ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গায় দু’দিনব্যাপী বিজ্ঞান মেলা ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের সমাপণী
নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে দু’দিনব্যাপী বিজ্ঞান মেলা ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের সমাপণী হয়েছে গতকাল সোমবার বিকেলে। দিনব্যাপী প্রকল্প উপস্থাপন ও বিজ্ঞান ভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতা ছিল শেষ দিনের কর্মসূচীতে। এ ছাড়া সমাপণী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থেকে বিভিন্ন বিভাগে বিজয়ী ও শীর্ষস্থান অর্জনকারীদের হাতে ক্রেস্ট/পুরস্কার ও সনদ তুলে দেন জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ। সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ওয়াশীমুল বারীর সভাপতিত্বে সমাপণী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (শিক্ষা ও আইসিটি) ফখরুল ইসলাম, উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার আব্দুল্লাহ আল সামি, একাডেমিক সুপারভাইজার সোহেল আহমেদ, উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ.এইচ.এ.এম শামীমুজ্জামান। সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাসুদুজ্জামানের পরিচালনায় সমাপণী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বিকাশ কুমার সাহা।
৩৯তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ ২০১৮ উপলক্ষ্যে দু’দিনব্যাপী এ মেলার উদ্বোধন করা হয় গত রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায়। সদর উপজেলা চত্ত্বরে আয়োজিত মেলার প্রধান ফটকে ফিতা ও ফুলের মালা কেটে মেলার উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের হুইপ বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন এমপি। ‘মেধাই সম্পদ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিই ভবিষ্যৎ’ প্রতিপাদ্যে সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে দুই দিন ব্যাপী ৩৯তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ, বিজ্ঞান মেলা এবং ২য় জাতীয় বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল জেলা সদরের ১১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৩টি কলেজ ও দু’টি বিশেষ প্রতিষ্ঠান। তারা বিভিন্ন ধরণের উদ্ভাবন কৌশল, প্রজেক্ট ও বিজ্ঞান ভিত্তিক কাজকর্মে দক্ষতা দেখিয়েছে। এরমধ্যে জুনিয়র গ্রুপে সোলার ওয়াটার পাম্প উদ্ভাবন করে ১ম স্থান অর্জন করে নিয়েছে ভি. জে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, লেজার লাইট সিকিউরিটি প্রকল্পে হিজলগাড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও রেইন ওয়াটার পিউরিফিকশন সিস্টেম উদ্ভাবনে তৃতীয় হয়েছে ঝিনুক মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়। কলেজ পর্যায়ে সিনিয়র গ্রুপে বড় শলুয়া নিউ মডেল ডিগ্রি কলেজ ১ম স্থান অর্জন করেছে। তাদের উদ্ভাবন ছিল মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক সংযোগের মাধ্যমে বিদ্যুৎ চালিত ডিভাইস। সৌরশক্তি দ্বারা চালিত হেলিকপ্টার উদ্ভাবন করে ২য় হয়েছে তেতুল শেখ কলেজ এবং স্বল্প খরচে ভ্যাকুয়াম ক্লিনার তৈরীতে ৩য় হয়েছে চুয়াডাঙ্গা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ। বিশেষ গ্রুপে কারেন্ট সেভার, স্মার্ট ব্লাইন্ড গ্লাস উদ্ভাবন করে ১ম হয়েছে দ্যা ইয়ুথ ইনভেনটর্স ও আধুনিকরণে বিজ্ঞানের ব্যবহারে ২য় হয়েছে ন্যাশনাল চিলড্রেন’স ট্রাস্কফোর্স। অন্যান্য প্রকল্প উপস্থাপনাকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দু’টি, আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, এমএ বারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, চুয়াডাঙ্গা একাডেমি, সরোজগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়, সোহরাওয়ার্দী স্মরণী বিদ্যাপিঠ, আলিয়ারপুর আজিজ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বদরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ।
১ম দিন স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের সিনিয়র ও জুনিয়র দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে শিক্ষার্থীরা ‘বিজ্ঞান ভীতি বিজ্ঞান শিক্ষার প্রধান অন্তরায়’ বিষয়ের পক্ষে বিপক্ষে বাকযুদ্ধে অংশ নেয়। স্কুল পর্যায়ের (জুনিয়র) গ্রুপে চুয়াডাঙ্গা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়কে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয় চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। শ্রেষ্ঠ বক্তা নির্বাচিত করা হয় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী আনজুম ইসলাম অমি। কলেজ পর্যায়ের (সিনিয়র) গ্রুপে চুয়াডাঙ্গা ডিবেটিং সোসাইটিকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয় চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ। শ্রেষ্ঠ বক্তা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ফাহিম আশহাব রশীদ। উপস্থিত বক্তৃতায় স্কুল পর্যায়ে ১ম স্থান অর্জন করেছে জায়িফ হাসান (ভি.জে উচ্চ বিদ্যালয়), ২য় সুবহাতুন ইসলাম সুহা (বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়) ও ৩য় স্থান অর্জন করেছে মাহমুদ রেজা (ভি.জে উচ্চ বিদ্যালয়)। কলেজ পর্যায়ে উপস্থিত বক্তৃতায় ১ম হয়েছে তানজিম তাসনিম চাঁদনী ও ২য় ফাহিম আশহাব রশীদ (সরকারি কলেজ) এবং ৩য় স্থান অর্জন করেছে শারমিন সাদিয়া রিচি (তেতুল শেখ কলেজ)।
অপরদিকে জাতীয় সংগীত পরিবেশন প্রতিযোগিতায় প্রথমস্থান অর্জনকারী ইসলামপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২য় স্থান সরজোগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৩য় স্থান অর্জনকারী গাইদঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে স্মারক পুরস্কার দেয়া হয়। মাধ্যমিক স্তরে ১ম চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ২য় ঝিনুক মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ও ৩য় স্থান অর্জনকারী খাড়াগোদা মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে পুরস্কৃত করা হয়। এ ছাড়া উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ১ম তেতুল শেখ কলেজ, ২য় সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজ এবং ৩য় চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজকেও পুরস্কার দেয়া হয়। এদিকে বঙ্গবন্ধুর ৭মার্চের ভাষণ পরিবেশন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ও সকল অংশগ্রহণকারীদেরকেও পুরস্কৃত করা হয়।
