চুয়াডাঙ্গায় সম্মান জানাতে গিয়ে জাতীয় পতাকার অবমাননা

আপলোড তারিখঃ 2018-02-22 ইং
চুয়াডাঙ্গায় সম্মান জানাতে গিয়ে জাতীয় পতাকার অবমাননা ছবির ক্যাপশন:
সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়ম না মেনেই পতাকা উত্তোলন : উড়েছে রাতেও সোহেল রানা ডালিম: লাখো প্রাণের বিনিমিয়ে অর্জিত আমাদের জাতীয় পতাকা। বিশ্বজুড়ে এই পতাকায়ই আমরা পরিচিত। কিন্তু এর মর্যাদা রক্ষায় আমাদের উদাসীনতা স্পষ্ট। জাতীয় পতাকা কিভাবে ব্যবহার করতে হবে- সে সম্পর্কে সুস্পষ্ট আইন থাকা সত্ত্বেও তা প্রতিনিয়ত লঙ্ঘিত হচ্ছে। এতে করে জাতীয় পতাকার মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে। জেনে হোক বা অজ্ঞতার কারণে হোক, জাতীয় পতাকার অবমাননা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তবে আইনের দৃশ্যমান প্রয়োগ না থাকায় যে যার মতো করে পতাকা ব্যবহার করে চলেছেন। চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন স্থানে নানাভাবে জাতীয় পতাকার অবমাননা করা হচ্ছে। গতকাল বুধবার ছিলো ২১ শে ফেব্রুয়ারী আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস। পতাকা বিধিমালা অনুসারে এই দিনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। অনেকেই এই নিয়ম জানে, আবার অনেকেই জানে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়া চুয়াডাঙ্গা শহরের সরকারী বেসরকারী অফিসসহ একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তাদের খেয়াল-খুশি অনুযায়ী পতাকা উত্তোলন করেছেন। সেই সাথে ফাটা ছেড়া, মাপ ও রঙ সঠিক নয়, তাছাড়া বিভিন্ন স্থানে বাঁকা করেও উত্তোলন করা হয়েছে জাতীয় পতাকা। এমনকি বাড়ির গ্রিল বা রোলিংয়ের সাথে বেঁধে রাখা হয়েছে জাতীয় পতাকা। এদিকে জেলা প্রশাসকের বাস ভবনের পাশে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিসেও দেখা যায় বাঁকা করে অর্ধনমিত রাখা হয়েছে জাতীয় পতাকা। কোথাও রাত ৮টা অবধি উত্তোলন করা ছিলো এই পতাকা। তবে, জাতীয় পতাকা অবমাননার দয়ে পার্শবর্তী জেলা ঝিনাইদহের ২৬ প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। কিন্তু চুয়াডাঙ্গাতে নজরদারী ও সতর্কতা ছাড়া দেখা যায়নী প্রশাসনের শক্ত কোন কার্যক্রম। মহান ভাষা আন্দোলনে যাদের মহামূল্যবান জীবনের বিনিময়ে অর্জিত মহান শহীদ দিবস (অমর ২১ শে ফেব্রুয়ারী) এই দিনটি ছাড়াও জাতীয় শোক দিবস ১৫ আগষ্ট এবং সরকার নির্দেশিত দিনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনির্মিত করে উত্তোলন করার কথা। কিন্তু সেই অকুতোভয় ভাষা শহীদদের প্রতি নেই কোন গভীরতম শ্রদ্ধা। সেই মহান দিনটিতে খেয়াল-খুশি মতো উত্তেলিত হয়েছে জাতীয় পতাকা। গতকাল চুয়াডঙ্গা শহরে বেশ কিছু স্থানে দেখা যায় এই চিত্র। ছেড়া ফাটা ও মাপজোপে সঠিক নয়, তাছাড়া কোথাও কোথাও বাঁকা করে টাঙানো হয়েছে এ পতাকা। আবার কোথাও অর্ধনির্মিত না কোরে সম্পূর্ণ তুলে উত্তোলন করা হয়েছে। এছাড়াও দুই থেকে তিন ফুট বাশের সাথে, লোহার রডের সাথে, বসত বাড়ির গ্রীলের সাথে লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে জাতীয় পতাকা। জাতীয় পতাকা ব্যবহারের বিধিমালা অনুযায়ী বলা হচ্ছে, ২১ শে ফেব্রুয়ারী, জাতীয় শোক দিবস ১৫ আগষ্ট ছাড়াও সরকার নির্দেশিত দিনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনির্মিত করে উত্তেলন করতে হবে। সোজা দন্ডায়মান বাঁশের সাথে প্রথমে জাতীয় পতাকা সম্পূর্ণ উপরে তুলে পতাকার