আলমডাঙ্গার তিয়রবিলা গ্রামের ধর্ষিতা স্কুল ছাত্রীর গর্ভপাত ঘটানো
আলমডাঙ্গা অফিস: আলমডাঙ্গার তিয়রবিলা গ্রামের এক দিন মজুরের কন্যাকে দিনমজুরের বন্ধু কর্তৃক ধর্ষণের পর অন্তঃসত্তা হয়ে পড়লে তাকে গর্ভপাত ঘটিয়ে শিশুটিকে হত্যা করে মাটিতে পুতে রাখা লাশটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ অভিযান চালিয়ে কায়েতপাড়া গ্রাম থেকে পুতে রাখা এ লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে মর্গে পাঠিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার চুয়াডাঙ্গার পুলিশ কর্মকর্তরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এদিকে পুলিশ আসামীদের ধরতে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছে।
জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার তিওরবিলা গ্রামের দিন মজুর আজিমুলের সাথে একই গ্রামের বাজারপাড়ার মৃত ইব্রাহিমের ছেলে প্রভাবশালী আবুল কাশেমের গভীর বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। এরই সুত্র ধরে আজিমুলের বাড়িতে যাওয়া আসা করত লম্পট কাশেম। বাড়ীতে কেউ না থাকার সুবাদে আজিমুলের বৃদ্ধা মা ও তার তিওরবিলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেনীর শিক্ষার্থী ১৩ বছরের শিশুকন্যাকে দেখতে যেত লম্পট কাশেম। আজিমুল ও তা স্ত্রীর অনুপস্থিতির সুযোগে বন্ধুর বৃদ্ধা মা ও মেয়েকে খোঁজ নেওয়ার কথা বলে প্রায় আজিমুলের বাড়ীতে যেত অভিযুক্ত কাশেম। তাদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে নানাভাবে ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকি দেখিয়ে বন্ধু আজিমুলের শিশু কন্যাকে দিনের পর দিন জোরপূর্বক ধর্ষণ করতে থাকে। একপর্যায়ে মেয়েটি অন্ত:সত্তা হয়ে পড়ে। গত শনিবার ভোরে মেয়েটিকে পাশ্ববর্তী ঝিনাইদহ জেলার হরিনাকুন্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে তার ৭ মাসের সন্তান প্রসব করায়। এরপর তার সন্তানকে লুকিয়ে রেখে মেয়েটিকে বাড়ী পাঠিয়ে দেয়। বিষয়টি জানাজানি হলে এবং ওই স্কুলছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়ের করলে শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযান চালায় পুলিশ।
আলমডাঙ্গা থানার এসআই একরামুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে হরিণাকু- উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জনৈকা স্টাফ নার্সকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারে গর্ভপাত ঘটানো শিশুটি মারা গেছে। ওই নার্সের গ্রামের বাড়ি আলমডাঙ্গা উপজেলার কায়েদপাড়ায় তার বাড়ির পাশে বাঁশ বাগানে মাটিতে পুতে রাখে। গতকাল মঙ্গলবার মৃত শিশুটিকে উদ্ধার করে ময়না তদন্ত এবং ডিএনএ টেস্টের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
তবে, অভিযুক্ত কাশেমকে এখনো পর্যন্ত আটক করা সম্ভব হয়নি। আটকের অভিযানে অব্যহত রয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এদিকে মঙ্গলবার রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন চুয়াডাঙ্গা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কলিমউল্লাহ। এসময় আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ আবু জিহাদ খান, এসআই একরাম, ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান রুন্নুসহ গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
