাকুরের হাতে ধরা পড়েন তিনি। পঞ্চম ওভারের শেষ বলে দলীয় ৩৩ রানে আউট হন সৌম্য সরকার। চতুর্থ উইকেটে সাব্বিরকে আশা জাগাতে থাকলেও জুটিতে ৩৫ রান করে ফিরেন মুশফিকও। দলীয় ১০৪ রানে পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে ফিরেন মাহমুদউল্লাহ (২১)। সাব্বিরের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউট হন তিনি। এরপর রান আউট হন অধিনায়ক সাকিব। আর দলীয় ১৪৭ রানে সবচেয়ে সফল ব্যাটসম্যান সাব্বিরও ফিরেন সাজঘরে। ৫০ বল থেকে সাতটি চার ও চারটি ছক্কায় সাব্বির করেন ৭৭ রান। দলীয় স্কোরে এক রান যোগ হতেই ফিরেন রুবেল হোসেনও। তবে শেষ দিকে মিরাজ কিছুটা উত্তেজনা ছড়ান। ৭ বল থেকে দুটি চার ও একটি ছক্কায় ১৯ রান করেন মিরাজ।
এ নিয়ে বাংলাদেশ ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির ৫টি টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠল। প্রতিবারই ফাইনালে আশার গান শুনিয়েও হতাশায় মুড়ে যাওয়ার গল্প লিখতে হয়েছে। ২০০৯ সালে ঢাকায় ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ফাইনালে বাংলাদেশ হেরেছে ২ উইকেটে। সেবার ৬ রানে শ্রীলঙ্কার ৫ উইকেট ফেলে দিয়েছিল বাংলাদেশ। সেবারও রুবেলের এক ওভার এলেমেলো করে দিয়েছিল সব। মুত্তিয়া মুরালিধরন নামের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ব্যাটিং দিয়ে অনেক হাস্যরসের জন্ম দেওয়া স্পিন কিংবদন্তি হয়ে গিয়েছিল যেন জয়াসুরিয়া! এরপর ২০১২ সালের এশিয়া কাপের ফাইনালে মিরপুরের সেই মাঠেই ২ রানে হার। প্রতিপক্ষ ছিল পাকিস্তান। টুর্নামেন্টটা এশিয়া কাপ ছিল বলে দুঃখটা ছিল আরও বেশি। ২০১৬ এশিয়া কাপের ফাইনালেও সুযোগ এসেছিল সেই দুঃখ মোছার। এবার টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে অবশ্য। কিন্তু এবার ভারত ¯্রফে উড়িয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশকে। জিতেছিল ৮ উইকেটে। ২০১৮ সাল শুরুর পর ওয়ানডে সিরিজটা খুব বেশি দিন পুরোনো গল্প নয়। ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের শুরুটা হয়েছিল দুর্দান্ত। কিন্তু সাকিবকে হারিয়ে ফেলা বাংলাদেশ পথও হারিয়ে ফেলতে শুরু করে টুর্নামেন্টের মাঝপথে। শেষে ফাইনাল হারে ৭৯ রানে। এবারের ফাইনালটির দুঃখ কি এশিয়া কাপের চেয়ে বেশি? মর্যাদায় অবশ্যই এশিয়া কাপ অনেক এগিয়ে। কিন্তু এবার বাংলাদেশ যেভাবে হারল, সেটার হতাশা ২০১২-র ফাইনালের সঙ্গে মিলে যায় অনেক ভাবেই। দুঃখ যদি বেশি নাও হয়!
