সিন্ডিকেটের বেড়াজালে সঙ্কুচিত হচ্ছে শ্রমবাজার

আপলোড তারিখঃ 2018-03-15 ইং
সিন্ডিকেটের বেড়াজালে সঙ্কুচিত হচ্ছে শ্রমবাজার ছবির ক্যাপশন:
সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশী নারী কর্মীরা ফিরছে খালি হাতে ডেস্ক রিপোর্ট: শ্রমবাজার ক্রমান্বয়ে সংকুচিত হচ্ছে। তেল সমৃদ্ধ দেশ সৌদি আরবের বৃহৎ শ্রমবাজার নিয়ে অস্থিরতা দেখা দিচ্ছে। সৌদিতে কর্মী নিয়োগের চাহিদাপত্র কমে যাচ্ছে। সৌদি’র প্রায় বারোটি পেশায় অভিবাসী কর্মীদের নিয়োগের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এসব পেশায় সৌদি আরবের নাগরিকদের নিয়োগের সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছে। এতে অধিকাংশ বাংলাদেশী ব্যবসায়ী ও কর্মীদের মাঝে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সৌদি আরবের অর্থনৈতিক মন্দা পরিস্থিতি ও অভিবাসীদের আকামা’র ফি দ্বিগুণ বৃদ্ধির করায় পুরুষ কর্মী নিয়োগের ভিসাও ব্যাপক হারে কমে যাচ্ছে। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে জি টু জি প্লাস প্রক্রিয়ায় দশ সিন্ডিকেটের অপতৎপরতা দিন দিন বাড়ছে। সিন্ডিকেটের বেড়া-জালে পড়ে মালয়েশিয়া গমনেচ্ছু কর্মীদের চড়া অভিবাসন ব্যয় মেটাতে নাভিশ্বাস উঠছে। অ্যাপ্রুভাল ছাড়াই মালয়েশিয়া গমনেচ্ছু কর্মীদের স্বাস্থ পরীক্ষা করে মেডিকেল সেন্টারগুলো কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার কয়েক মাস পরেও ভিসা না পাওয়ায় বিপুল সংখ্যক কর্মীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। অন্য দেশে যেতে চাইলে তাদের পাসপোর্টও ফেরত দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। বায়রার একাধিক সূত্র এতথ্য জানিয়েছে। সৌদি আরবের সফর জেল থেকে দফায় দফায় বাংলাদেশী নারী গৃহকর্মীরা খালি হাতে দেশে ফিরছে। সৌদি থেকে প্রচুর রেমিটেন্স আয়ের স্বপ্ন ভেঙ্গে যাচ্ছে অনেক অভিবাসী নারী কর্মীর। বুকভরা আশা নিয়ে এসব নারী কর্মীরা নিজের শিশু সন্তান ও স্বামীকে দেশে রেখে পাড়ি দিয়েছিলো তেল সমৃদ্ধ দেশ সৌদি আরবে। গত রোববার দিবাগত রাত ৮টায় ইত্তেহাদ এয়ার ওয়েজের একটি ফ্লাইট যোগে সউদী আরবের সফর জেল থেকে ৩৬ জন নারী কর্মী খালি হাতে দেশে ফিরেছে। নানাভাবে নির্যাতনের শিকার এসব নারী কর্মীর অনেকেই হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌছে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শিরা এ তথ্য জানিয়েছে। ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড ও ব্র্যাকের সহযোগিতায় সৌদির `সফর জেল` থেকে মহিলা গৃহকর্মীরা খালি হাতে দেশে ফিরছে। সৌদি নিয়োগকর্তাদের অধীনে এসব নারী কর্মী নানা হয়রানির শিকার হয়ে সেইফ হোম ও সফর জেলে আশ্রয় নিচ্ছে। রিয়াদ ও জেদ্দাস্থ তিনটি সেইফ হোমে আশ্রিত বাংলাদেশী নারী কর্মীদের দেখভাল করতে মিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। এসব সেইফ হোমে আশ্রিত নারী কর্মীদের খাবার সরবরাহ এবং কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে সরকারের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। আরো নারী কর্মী দেশে ফেরার অপেক্ষায় সৌদির `সফর জেল ও সেইফ হোমে` অপেক্ষা করছে। সৌদি আরবে সফররত বাংলাদেশী প্রতিনিধি দল গতকাল বুধবার ১৪ মার্চ রিয়াদে উভয় দেশের জয়েন্ট টেকনিক্যাল কমিটি’র অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে বাংলাদেশী অভিবাসী নারী কর্মীদের সৃষ্ট সংকট দ্রুত সমাধান এবং তাদের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টি জোড়ালোভাবে উত্থাপন করা হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নির্ভরযোগ্য সূত্র এতথ্য জানিয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশী মোট শ্রম অভিবাসীর সংখ্যা ১ কোটি ১৪ লক্ষ ৬৪ হাজার ৯৪৩ জন। বিশ্বের প্রায় ১৬২ টি দেশে বাংলাদেশের শ্রমঅভিবাসীরা কাজ করছে। তবে বাংলাদেশের শ্রমবাজার মূলত ১১ টি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ। দেশগুলো হলো- সউদী আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইইউ), ওমান, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, লেবানন, জর্ডান ও লিবিয়া। এর বাইরে অন্য দেশে বাংলাদেশী শ্রমিকের হার তুলনামূলক কম। বর্তমানে ১৬১টি দেশে বাংলাদেশীরা শ্রমে নিয়োজিত থাকলেও ৩৪টি দেশে লেবার এটাচে রয়েছে। ফলে বিশ্বের অনেক দেশে অভিবাসন সংক্রান্ত সমস্যা সেখানকার কূটনৈতিক মিশনগুলো যথাসময়ে সমাধান করতে পারছে। কিন্তু এখনও অনেক দেশের দূতাবাসে কাঙ্খিত সেবা না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আবার অভিবাসীদের জন্য কূটনৈতিক মিশনের সেবা সংক্রান্ত তথ্য অভিবাসীদের নিকট পৌছানোর ব্যবস্থা অপ্রতুল। অভিবাসী শ্রম বিশ্লেষক হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ গতকাল সাংবাদিকদেরকে বলেন, অর্থনৈতিক মন্দার কারণে সৌদি আরবে জনশক্তি রফতানির চাহিদা কমে যাচ্ছে। কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার অভাবে সৌদি থেকে দফায় দফায় মহিলা গৃহকর্মীরা খালি হাতে দেশে ফিরছে। সৌদিতে বেশি বেশি বাংলাদেশী কর্মী নিয়োগ এবং মহিলা গৃহকর্মীদের সংকট নিরসনে সফররত বাংলাদেশী প্রতিনিধি দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বছর কয়েক আগে আইওএম তাদের এক গবেষণাপত্রে বলেছিল দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের শ্রমিকদের অভিবাসন ব্যয় সবচেয়ে বেশি। যে টাকা খরচ করে ভারত, নেপাল থেকে একজন শ্রমিক মধ্যপ্রাচ্য বা অন্যান্য দেশে গমন করতে পারছে সেই তুলনায় বাংলাদেশের একজন শ্রমিকের তার চেয়ে বেশ কয়েকগুণ টাকা খরচ হচ্ছে। জি টু জি প্লাস প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে দশ সিন্ডিকেট নতুন খেলা শুরু করছে বলে অভিযোগ উঠছে। সরকার নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয়ের চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি টাকা দিয়ে কর্মীরা মালয়েশিয়ায় যেতে বাধ্য হচ্ছে। ভিটেমাটি , গবাদিপশু বিক্র ও ঋণ করে চড়া অভিবাসন ব্যয়ের টাকা জোগাড় করতে মালয়েশিয়া গমনেচ্ছু কর্মীদের নাভিশ্বাস উঠছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। সকল বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর সুযোগ পেলে গত এক বছরে প্রায় তিন থেকে চার লাখ কর্মী দেশটিতে চাকুরি লাভের সুযোগ পেতো । অভিজ্ঞ মহল এ অভিমত ব্যক্ত করেছেন। বায়রার সভাপতি বেনজীর আহমেদ সম্প্রতি বলেন, সৌদি আরবে জনশক্তি রফতানির ফ্লো’ একদম কমে গেছে। তিনি বলেন, ২০১৭ সালে সৌদি আরবে নারী-পুরুষ কর্মী মিলে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ গেছে। এক প্রশ্নের জবাবে বায়রা সভাপতি বলেন, ভ্রাতৃ-প্রতীম সৌদি আরবে আমাদের নারী কর্মীরা নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে এটা খুবই দু:খজনক। তিনি বলেন, সৌদি আরব একটি শর্ত আরোপ করেছে দেশটিতে নারী কর্মী না পাঠালে পুরুষ কর্মীর ভিসা দিবে না। এ ধরনের শর্তারোপের বিষয়টি আমাদেরকে বেকায়দায় ফেলেছে। বায়রা সভাপতি বলেন,র্ রিয়াদে গতকাল জয়েন্ট টেকনিক্যাল কমিটি’র দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অভিবাসী নারী-পুরুষ কর্মীদের সৃষ্ট সংকট নিরসনের বিষয়টি উত্থাপন করেছে। এছাড়া সম্প্রতি ৬ টি রিক্রুটিং এজেন্সি’র বিরুদ্ধে লাখ লাখ রিয়াল পাওয়ার মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে। এ ব্যাপারে ঢাকাস্থ সৌদি দূতাবাস এসব রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিলে সৌদিতে মহিলা গৃহকর্মী পাঠানো বন্ধ করে দেয়া হবে। এতে বক্তব্য রাখেন সাবেক এমপি আক্তারুজ্জামান বাবুল, বায়রার সাবেক মহাসচিব মনছুর আহমেদ কালাম, বায়রার সাবেক যুগ্ন-সচিব-১ আলহাজ আবুল বাশার, নুরুল আমিন, নাসির উদ্দিন মজুমদার সিরাজ, আব্দুল হালিম, ফজলুল মতিন তৌহিদ মোবারক উল্লাহ শিমুল। আফতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, মহিলা প্রেরণকারী রিক্রুটিং এজেন্সি’র গঠিত ফোরাম দশ সিন্ডিকেটের কাছে মাথা বিক্রি করবে না। তারা সউদীর বৃহৎ শ্রমবাজার ধরে রাখতে সরকারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)