ছবির ক্যাপশন:
ভালাইপুর প্রতিনিধি: আলুর বস্তা দোতালায় না তোলার অপরাধে অমানবিক ভাবে পাখিভ্যান চালক ইমরান হোসেনকে বাশের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে কুলপালা গ্রামের প্রভাবশালী চাচা-ভাতিজা সজল ও রড় খোকন। এমন অমানবিক ঘটনার দৃষ্টান্ত মুলক বিচার দাবি করেছে পাখিভ্যান চালকসহ এলাকাবাসী।
জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে আলমডাঙ্গার গোপিনগর গ্রামের হতদরিদ্র ইকরামুল হকের ছেলে পাখিভ্যান চালক ইমরান হোসেন (১৮) কে গোকুলখালী বাজার থেকে হাজী মোজাম্মেল হকের ছেলে ইনামুলহক তিন বস্তা আলু নিয়ে কুলপালা গ্রামে ভায়ের মেয়ে-জামায়’র বাড়ি দিয়ে আসতে বলে। আলু নিয়ে কুলপালায় পৌছে বাড়ির ভিতরে আলুর বস্তা নামিয়ে ফিরে আসতে গেলে সজল আলুর বস্তুা বাড়ির দ্বোতলায় উঠিয়ে দিতে বলেল ভ্যানচালক ইমরান শারীরিকভাবে দূর্বল প্রকৃতির হওয়াই আলুর বস্তা মাথায় নিয়ে উপরে উঠতে অপারগতা প্রকাশ করে। এ সময় ক্ষিপ্ত হয়ে বাবলু শাহর ছেলে সজল ও তার চাচা সিরাজুল ইসলাম ওরফে রড় খোকন ইমরানকে অমানবিক ভাবে বাশের লাঠি দিয়ে দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। প্রচন্ড মারের এক পর্যায়ে ভ্যানচালক ইমরান তার ভ্যান ফেলে প্রাণ রক্ষার্থে পালিয়ে আসে। রক্তাক্ত জখম ভ্যানচালক ইমরানকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে ভ্যানচালক ইমরান হোসেন বলেন, আমি গোকুলখালী বাজার থেকে আলুরবস্তা নিয়ে কুলপাল গ্রামে গিয়ে বাড়ির ভিতর নামিয়ে দিয়ে আসতে গেলে আমাকে আলুর বস্তা মাথায় করে দোতলায় তুলতে বলে। আমার শারীরীক সক্ষমতা না থাকায় আমি তুলতে পারবোনা বলায় একই গ্রামের চাচা-ভাতিজা সজল ও রড় খোকন মিলে বাশের লাঠি দিয়ে পিটাতে থাকে। আমি তাদের পায়ে পড়ে না মারার জন্য অনুরোধ করলে আরও মারতে মারতে রক্তাক্ত জখম করে। এক পর্যায়ে প্রাণ রক্ষার্থে সেখেন থেকে ভ্যান রেখে পালিয়ে আসি। আমি হতদরিদ্র গরীব বলে কি আমার এই ভাবে মার খেতে হবে? আমি বিনা দোষে এমন অমনবিক মারের দষ্টান্ত মুলক শাস্তি চায়।
এ বিষয়ে এলাকাবাসি অভিযোগ করে বলে, কোন অপরাধ না করে শুধু আলুর বস্তা উপরে তুলতে অপারগতা প্রকাশ করায় দরিদ্র ভ্যান চলকে এমন অমানবিক ভাবে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করা সত্যিই অন্যায়। কোন স্বাভাবিক মানুস এমন পশুর মত আচরন করতে পারেনা। এই ঘটনার সাথি জড়িতদের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবী জানায়।