প্রস্থ সমান নামিয়ে অর্ধনির্মিত করে রাখতে হবে। তবে দন্ডায়মান খুটিটা এমন হবে যে, অর্ধনমিত অবস্থায় যেনো পতাকা মাটিতে ঠেকে না যায়। আবার নামানোর সময় পতাকা সম্পূর্ণ উপরে তুলে আস্তে আস্তে নামাতে হবে তবে সেটা অবশ্যই সূর্যাস্তের পূর্বে। এক্ষেত্রে স্থান ভেদে এর মাপ ভিন্ন হতে পারে সেক্ষেত্রেও উত্তেলনের সময় সঠিক মাপটা যেনে উত্তোলন করা বধ্যতামুলক। এছাড়াও জাতীয় পতাকা যদি ব্যবহার উপযোগী না থাকে সেক্ষেত্রে পতাকাটিকে শ্রদ্ধার সাথে সমাধিস্থ করতে হবে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে চুয়াডাঙ্গাতে যে সকল সরকারী বেসরকারী অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সরকার নির্দেশিত নিয়মনীতি না মেনে খেয়াল-খুশিমত জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন তাদের কয়েকজনের সাথে কথা বললে তারা জানান, কিভাবে পতাকা তুলতে হবে তারা সেটা জানেন না। এছাড়াও চুয়াডাঙ্গা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিসেও দেখা যায় বাঁকা করে অর্ধনিমিত রাখা হয়েছে জাতীয় পতাকা। গতকাল বুধবার বিকাল ৪টার সময় এ বিষয়ে মুঠোফনে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুল ওয়াহেদ এর কাছে জানতে চাইলে তিনিও সময়ের সমীকরণকে জানান, কি ভাবে টাঙানো হয়েছে তা তিনি জানেন না। বর্তমানে তিনি ঢাকাতে অবস্থান করছেন। এ সময় তিনি আরো বলেন, এখনই ব্যবস্থা নিচ্ছেন জাতীয় পতাকা সঠিক ভাবে অর্ধনিমিত রাখার জন্য। চুয়াডাঙ্গা সরকারী কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুন্সি আবু সাইফের কাছে মহান শহীদ দিবসে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এলোমেলোভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মহান স্বাধীনতার এতগুলো বছর পেরিয়ে গেলেও আজ অবদি আমরা জাতীয় পতাকা উত্তোলনের বিষয়টি সঠিক ভাবে জানতে বা শিখতে পারলামনা। এটা বড় দুঃখের বিষয়। আর কত দিন বা কত বছর লাগবে আমাদের জাতীয় পতাকার সঠিক ব্যবহার শিখতে। আবার কবে শিখবো? তিনি আরো বলেন, মায়ের ভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য সেদিন যারা বুকের তাজা রক্ত ঝরিয়ে নিজের জীবন দিয়ে আমাদের এত সুন্দর ভাষাটাকে রক্ষা করেছেন। বিশ্বের বুকে আমাদেরকে একটি মর্যাদাশালী জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন সেই অকুতোভয় ভাষা শহীদদের প্রতি নেই কোন গভীরতম শ্রদ্ধা। তাদেরকে একটু শ্রদ্ধা জানাতে আজকের এই দিনটাতে পতাকা উত্তোলন করা হচ্ছে খেয়াল-খুশিমতো। এসময় তিনি এটাও বলেন, অনেক সময় প্রচার প্রচারনা ছাড়াও আইনে পতাকা অবমাননা কারীদের বিরুদ্ধে যে ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে প্রশাসন এ সকল বিষয়গলো একটু যতœশীল হলে হয়তো আমরা জাতীয় পতাকার অবমাননার হাত থেক রক্ষা পাবো। চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরে মহান শহীদ দিবসে সরকারী-বেসরকারীসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসা-বাড়ির গ্রীলে নিয়মনীতি না মেনে খেয়াল-খুশি মতো জাতীয় পতাকা উত্তোলনের বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ সময়ের সমীকরণকে বলেন, যে সকল প্রতিষ্ঠান সঠিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেনি, তাদেরকে নজরদারী ছাড়াও সতর্ক করা হয়েছে। তবে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘঠলে তাদের বিরুদ্ধে কঠর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)