চুয়াডাঙ্গা ও জীবননগরে ১২৩ ছাত্র আটক : মুচলেকা দিয়ে মুক্তি

আপলোড তারিখঃ 2018-03-13 ইং
চুয়াডাঙ্গা ও জীবননগরে ১২৩ ছাত্র আটক : মুচলেকা দিয়ে মুক্তি ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের উদ্যোগ : স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা সন্ধ্যার পর বাইরে থাকায় নিজস্ব প্রতিবেদক: স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থীরা সন্ধ্যার পর পড়ার টেবিলে না থেকে অহেতুক বাড়ীর বাইরে থাকায় ৫৩ জন শিক্ষার্থীকে আটক করেছে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের সম্মিলিত বিশেষ টিম। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ৭টার পর থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলা এই বিশেষ অভিযানে চুয়াডাঙ্গা শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে এসকল শিক্ষার্থীদের আটক করা হয়। আটককৃত শিক্ষার্থীদের থানায় নেওয়ার পর রাত ১০টার দিকে এসকল শিক্ষার্থীদের অবিভাবকদের ডেকে সতর্ক করাসহ লিখিত মোচলেকার মাধ্যমে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়। জানা গেছে, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা যেন অপরাধ মূলক কার্যক্রমে জড়িয়ে না পড়ে, অহেতুক বাড়ীর বাইরে আড্ডাবাজি না করে, একই সাথে তারা যেন পড়ার টেবিলে মনোনিবেশ করে সে লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপারের নির্দেশে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে ওসি অপারেশন আমির আব্বাসসহ থানার সকল অফিসার ও সদর ফাঁড়ি পুলিশের সম্মিলিত বিশেষ টিম এ অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় চুয়াডাঙ্গা শহরের বেশ কিছু স্থান চাঁদমারি মাঠ, টাউন ফুটবল মাঠ, দৌলতদিয়াড়, শেকরা তলার মোড়, একাডেমি মোড়, রেল বাজার টার্মিনাল, সাতগাড়ি মোড়, সরকারী কলেজ মোড়, মহিলা কলেজ এলাকা, কোর্ট মোড়, হাসপাতাল মোড়, কেদারগঞ্জ বাজারসহ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় এসকল স্থান থেকে মোট ৫৩জন শিক্ষার্থীকে আটক করে থানা হেফাজতে নেয় পুলিশ। পরে রাত ১০ দিকে আটক এসকল শিক্ষার্থীদের অবিভাবকদের ডেকে কড়া ভাষায় সতর্ককরাসহ তাদের স্কুল- কলেজগামী সন্তান সন্ধ্যার পর বাড়ীর বাইরে না থকে সে বিষয়টা নিশ্চিত করা হয়। পরে এসকল শিক্ষার্থীদের অবিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। `` এদিকে শিক্ষার্থীদের আটকের বিষয়টি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে এ ঘটনা শহরের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সর্বত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিনত হয়। এসময় পুলিশের এমন কার্যক্রমে অনেকে সাধুবাদ জানাতে গিয়ে বলেন, ইদানিং সন্ধ্যার পর স্কুল –কলেজগামী শিক্ষার্থীদের বাড়ীর বাইরে থাকা খুবই স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাড়িয়েছে। ফলে এসকল শিক্ষার্থীরা অপরাধ মূলক কার্যক্রমের দিকে এগিয়ে যাওয়া ছাড়াও মাদক সেবনের মতো ভয়াবহ পথে অগ্রসর হচ্ছে। তবে এমন ঘটনা শুরু করার আগে একটু প্রচার প্রচারণা চালালে ভালো হতো বলে মনে করেন তারা । এসময় তারা এও বলেন, যে সকল শিক্ষার্থী সন্ধ্যার দিকে কোচিংসহ বিভিন্ন স্থানে পড়তে যায় তারা যেনো অহেতুক হয়রানি স্বীকার না হয় সে বিষয়টা নিশ্চিত করতে হবে। তাছাড়া যে সকল শিক্ষার্থী সন্ধ্যার পর বাড়ীর বাইরে বিভিন্ন স্থানে আড্ডা মারাসহ বিভিন্ন অপরাধ মূলক কাজের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তাদেরকে আটক অভিযান অব্যহত থাকলে পুলিশের এমন কার্যক্রম সাধুবাদ পাওয়ারই যোগ্য। এ ঘটনাই চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দেলোয়ার হোসেন সময়ের সমীকরণকে বলেন, স্কুল- কলেজগামী এসকল শিক্ষার্থীরা সন্ধ্যার পর অহেতুক বাড়ীর বাইরে থেকে আড্ডাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধ মূলক কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়ছে। ইদানিং এসকল শিক্ষার্থীরা সন্ধ্যার পড় থেকে শুরু করে অনেক রাত অবধি চালাছে এ ধরনের কার্যক্রম। পড়ার টেবিলে না থেকে বিভিন্ন পড়া মহল্লার চায়ের দোকান, কেরাম বোর্ডসহ বিভিন্ন গোপন স্থানে বসে তারা সময় কাটাছে। এসকল শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যরা জানেও না বা খোজ রাখেন না তাদের সন্তান কোথাই আছে কি করছে। শিক্ষার্থীরা