ছবির ক্যাপশন:
শান্তিপূর্ণভাবে জনগণকে নিয়ে রাজপথে থাকুন -নির্বাহী কমিটির বৈঠকে বেগম খালেদা জিয়া
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে বিএনপির ছয় শর্ত
ডেস্ক রিপোর্ট: রাজধানীর হোটেল লা মেরিডিয়ানে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বৈঠকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা তৃণমূল নেতাদের বক্তব্য মনযোগ দিয়ে শুনেছেন দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। সভায় আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি রায় ঘিরেই বেশিরভাগ নেতা বক্তব্য দেন। বিশেষ করে অতীতের রাজনৈতিক আন্দোলন কর্মসূচি নিয়েও কিছু কিছু নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তব্য দেন। আবার কেউ কেউ শুধু তৃণমূলে নয় রাজধানীতেও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তোলার কথা বলেন। তবে নেতাদের বক্তব্য শোনার পর প্রায় তিন মিনিটের সমাপনী বক্তব্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন খালেদা জিয়া।
এদিকে, নির্বাহী কমিটির সভা চলাকালে হোটেলের আশপাশের এলাকা থেকে ৩০ জনের অধিক নেতা-কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার সকাল থেকে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভাস্থলের কাছ থেকে তাদের আটক করে পুলিশ। এসময় বেলা ১১টার দিকে নির্বাহী কমিটির বৈঠক শুরু হলে দলীয় নেতাকর্মিদের সাথে নিয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা যুবদল নেতা সাইফুর রশিদ ঝন্টু হোটেলের বাইরে অবস্থান নেওয়ার কিছুক্ষণ পরই সাদা পোশাকধারী গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল তাকেসহ পাঁচজনকে তুলে নিয়ে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শী একজন সাংবাদিক জানিয়েছেন। এরপর দুপুর ১২টা ১০ মিনিটের দিকে হোটেলের পাশের গলি থেকে আরো আটজনকে আটক করা হয়। তার কিছুটা পরে আরো অন্তত ৮-১০ জনকে আটক করে বড় মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। যুবদল নেতা ঝন্টুর আটকের খবরে চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে নিন্দা জ্ঞাপন করে প্রতিবাদ জানিয়েছে বিবৃতি প্রদান করেছে।
জাতীয় নির্বাহী কমিটির বৈঠকে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আবেগাপ্লুত কণ্ঠে নেতাদের উদ্দেশে বলেন, আমার হারানোর কিছুই নেই। রাজনীতির জন্য স্বামী, মা, সন্তানকে, এমনকি বাড়ি হারিয়েছি। আমার এক সন্তান বিদেশে আছে। আপনারাই আমার আশা। আপনাদের নিয়েই আমি রাজনীতি করছি। আমি ভিতু নই। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চলছে চলবে। আপনারা অনেক পরিশ্রম করছেন। আমরা সবাই ক্ষতিগ্রস্ত। কারো ভাই, ছেলে, বোন, বাবা হারিয়েছে। এখন নতুনদেরকে এগিয়ে আসতে হবে। খালেদা জিয়া বলেন, আপনারা হঠকারী কোনো কিছুতে পা দেবেন না। দলকে বিপদে ফেলার মতো কিছু করবে না। সবাই একতাবদ্ধ থাকবেন। এবার যদি কেউ দলের বিরুদ্ধে কিছু করে থাকে তাদের চিহ্নিত করা হবে এবং তাদেরকে ভবিষ্যতে কোনো পদ দেয়া হবে না। আমার বিশ্বাস সবাই ঐক্যবদ্ধ থেকে দলকে শক্তিশালী করবেন।
এছাড়া নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা সব আন্দোলন-সংগ্রামে ছিল, যারা কাজ করেছে, যারা দলের সাথে বেইমানি করেনি, দলে তাদের ভালো ভালো জায়গায় অবস্থান দেয়া হবে। কিন্তু যারা বেইমানি করবে, এক পা এদিকে, আরেক পা ওদিকে রাখবে, তাদের কোনো মূল্যায়নের জায়গা নেই। এদের তারাও (সরকার) নেবে না, আমরাও নেবো না। ক্ষমা কিন্তু একবার হয়, বারবার হয় না।
গতকাল শনিবার সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা সোয়া ৬টা পর্যন্ত রাজধানীর হোটেল লা মেরিডিয়ানে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বৈঠক হয়। ৫০২ সদস্যের নির্বাহী কমিটির অধিকাংশ সদস্যই এতে উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে ছয়টি শর্ত দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির প্রথম সভায় তিনি সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে শর্তগুলো তুলে ধরেন। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেছেন, মানুষ পরিবর্তন চায়। এই পরিবর্তন হতে হবে নির্বাচনের মাধ্যমে।
