শিশুসহ ৬৫ রোগী ভর্তি : কলেরা স্যালাইন সংকট

আপলোড তারিখঃ 2018-02-03 ইং
শিশুসহ ৬৫ রোগী ভর্তি : কলেরা স্যালাইন সংকট ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে আবার বেড়েছে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা : গত দু’দিনে ডায়রিয়া প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে ডা. আওলিয়ার রহমানের পরামর্শ আফজালুল হক: চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা দিনেদিনে বেড়েই যাচ্ছে। গত দু'দিনে দিনে আরো নারী-পুরুষ ও শিশুসহ নতুন করে আরো ৬৫ রোগী ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে। তবে ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশু রোগী বেশী ভর্তি হয়েছে। এদিকে সদর হাসপাতালে খাবার স্যালাইনের সরবরাহ থাকলেও গত ছয় দিন থেকে কলেরা স্যালাইন সংকট শুরু হয়েছে। নেই কলেরা স্যালাইনের সরবরাহ। তাই বাইরের ফার্মেসিগুলো থেকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে কলেরা স্যালাইন। এতে দরিদ্র রোগীর অভিভাবকদের আর্থিক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তাদের রোগীদের চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া ডায়রিয়া ওয়ার্ডে অতিরিক্ত রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও কর্তব্যরত নার্সরা। এবং এই শীতে হাসপাতালের ওয়ার্ডে বেড না পেয়ে ঠান্ডা মেঝেতে শিশুদেরকে নিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে রোগীর স্বজনদের। ওয়ার্ডের বাইরেও ভর্তি হওয়া এক শিশু রোগীর মা জানান, হাসপাতালে এসে বেড পাইনি। ঠা-ায় ছোট বাচ্চাকে নিয়ে মেঝেতে শুয়ে আছি। বেশি ঠাসাঠাসিতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। হাসপাতালে মেঝেতে পর্যন্ত এখন খালি নেই। এদিকে, রোগীর স্বজনেরা অভিযোগ করে বলেন, খাবার স্যালাইন হাসপাতালে থাকা সত্বেও রোগীদেরকে ঠিক মত দেওয়া হচ্ছে না। রোগীর সাথে আসা কয়েকজন জানান, আমাদের রোগীকে শুধু সকালে একবার খাওয়া স্যালাইন দিয়েছে। আর দেয়নি। বেশীর ভাগ রোগি ও তাদের স্বজনেরা অভিযোগ করে বলেন, ভর্তির পর থেকে কোন স্যালাইন পাইনি। বাইরে থেকে কিনে খেতে হচ্ছে বা রোগীকে খাওয়াতে হচ্ছে। ডায়রিয়া ওয়ার্ড (শিশু) বিভাগের ইনচার্জ বলেন, হাসপাতালে খাওয়া স্যালাইন সরবরাহ আছে। রোগীদেরকে ঠিক মত স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে। `` ডায়রিয়া প্রতিরোধে কি করণীয় সম্পর্কে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে মেডিকেল অফিসার ডা. ডা. আওলিয়ার রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, ডায়রিয়ার আভাস পেলে প্রথমেই কোন রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। ঘণঘন খাবার স্যালাইন খাওয়াতে হবে, যা শরিরের পানিশূন্যতার অভাব পূরণ করবে। বেশি বেশি করে তরল খাবার যেমন, ভাতের মাড়, চিড়ার পানি ও ডাবের পানি খাওয়াতে হবে। এছাড়া কলেরা স্যালাইন খাওয়ালে শরীরের লবণ ও পানির যে ঘাটতি তৈরি হয় সেটা কমে যাবে। আর্সেনিক মুক্ত নিরাপদ টিউবওয়েলের পানি খাওয়াতে হবে। টিউবওয়ালের পানি পাওয়া না গেলে পুকুর বা নদীর পানি চুলায় দিয়ে বুদবুদ ওঠা থেকে ২০ মিনিট পর্যন্ত ফুটিয়ে খাওয়াতে হবে। শিশু’র ক্ষেত্রে স্বাভাবিক খাবার খাওয়ানো চালিয়ে যেতে হবে। অল্প অল্প করে বার বার খাওয়াতে হবে। যে সব শিশু মায়ের বুকের দুধ খায়, তাদের ঘনঘন মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে। এবং স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ মোতাবেক জিঙ্ক খাওয়াতে হবে। ২ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য প্রতি বার পায়খানার পর ১০-২০ চা চামচ পরিমাণ স্যালাইন খাওয়াতে হবে ও ২ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের জন্য প্রতি বার পাতলা পায়খানার পর ২০-৪০ চা চামচ পরিমান স্যালাইন খাওয়াতে হবে। ৬ মাসের কম বয়সী শিশুকে শুধুমাত্র মায়ের দুধ ও স্যালাইন খাওয়াতে হবে। খাবার তৈরীর আগে, রোগীকে খাওয়াবার পূর্বে ও পায়খানার পর সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস করতে হবে। এছাড়া সব সময় সিদ্ধ ঠান্ডা পানি ব্যবহার করতে হবে। তাছাড়া শিশুদের ক্ষেত্রে বোতলের দুধ খাওয়ানোর থেকে বিরত থাকতে হবে। জলাবদ্ধ পায়খানা ব্যবহার করতে হবে। শিশুকে অবশ্যই হামের টিকা দিতে হবে। এছাড়া রোগীর অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে বা চিকিৎসকের কাছে নিতে পরামর্শ দেন ডা. আওলিয়ার রহমান।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)