ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গায় ৫দিনব্যাপী বসন্ত বরণ ও লোকসংস্কৃতি উৎসবের উদ্বোধনকালে হুইপ ছেলুন
নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গা জেলা শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে ৫ দিনব্যাপী বসন্ত বরণ ও লোকসংস্কৃতি উৎসবের উদ্বোধনীতে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সাংসদ, জাতীয় সংসদের হুইপ বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন বলেছেন, ‘মানুষ কোন না কোন সংস্কৃতিতে জন্ম নেয়; বেড়ে ওঠে। আমরা মূলত সংস্কৃতিক বলয়ের বাইরের কেউ নই। সেদিক থেকে বলা যায়- আমরা যা তাই হচ্ছে সংস্কৃতি। বর্তমানে বিদেশী সংস্কৃতির কাছে এই দেশীয় সংস্কৃতি নিষ্পেষিত হতে বসেছে। এই অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে আমাদেরকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘সাংস্কৃতিক বিনিময়ের নামে তা যদি হয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসন, প্রশ্রয় দেয়া হয় অপসংস্কৃতিকে; আর এর বিরূপ প্রভাবে ধ্বংসের দিকে ধাবিত হয় দেশের তরুণ প্রজন্ম; তবে তা কোনো মতেই মেনে নেয়া যায় না। ভালো কিছু গ্রহণ করতে কারোই আপত্তি থাকার কথা নয়। কিন্তু অবাধে অপসংস্কৃতি প্রবেশে সকল দ্বার উন্মুক্ত করে দেয়ার পক্ষেও কেউই সায় দিবে না।’
গতকাল শনিবার বিকাল সাড়ে ৪টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গনে আয়োজিত অনুষ্ঠানের প্রধান ফটকে ফিতা কেটে বসন্ত বরণ ও লোকসংস্কৃতি উৎসবের শুভ উদ্বোধন করেন তিনি। পরে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শিল্পকলার মুক্তমঞ্চে আলোচনা সভায় মিলিত হয়। জেলা শিল্পকলা সহসভাপতি নুরুল ইসলাম মালিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন হুইপ ছেলুন জোয়ার্দ্দার এমপি। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক, সহকারী পুলিশ সুপার (হেড কোয়াটার) আহসান হাবীব, সূফী সাধাক দরবেশ হোসেন আলী সাঁই। শিল্পকলার সাধারণ সম্পাদক মুন্সী জাহাঙ্গীর আলম মান্নান আলোচনার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। সন্ধ্যায় আলোচনা সভায় দেশীয় সংস্কৃতির তাৎপর্য ও তা রক্ষায় আমাদের করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুন্সী আবু সাঈফ।
উৎসেবর উদ্বোধনী দিনে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা প্রদর্শন করে ধীরু বাউলের নেতৃত্বাধীন দর্শনা আকন্দবাড়িয়া বাউল পরিষদ। সন্ধ্যায় উৎসব মঞ্চে বাউল, লোকজ ও লালন সংগীত পরিবেশন করে জেলা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীরা। আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বাউল সংগীত পরিবেশন করবে ধীরু বাউল ও তার বাউল পরিষদের নিয়মিত শিল্পীরা। এ ছাড়া গ্রাম বাংলার বিলুপ্ত প্রায় জারীগান পরিবেশনও থাকবে। গতকাল শনিবার বিকেলে শুরু হওয়া এ উৎসব চলবে আগামী ১৪ মার্চ পর্যন্ত। সমগ্র অনুষ্ঠানমালা সাজানো হয়েছে বাউল, লালন, জারি, সারি, নছিমন, যাত্রাসহ দেশীয় সংস্কৃতিক পরিবেশনা দিয়ে।
