৩ দিনের কর্মবিরতি পালন করেছে চুয়াডাঙ্গা মেহেরপুর ও ঝিনাইদহের পৌর কর্মচারীরা

আপলোড তারিখঃ 2018-01-30 ইং
৩ দিনের কর্মবিরতি পালন করেছে চুয়াডাঙ্গা মেহেরপুর ও ঝিনাইদহের পৌর কর্মচারীরা ছবির ক্যাপশন:
রাষ্ট্রীয় কোষাগার হতে পেনসন ও বেতন-ভাতার দাবীতে পৌরসভা সার্ভিস এ্যাসোসিয়েশন ডাকা ডেস্ক রিপোর্ট: রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতনভাতা ও পেনশনসহ অন্যান্য সুবিধার দাবিতে পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করেছে চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহ পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। গতকাল সোমবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ৪টি পৌরসভার সার্ভিস এ্যাসোসিয়েশন এ কর্মসূচির আয়োজন করে। কর্মসূচিতে সন্ধ্যার পরে পৌর এলাকায় সড়কবাতিও বন্ধ রাখে পৌর কর্তৃপক্ষ। আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক জানিয়েছে, চুয়াডাঙ্গায় পৌরসভা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মবিরতি পালন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। বাংলাদেশ পৌরসভা সার্ভিস এ্যাসোসিয়েশনের ডাকে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা কর্মকর্তা-কর্মচারী এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রকৌশলী আয়ুব আলী বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক টিকাদান সুপারভাইজার আলী হোসেন। কর্মবিরতির কারণে পৌরসভার নাগরিকদের সেবাস পেতে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এমনকি সন্ধ্যার পর চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার সড়কবাতি বন্ধ রাখে পৌর কর্তৃপক্ষ। যারফলে বেগ পেতে হয় যানবাহন ও সাধারণ পথচারীদের। এদিকে সড়কবাতি না জ্বলার কারনে শহরের আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে শহরের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা। যে কোন সময় শহরের ওলিতে গলিতে বাড়তে পারে চোর ও ছিনতাইকারীদের উপদ্রুব। দর্শনা অফিস: কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসাবে চুয়াডাঙ্গার জেলার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তিনদিন ব্যাপি কর্মবিরতি চলছে। গত ২৮ থেকে ৩০ জানুয়ারী পর্যন্ত এ কর্মবিরতির গতকাল ছিলো ২য় দিন। রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা ও পেনশন এর দাবীতে দর্শনার পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ এ কর্মবিরতি পালন করছেন। চুয়াডাঙ্গা জেলা পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারী এসোসিয়েশন এর সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ সাংবাদিকদের জানান, রাষ্ট্রীয় কোষাগার হতে বেতন-ভাতা ও পেনশনসহ অন্যান্য সুবিধা প্রদানের দাবীতে বাংলাদেশ পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারী এসোসিয়েশন এর কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বানে রবিবার সকাল ৯টা থেকে প্রতিদিন বিকাল ৫ টা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালন করবেন পৌরসভার কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। এ কর্মবিরতি চলাকালে পৌরসভার সমস্ত নাগরিক সেবা প্রদান থেকে বিরত রয়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তিনি আরও বলেন, পৌরসভায় রাতদিন পরিশ্রম করার পরেও দীর্ঘ ১৩ মাস বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে তাদের। পরিবার-পরিজন নিয়ে অধিকাংশ পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পড়েছেন বিপাকে। এ চিত্র শুধু চুয়াডাঙ্গার ৪টি পৌরসভার কর্মচারী-কর্মকর্তাদেরই নয়। সারাদেশের ৩২৮টি পৌরসভার অধিকাংশ পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবস্থা একই রকম। অনেক পৌরসভায় ৫২ মাস পর্যন্ত বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে বলেও জানান তিনি। কর্মবিরতি চলাকালে জেলার দর্শনা পৌরসভার সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। `` মেহেরপুর অফিস জানিয়েছে, সরকারি কোষাগার থেকে বেতন ভাতার দাবিতে মেহেরপুরে ২য় দিনের মত কর্মবিরতি পালন করছে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। গতকাল সোমবার সকাল ৯ টা থেকে মেহেরপুর পৌরসভা চত্ত্বরে কর্মবিরতি পালন শুরু করেন পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ দিন সকাল ১০টার দিকে সরকারি কোষাগার থেকে বেতন ভাতার দাবিতে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পৌরসভা সার্ভিস এ্যাসোসিয়েশনের মেহেরপুর জেলা শাখার সভাপতি তফিকুল আলম। বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পৌরসভা সার্ভিস এ্যাসোসিয়েশনের মেহেরপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শামীম রেজা, মেহেরপুর পৌরসভা সার্ভিস এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সেলিম খান,সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার হোসেন দিপু, গাংনী পৌরসভা শাখার সভাপতি আজিজুল হক, সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক প্রমুখ। এদিকে কর্মবিরতি পালন করায় চরম দূর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। পৌরসভার থেকে যে ৩৭ টি সেবা প্রদান করা হয় পানি সরবরাহ বাদে সব সেবাই বন্ধ রেখেছে তারা। রাতে বন্ধ ছিল সড়ক বাতি। এমনকি ময়লা আবর্জনাও তুলছেননা তারা। মহেশপুর প্রতিনিধি জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতন ভাতার দাবীতে সারা দেশের ন্যায় ঝিনাইদহের মহেশপুর পৌরসভার কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা পৌর ভবনের মুল ফটকে তালা ঝুলিয়ে ৭২ ঘন্টার কর্ম বিরতি পালন করছে। গত রবিবার থেকে শুরু হওয়া এ কর্মবিরতি শেষ হবে আজ। পৌর ভবনের মুল ফটকের সামনে পৌর কর্মচারী সমিতির সভাপতি মহিবুল আলম খান পিন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান, পৌর কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর রহমান, সদস্য মজনু রহমান, সষ্টি চরণ রায় চৌধুরী, হাফিজুর রহমান, খোকন খান ও শরিফুল ইসলাম। সভায় বক্তারা বলেন সরকারী সকল প্রকার সুযোগ- সুবিধা থেকে তারা বঞ্চিত রয়েছেন। ১৪ মাস যাবত তারা বেতন ভাতা পাচ্ছে না। এমতাবস্থায় তারা খুবই দূরবস্থয়া জীবনযাপন করেছে। তার বলেন সরকার আমাদের রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতন ভাতা দিলেই আমরা আমাদের এই কর্ম বিরতি বন্ধ করবো।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)