নির্বাচনে অংশ নিতে বিএনপির চেয়ারপারসনের দেয়া শর্তগুলো- ১. ভোট হতে হবে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে ২. জনগণকে ভোটকেন্দ্রে আসার মতো পরিবেশ তৈরি করতে হবে ৩. ভোটের আগে সংসদ ভেঙে দিতে হবে ৪. নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষতা বজায় রেখে কাজ করতে হবে ৫. ভোটের সময় সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে, সেনাবাহিনী মোবাইল ফোর্স হিসেবে কাজ করবে ৬. যন্ত্রে ভোটের জন্য ইভিএম/ডিভিএম ব্যবহার করা যাবে না।
সভায় ছয় শর্ত দেয়ার পর খালেদা জিয়া নির্বাহী কমিটির সদস্যদের কাছে জানতে চান তারা এর সঙ্গে একমত কি না। এ সময় নির্বাহী কমিটির সদস্যরা উচ্চ স্বরে বলেন একমত। বিএনপি চেয়ারপারসন জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের প্রয়োজনে এখন প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য।
অন্যদিকে, বিএনপিকর্মীদের আটকের ব্যাপারে খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি এ ব্যাপারে কিছু জানেন না। গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি। তবে ঘটনাস্থলে থাকা একাধিক ডিবি কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তারা কেউ এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
নিন্দা ও প্রতিবাদ: দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের নিন্দা জানিয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, `বিরোধী দলের অনুষ্ঠান বানচাল করার চিরাচরিত আওয়ামী লীগের যে অভ্যাস সেই অভ্যাসের পুনরাবৃত্তি করছে সরকার। কার্যত ভয়ভীতি সৃষ্টি করে এই সভা যাতে সফল না হতে পারে সেজন্য দানবীয় মনোবৃত্তি নিয়ে তারা (সরকার) আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লেলিয়ে দিয়েছে।
এদিকে, চুয়াডাঙ্গা জেলা যুবদল নেতা সাইফুর রশিদ ঝন্টুর গ্রেফতারে চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক ফিরোজ সারোয়ার রোমান, যুগ্ম-আহ্বায়ক জাহেদ মো. রাজিব খান, যুগ্ম-আহ্বায়ক শাজাহান খান ও যুগ্ম-আহ্বায়ক মোমিনুর রহমান মোমিন যৌথভাবে এক লিখিত বিবৃতি প্রদান করেছে। এছাড়া যুবদল নেতা খালিদ মাহমুদ মিল্টন এক লিখিত প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
জেলা ছাত্রদল নেতৃবৃন্দের পাঠানো নিন্দা জ্ঞাপন করে প্রতিবাদ লিপিতে বলা হয়, ঢাকা খিলগাঁওয়ের নিকুঞ্জে অবস্থিত হোটেল লা মেরিডিয়ান প্রাঙ্গন থেকে চুয়াডাঙ্গা জেলা যুবদল সাইফুর রশীদ ঝন্টুকে সাদা পোশাকধারী পুলিশ অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে। হোটেলের ভিতরে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা চলাকালীন পুলিশের এই অন্যায়মূলক গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ছাত্রদল নেতারা অবিলম্বে সাইফুর রশীদ ঝন্টুর মুক্তি দাবী করেন।
জাতীয় নির্বাহী কমিটির বৈঠকে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আবেগাপ্লুত কণ্ঠে নেতাদের উদ্দেশে বলেন, আমার হারানোর কিছুই নেই। রাজনীতির জন্য স্বামী, মা, সন্তানকে, এমনকি বাড়ি হারিয়েছি। আমার এক সন্তান বিদেশে আছে। আপনারাই আমার আশা। আপনাদের নিয়েই আমি রাজনীতি করছি। আমি ভিতু নই। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চলছে চলবে। আপনারা অনেক পরিশ্রম করছেন। আমরা সবাই ক্ষতিগ্রস্ত। কারো ভাই, ছেলে, বোন, বাবা হারিয়েছে। এখন নতুনদেরকে এগিয়ে আসতে হবে। খালেদা জিয়া বলেন, আপনারা হঠকারী কোনো কিছুতে পা দেবেন না। দলকে বিপদে ফেলার মতো কিছু করবে না। সবাই একতাবদ্ধ থাকবেন। এবার যদি কেউ দলের বিরুদ্ধে কিছু করে থাকে তাদের চিহ্নিত করা হবে এবং তাদেরকে ভবিষ্যতে কোনো পদ দেয়া হবে না। আমার বিশ্বাস সবাই ঐক্যবদ্ধ থেকে দলকে শক্তিশালী করবেন।
