ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা জেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির মাসিক সভায় জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন
নিজস্ব প্রতিবেদক: অনেক কষ্ট করেছি আর না। পাশের জেলাগুলো আমাদের থেকে বেশি পরিমান বিদ্যুৎ পাই। আমরা কেন পায় না জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাকে বলেন, কি কি ব্যবস্থা নিলে, কার কাছে বললে আমরা চুয়াডাঙ্গাবাসী বেশি পরিমান বিদ্যুৎ পাবো সেটা জানাবেন। সে অনুপাতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির মাসিক সভায় এ কথাগুলো বলেন জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ।
গতকাল রবিবার ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত জেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির মাসিক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, ‘জমির মালিক যেই হোক না কেন অনুমতি ছাড়া কৃষি জমির টপ সয়েল কাটতে দেওয়া হবে না। ইট-বালি ব্যবসায়ীরা কৃষি জমির টপ সয়েল বা উপরিভাগ কেটে নষ্ট করছে এর স্বাভাবিক পরিবেশ। এসকল কৃষি/ ফসলি জমির স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে ১০-১৫ বছর সময় লাগে। এ ধরনের জমির উপরিভাগ বা টপ সয়েল কাটতে হলে প্রশাসনের অনুমতি নেওয়ার বিধান রয়েছে। ফলে এখন থেকে অনুমতি না নিলে এসকল টপ সয়েল ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
চুয়াডাঙ্গাতে খুব শিঘ্রই একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে। সে অনুপাতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সকল কার্যক্রম চলমান আছে। অল্প সময়ের মধ্যে এই ভবনের কাজ শুরু হবে। যেখান বেশ কিছু সরকারি অফিস একসাথে কাজ করবে। ফলে একই ছাদের নিচে একাধিক সরকারি সেবা পাওয়া সম্ভব হবে। ধুলাবালিতে নাকাল চুয়াডাঙ্গাবাসীকে আর একটু ধৈর্য্যধারন করতে অনুরোধ জানিয়ে তিনি এসময় আরো বলেন, সড়কের উন্নয়ন মূলক কাজের পাশাপাশি জনদূর্ভোগ কমাতে হবে। এছাড়াও নির্মাণাধীন সড়কে বেশি পরিমাণ পানি দেওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নজরদারীর বিষয়ে নির্দেশ দেন। পরে চুয়াডাঙ্গা আধুনিক পাসপোর্ট অফিসের লোকজনের যোগসাজসে কয়েকজন দালাল প্রতিনিয়ত সেখান থেকে দালালি করছে উল্লেখ করে এ সকল দালালদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পাসপোর্ট কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। এছাড়াও চুয়াডাঙ্গা সাতার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আপনাদের সন্তানদের সাতার প্রশিক্ষণকেন্দ্রে ভর্তি করেন। এতে আপনার সন্তান সাতার শিখতে পারবে। ফলে অনেকক্ষেত্রে তার জীবন রক্ষা হবে। ভর্তি হলে বয়স্করাও যেতে পারবে তবে সন্ধ্যার পর। চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে লেবেল ক্রসিং এ দীর্ঘ সময় ঘন্টা বাজে এতে অপেক্ষামান জনসাধারনের অনেক ভোগান্তি হয় জানিয়ে বলেন এর ডিউরেশন কমাতে হবে। তাছাড়া রেলওয়ের জমি কোন সাল থেকে লিজ বন্ধ হয়েছে জানতে চেয়ে বলেন, যেসকল অসাধু ব্যবসায়ী রেলওয়ের জমি দখল করে প্রায় রাস্তার উপর চলে এসেছেন এসকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ করা হবে। বাজারে আমরা যে সাপ্লাই পানি খায় তার মান ঠিক আছে কিনা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে খোঁজখবর নিতে বলেন। এছাড়াও আগুনের ভয়াবহতার কথা জানিয়ে বলেন, যে সকল সরকারী অফিসে অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার নেই বা এখনো নেননি প্রয়োজনে পকেটের টাকা দিয়ে হলেও এ অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার রাখবেন।
এছাড়াও নদী খননের বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, জীবননগর হতে ভৈরব নদের ৫৭ কি.মি. খননের কাজ শুরু হয়েছে। এই নদীতে কোথাও বালি কোথাও মাটি আছে। ইট-বালি ব্যবসায়ীরা এখান থেকে মটি ও বালি নিতে পারবে উল্লেখ করে বলেন, দুই ট্রাক ব্যবসায়ী নেবেন এক ট্রাক সরকারী কাজে ব্যয় করবেন। তা ছাড়া এই নদীটি খনন সম্পন্ন হলে এর সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে। নদীর সেকশনে সৌন্দর্য বর্ধন গাছ, ফলের গাছ ও তালগাছ রোপন করা হবে। থাকবে ওয়াটার রিজার্ভ ব্যবস্থা। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জেলাজুড়ে ভিক্ষুক পূর্ণবাসনের নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া ভিক্ষুক পূর্ণবাসনে যে সকল সরকারী কর্মকর্তা একদিনের বেতন দেননি পূনরাই আবার দেওয়ার নির্দেশ দেন। সভায় কাস্টমস এর কার্যক্রম, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রনে কঠোর অবস্থান নেয়া, স্বাস্থ্য খাতের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া, কর্মসস্থান ও জনশক্তি অফিস, বিআরডিবি, খাদ্য বিভাগসহ সকল সরকারি অফিসের কার্যক্রম জোরদার করার আহবান করা হয়।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক আব্দুর রাজ্জাক এর সঞ্চালনায় এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ওয়াশীমুল বারী, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রফিকুল হাসান, চুয়াডাঙ্গা আদর্শ সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ নওরোজ মোহাম্মদ সাঈদসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ।
