ছবির ক্যাপশন:
জাহিদ বাবু/মিঠুন মাহমুদ: জীবননগর উপজেলায় বাউকুল চাষ করে প্রায় শতাধিক পরিবার সাবলম্বী হয়েছে। এ উপজেলায় মাঠের পর মাঠজুড়ে রয়েছে বাউকুলের বাগান। কেউ নিজের জমি আবার কেউবা পরের জমি বর্গা নিয়ে বাউকুলের চাষ করছে। এ উপজেলা থেকে প্রতিদিন এক/দুই ট্রাক বাউকুল যাচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। এ উপজেলার প্রায় শতাধিক পরিবারের সদস্যরাই বাউকুল চাষের সাথে জড়িত রয়েছে।
জীবননগর উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, জীবননগর উপজেলায় এ বছরে ৪৫ থেকে ৫০ হেক্টর জমিতে বাউকুল চাষ করা হচ্ছে। জীবননগর উপজেলার কাশিপুর, নতুনপাড়া, গঙ্গাদাশপুর, বাড়ান্দি, তেতুলিয়া ও কুলতলায় বাউকুলের চাষ বেশি হচ্ছে। তবে গত বছরের তুলনায় এ বছরে এ উপজেলায় একটু কুল চাষ কম হয়েছে। এ উপজেলায় শুধু কুলচাষ নয় এবছরে কুল চাষের পাশাপাশি পেয়ারা, মাল্টা ও লিচুচাষ হচ্ছে।
কুলচাষিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, জীবননগর উপজেলা কৃষি অফিসের সার্বিক সহযোগিতায় ২০১০ সালের দিকে জীবননগর উপজেলার নাজমুল নার্সারীর নিকট থেকে বাউকুলের চারা ক্রয় করে চাষীরা কুলচাষ শুরু করে। প্রথম বছরেই কৃষকরা কুল বিক্রি করে ভালো লাভবান হন। তারপর থেকে কৃষকদের কুলচাষে আগ্রহ বেড়ে যায়। কুল চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন অধিকাংশ চাষি।
বর্তমানে নতুনপাড়ার মুনের ১০বিঘা, শরিফুলের ৫ বিঘা, জসিম উদ্দিনের ৪ বিঘা, আনারের ৭ বিঘা, বশির উদ্দিনের ৩ বিঘাসহ এ উপজেলায় শতাধিক পরিবারের কুলবাগান রয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৫শ থেকে ৭শ নারী পুরুষ কাজ করছেন এসব কুলবাগানে। কুলচাষি আনার জানান, প্রথম বছরে তিনি ১বিঘা জমিতে বাউকুল চাষ করেন। কুলচাষ একটি লাভজনক ফসল। কারো যদি এক বিঘা জমিতে কুল থাকে তাহলে সব খরচ বাদে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। বর্তমানে তার ৭বিঘা জমিতে কুল আছে। তার দেখাদেখি এ উপজেলার অনেকে বাউকুল চাষ করছে। তিনি আরও জানান, বাউকুল মুলত ৩ থেকে ৪ মাসের ফসল। যে জমিতে কুল চাষ করা হয় সেই জমিতে সাথি ফসল হিসাবে বোরো ধান, কিংবা, কলাই ও মুগ চাষ করা যায়। বাউকুল চাষি মিন্টু জানান, বর্তমানে প্রতি কেজি বাউকুল পাইকারী বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা দরে। ঢাকার পাইকারী ব্যবসায়ীরা বাগান থেকেই কুল ট্রাকে ভরে নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি আরো বলেন, এক বিঘা জমি থেকে ৮০ থেকে ৯০ কার্টুন কুল সংগ্রহ করা যায়। বাউকুল চাষি জসিম জানান, এক বিঘা জমিতে বাউকুল চাষ করতে খরচ হয় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা ।
কেডিকে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খাইরুল বাশার শিপলু জানান, এ ইউনিয়নের কুলতলা কাশিপুর কুল চাষের জন্য বিখ্যাত। এ অঞ্চলের বাউকুল দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠাচ্ছেন কৃষকরা। বাউকুল চাষ করে অনেকে স্বাবলম্বী হয়েছেন। জীবননগর উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জানান, বাউকুল একটি লাভজনক ফসল।অল্প সময়ে সল্প পুজিতে এটি চাষ করে বেশি লাভ পাওয়া যায়।