যেন কোনো অপরাধ মূলক কার্যক্রমে জড়িয়ে না পড়ে সে কারণে পুলিশ সুপারের নির্দেশে এ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে বলে তিনি জানান। গতকাল সন্ধ্যার পর থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে ৫৩জন শিক্ষার্থীরা আটক করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে এসকল শিক্ষার্থীদের অবিভাবকদের ডেকে সতর্ককরাসহ লিখিত মোচলেকার মাধ্যমে আটক শিক্ষার্থীদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ধরনের অভিযান অব্যহত থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর পরও যদি কোনো শিক্ষার্থীকে বিনা কারণে সন্ধ্যার পর বাইরে পাওয়া যায় তাদেরকে আটক করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এদিকে আটক এসকল শিক্ষার্থীদের অবিভাবকদের মধ্যে এ ঘটনায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। কিছু কিছু অবিভাবক অভিযোগ করে বেলন, এতদিন আমাদের সন্তানদের পুলিশের ভয় দেখিয়ে তাড়াতাড়ি বাড়ি ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করতাম। এখন পুলিশের ভয়টা ভেঙ্গে গেলো । যার ফলে তরা ছোট ছোট অপরাধ করতে পিছুপা হবে না। আবার অনেকে আটকের বিষটি নিয়ে পুলিশকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেছেন। এখন থেকে এসকল শিক্ষার্থীরা সতর্ক হয়ে যাবে। সন্ধ্যার পর বিনা কারনে বাড়ীর বাইরে থাকবে না। পড়ার টেবিলে মননিবেশ করবে। জীবননগর অফিস জানিয়েছে, সন্ধ্যার পরে অহেতুক বাড়ির বাইরে থাকায় স্কুল-কলেজের ৫০ শিক্ষার্থীকে আটক করে জীবননগর থানায় নেয় পুলিশ। গতকাল সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে তাদের অভিভাবকদের ডেকে শিক্ষার্থীদের সামনে সর্তক করে দেয়া হয়। রাতেই অভিভাকদের থানায় উপস্থিত হয়ে মুচলেকা নিয়ে সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে প্রয়োজন ছাড়া বের না হওয়া কোথাও কোন চায়ের দোকানে বসে কোন আড্ডা না দেওয়া শর্তে আটককৃত ৫০ শিক্ষার্থীকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। জীবননগর থানা সুত্রে জানা গেছে, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদুর রহমানের নেতৃত্বে গতকাল সোমবার জীবননগর পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৫০ শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশ। গতকাল সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালিত হয়। আটককৃত শিক্ষার্থীদের শেষবারের মত সর্তক করে এবং অভিভাবকদের মুচলেকা নিয়ে তাদের জিম্মায় ৫০ শিক্ষার্থীকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। আটক অভিযান পরিচালনা করেন এসআই কাজী শামসুল আলম, এসআই তারিক, এএসআই সুলতান, এএসআই সাঈদসহ সঙ্গীয় ফোর্স। কার্পাসডাঙ্গা প্রতিনিধি জানিয়েছে,দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে গতকাল সোমবার সন্ধ্যার পর অভিযান চালিয়ে রাতে পড়াশোনা না করে অহেতুক চায়ের দোকানে আড্ডাবাজি, ক্যারাম খেলা অবস্থায় ২০ জন শিক্ষার্থীকে আটক করে কার্পাসডাঙ্গা পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে আসা হয়। পরে সর্তক করে মুচলেকায় অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয় তাঁদের। জানা গেছে, দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আকরাম হোসেনের নির্দেশে কার্পাসডাঙ্গা পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ আসাদুর রহমান আসাদের নেতৃত্বে এএসআই কাশেম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে কার্পাসডাঙ্গা বাজারসহ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে অভিযান চালিয়ে চায়ের দোকানে আড্ডাবাজি ও ক্যারামবোর্ড খেলা অবস্থায় স্কুল-কলেজের ২০ শিক্ষার্থীকে আটক করে কার্পাসডাঙ্গা পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে আসা হয়। কার্পাসডাঙ্গা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আসাদ জানান, তারা যেন রাতে বিনা কারনে বাইরে থেকে কোন প্রকার অপরাধমূলক কর্মকান্ডের সাথে জড়িয়ে না পরে সেজন্য তাদের আটক করে মুচলেকা নিয়ে ও সতর্ক করে অভিভাবকদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। তবে এরপর বিনা কারনে কোন শিক্ষার্থী সন্ধ্যার পর বাড়ির বাইরে অবস্থান করে তবে তাকে আটক করে আইনানুগ ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)