ছবির ক্যাপশন:
মিঠুন মাহমুদ: জনবল সংকটে ধুঁকে ধুঁকে চলছে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। প্রায় দুটি উপজেলার মানুষের চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত মাত্র ৫জন ডাক্তার এর মধ্যেও একজন খাতা কলমে ঠিক থাকলেও অফিসে আসে না বললেই চলে। ফলে সাধারন জনগন রয়েছে চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে। ৯ জন ডাক্তারের পদ থাকলেও চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন মাত্র চারজন। এ হাসপাতালটি ১৯৭৩ সালে ৩১ শয্যার মধ্যে দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও দীর্ঘকালেও সরকারের সংশ্লিষ্ঠ কতৃপক্ষের সু-নজরদারির অভাবে পিছিয়ে আছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর ও পাশ্ববর্তী ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার অর্ধেক মানুষের একমাত্র সরকারি চিকিৎস্যাকেন্দ্র জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্্র। জীবননগর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের বিশাল আয়তনের ১লক্ষ ৩১হাজার ৭শ ৭৮ জন নাগরিকের সুচিকিৎসা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে হাসপাতাল কতৃপক্ষ। কারণ অনুসন্ধানে জানা গেছে লোকবল সংকটই মুখ্য বিষয়।সীমিত জনবলে বিশাল জনগোষ্ঠির চিকিৎসা কার্যক্রম বারবারই ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যসেবায় উজ্জ¦ল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেও এর লেশমাত্র লাগেনি জীবননগর হাসপাতালটিতে। চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য হাজী আলী আজগার টগর ২০১৬ সালে অবহেলিত হাসপাতালটির ৩১ শয্য হতে ৫১ শয্যায় উন্নতি করলেও জনবল নিয়োগ না হওয়া প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র না থাকায় চিকিৎসাসেবা যে তিমির সেই তিমিরেই রয়েছে। ফলে সাধারন জনগনের চিকিৎসাসেবার মানউন্নয়ন কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না। জানা গেছে, হাসপাতালটিতে টিএইচও সহ একজন কনসালটেন্ট, একজন আরএমও এবং ৬ জন মেডিকেল অফিসার থাকার কথা থাকলেও সেখানে মাত্র টিএইচও ডা. রফিকুল ইসলাম, আরএমও ডা. মাহমুদ বিন হেদায়েত সেতু, মেডিকেল অফিসার ডাঃ রোকনুজ্জামান রুবেল, হেলনা আক্তার নিপাই সাধারন মানুষের চিকিৎসা দিয়ে আসছেন।
এদিকে, হাসপাতালে কনসালটেন্ট হিসাবে খাতা কলমে ডা. রফিকুল ইসলাম নিয়োজিত থাকলেও আধ্যাতিক কারনে তাকে বেশির সময় অফিসে পাওয়া যায় না যার ফলে হাসপাতালে রোগীদের চরম বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। এ ব্যাপারে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সরর আরএমও ডা. মাহমুদ বিন হেদায়েত সেতু জানান, জনবল সংকটে বিশাল আয়তনের এ উপজেলার জনগোষ্ঠির জন্য স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করতে চরম ভাবে হিমশিম খেতে হচ্ছে। একটি সুত্রে জানা গেছে, অনেক মেডিকেল অফিসার আছে তাদের কর্মরত স্থান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থাকলেও এটোসমেন্টের জন্য ঢাকার নামীদামী মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালে উচ্চডিগ্রির জন্য চলে যাচ্ছে। যার ফলে উপজেলা পর্যায়ে যে সমস্থ সরকারী হাসপাতাল আছে সেখানে জনবল সংকট দেখা দিচ্ছে।
এ বিষয়ে জীবননগর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, এ উপজেলায় যে হারে জনসাধারন আছে সে অনুপাতে হাসপাতালে জনবল না থাকায় ৫ জন চিকিৎসককে সাধারন মানুষের চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে এ বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানিয়েছি আশা করি খুব শিঘ্রই এটির সমাধান হবে।
এ বিষয়ে জীবননগর উপজেলা চেয়ারম্যান আবু মো. আ. লতিফ অমল জানিয়েছেন, বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে অগ্রনী ভূমিকা রাখছে।সম্প্রতি কয়েকদিনে জীবননগর হাসপাতালে প্রায় ডাক্তার শুন্য হয়ে পড়েছে এমনকি যে সমস্থ মেডিকেল অফিসার আছে তারাও সাধারন মানুষের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে। যার ফলে এ উপজেলাবাসীর চিকিৎসাসেবায় চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে। এদিকে সচেতনমহল উপজেলাবাসীর স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়নের লক্ষে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকট নিরসন করে উপজেলাবাসীর স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নের জন্য ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষের আশুহস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
