ছবির ক্যাপশন:
ভালোবাসার বহুমাত্রিক রূপ প্রকাশের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হলো বিশ্ব ভালোবাসা দিবস
ডেস্ক রিপোর্ট: বসন্তের মাতাল হাওয়ায় নানা অনুষঙ্গে গতকাল বুধবার বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উদযাপন করেছে উৎসাহী মানুষ। ভালোবাসার উন্মাতাল উন্মাদনা ছড়িয়ে ছিল চারদিকে। পশ্চিমা দুনিয়ার ১৪ ফেব্রুয়ারি এই প্রেম উৎসব চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরের তারুণ্যের ভেতর এক অদেখা ভূবনের উত্তেজনা রচনা করেছে। দুরু দুরু বুক, চোখে মেখে মায়ার কাজল, হৃদয়ের উষ্ণতায় কাটিয়েছে প্রণয় পতিতরা।
বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উদযাপনে চুয়াডাঙ্গার ফুলের দোকানগুলো এবং পার্কগুলোতে ছিলো তরুণ-তরুণীরাসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষের উপচে পড়া ভীড়। বুধবার রাত ১২.১ মিনিট থেকেই তরুণ-তরুণী, প্রেমিক-প্রেমিকারা তাদের প্রিয় মানুষটার কাছে এসএমএস এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ও ইমো’র মাধ্যমে ভালোবাসার প্রকাশ ঘটাতে থাকে। সকাল থেকেই ভালোবাসার প্রথম প্রহরে প্রেমিক-প্রেমিকারা তাদের পরষ্পরের মধ্যে ফুল দিয়ে ভালবাসার প্রকাশ করে। এক্ষেত্রে বিশেষ করে স্কুল-কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থীদেরকে বেশী আকৃষ্ট হয়েছে।
বেলা বাড়ার সাথে সাথে চুয়াডাঙ্গা শহরের ফুলের দোকানগুলোতে বিভিন্ন বয়সী মানুষের ভীড় লক্ষ্য করা যায়। পার্কগুলোর চিত্রই ছিলো প্রায় একই রকম। বিকালে শহরের বিভিন্ন পার্ক ঘুরে দেখা যায় অন্যদিনের চেয়ে গতকাল ছিলো দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভীড়। প্রিয় মানুষটাকে ভালোবাসা দিবসে উইশ করতে চাকুরিজীবীরাও ভোলেননি। সারাদিনের কর্মব্যস্ততা শেষে সন্ধ্যার পর প্রিয় মানুষটার জন্য ফুল ও উপহার কিনে বাসায় ফিরতে দেখা গেছে। ভালোবাসা দিবসে শুধু প্রেমিক-প্রেমিকা নন, স্বামী-স্ত্রীরাও এদিন আলাদা করে সময় কাটিয়েছেন।
অপরদিকে, বিশ্ব ভালোবাস দিবস উপলক্ষ্যে স্বাধীনতার সুতিগার ক্ষেত মেহেরপুরের ঐতিহাসিক মুজিবনগর কমপ্লেক্স ও বিট্রিশ আমলের নির্মানাধীন বিট্রিশ নীলকরদের আমঝুপি ও গাংনী উপজেলার ভাটপাড়া নীলকুঠিতে দর্শনার্থীদের পদচারনায় মুখরিত ছিলো। পরিবার পরিজন, প্রেমিক-প্রেমিকা নিয়ে ভালোবাস দিবস উদযাপনে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভীড় জমান দর্শনার্থীরা। ভালোবাসা দিবসে প্রিয় মানুষটার কাছে ভালোবাসার কথা প্রকাশ করার একমাত্র প্রতীক হলো ফুল। তাই মুজিবনগরের ঐতিহাসিক গোলাপ বাগানসহ জেলার নিজ মালিকানা ফুল বাগান গুলোতে বিশ্ব ভালোবাস দিবসে ফুল চুরি ও গাছ নষ্ট হওয়ার ভয়ে বসানো হয় পাহারা।
মেহেরপুর শহর থেকে ১৭ কিলোমিটার দক্ষিনে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত ঘেষে আ¤্রকাননে মুজিবনগর কমপ্লেক্স অবস্থিত। বিশ্বভালোবা দিবসে সকাল থেকেই শুরু হয়েছিলো দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়। ভালোবাসা দিবস হলেও সব বয়সি নারী-পুরুষ কর্মব্যস্ত-বন্দি জীবন থেকে একটু অবসর নিয়ে আনন্দ উপভোগ করতে বন্ধুবান্ধব এবং পরিবার পরিজন নিয়ে ভিড় করেছেন মেহেরপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে। ঐতিহাসিক মুজিবনগরের আ¤্রকাননে ছায়া সুনিবিড় স্থানে বসে আপনজনদের নিয়ে সময় কাটিয়েছে অনেকেই। আবার অনেকেই নেচে গেয়ে ঘুরে ফিরে অনেক মজা করছেন।
গাংনী থানার এসআই বকতিয়ার হোসেন স্ত্রীসহ ভালোবাসা দিবসে গাংনীর নীলকুঠিতে বেড়াতে এসে জানান, প্রতিদিনই ব্যস্ত তাই আজ ব্যস্ততা বাদ দিয়ে ভালোবাসা দিবসে আমার ভালোবাসার মানুষ স্ত্রীকে নিয়ে একটু ঘুরতে ডিসি ইকোপার্কে আসলাম। এখানে এসে নৌকা ভূমন, কফি হাউজে কফি পানসহ বিভিন্ন দৃষ্টি নন্দন কারুকার্য দেখে খুব ভালো লাগলো।
অন্যদিকে, মেহেরপুর শহর থেকে ৫ কি.মি. দুরে সদর উপজেলার আমঝুপি নীলকুঠি ও গাংনী উপজেলা শহর থেকে ৭ কি.মি. দুরে অবস্থিত ভাটপাড়া নীলকুঠি বর্তমানে ডিসি ইর্কোপার্ক নামে ঘোষনা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন দৃষ্টি নন্দন বিভিন্ন কারুকার্য করায় ভালোবাস দিবস উপলক্ষ্যে সকাল থেকেই সেখানেও হাজারো দর্শনার্থীর পদচারণায় মুখরিত হয় এই দুটি পার্কে।