এছাড়া নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা সব আন্দোলন-সংগ্রামে ছিল, যারা কাজ করেছে, যারা দলের সাথে বেইমানি করেনি, দলে তাদের ভালো ভালো জায়গায় অবস্থান দেয়া হবে। কিন্তু যারা বেইমানি করবে, এক পা এদিকে, আরেক পা ওদিকে রাখবে, তাদের কোনো মূল্যায়নের জায়গা নেই। এদের তারাও (সরকার) নেবে না, আমরাও নেবো না। ক্ষমা কিন্তু একবার হয়, বারবার হয় না।
গতকাল শনিবার সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা সোয়া ৬টা পর্যন্ত রাজধানীর হোটেল লা মেরিডিয়ানে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বৈঠক হয়। ৫০২ সদস্যের নির্বাহী কমিটির অধিকাংশ সদস্যই এতে উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে ছয়টি শর্ত দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির প্রথম সভায় তিনি সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে শর্তগুলো তুলে ধরেন। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেছেন, মানুষ পরিবর্তন চায়। এই পরিবর্তন হতে হবে নির্বাচনের মাধ্যমে।
নির্বাচনে অংশ নিতে বিএনপির চেয়ারপারসনের দেয়া শর্তগুলো- ১. ভোট হতে হবে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে ২. জনগণকে ভোটকেন্দ্রে আসার মতো পরিবেশ তৈরি করতে হবে ৩. ভোটের আগে সংসদ ভেঙে দিতে হবে ৪. নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষতা বজায় রেখে কাজ করতে হবে ৫. ভোটের সময় সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে, সেনাবাহিনী মোবাইল ফোর্স হিসেবে কাজ করবে ৬. যন্ত্রে ভোটের জন্য ইভিএম/ডিভিএম ব্যবহার করা যাবে না।
সভায় ছয় শর্ত দেয়ার পর খালেদা জিয়া নির্বাহী কমিটির সদস্যদের কাছে জানতে চান তারা এর সঙ্গে একমত কি না। এ সময় নির্বাহী কমিটির সদস্যরা উচ্চ স্বরে বলেন একমত। বিএনপি চেয়ারপারসন জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের প্রয়োজনে এখন প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য।
অন্যদিকে, বিএনপিকর্মীদের আটকের ব্যাপারে খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি এ ব্যাপারে কিছু জানেন না। গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি। তবে ঘটনাস্থলে থাকা একাধিক ডিবি কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তারা কেউ এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
নিন্দা ও প্রতিবাদ: দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের নিন্দা জানিয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, `বিরোধী দলের অনুষ্ঠান বানচাল করার চিরাচরিত আওয়ামী লীগের যে অভ্যাস সেই অভ্যাসের পুনরাবৃত্তি করছে সরকার। কার্যত ভয়ভীতি সৃষ্টি করে এই সভা যাতে সফল না হতে পারে সেজন্য দানবীয় মনোবৃত্তি নিয়ে তারা (সরকার) আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লেলিয়ে দিয়েছে।
এদিকে, চুয়াডাঙ্গা জেলা যুবদল নেতা সাইফুর রশিদ ঝন্টুর গ্রেফতারে চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক ফিরোজ সারোয়ার রোমান, যুগ্ম-আহ্বায়ক জাহেদ মো. রাজিব খান, যুগ্ম-আহ্বায়ক শাজাহান খান ও যুগ্ম-আহ্বায়ক মোমিনুর রহমান মোমিন যৌথভাবে এক লিখিত বিবৃতি প্রদান করেছে। এছাড়া যুবদল নেতা খালিদ মাহমুদ মিল্টন এক লিখিত প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
জেলা ছাত্রদল নেতৃবৃন্দের পাঠানো নিন্দা জ্ঞাপন করে প্রতিবাদ লিপিতে বলা হয়, ঢাকা খিলগাঁওয়ের নিকুঞ্জে অবস্থিত হোটেল লা মেরিডিয়ান প্রাঙ্গন থেকে চুয়াডাঙ্গা জেলা যুবদল সাইফুর রশীদ ঝন্টুকে সাদা পোশাকধারী পুলিশ অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে। হোটেলের ভিতরে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা চলাকালীন পুলিশের এই অন্যায়মূলক গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ছাত্রদল নেতারা অবিলম্বে সাইফুর রশীদ ঝন্টুর মুক্তি দাবী করেন।
