ছবির ক্যাপশন:
সারাদেশে অব্যাহত শৈত্যপ্রবাহে বাড়ছে দুর্ভোগ : ঘন কুয়াশায় ঢাকা বেশিরভাগ অঞ্চল
ডেস্ক রিপোর্ট: টানা পাঁচদিন ধরে চুয়াডাঙ্গাতে শৈত্যপ্রবাহ অব্যহত রয়েছে। গতকালও চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা ছিলো ৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিকে, তীব্র শীতে যশোর, কুড়িগ্রাম ও পাবনায় একদিনে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তীব্র শীতে হতদরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষের বাড়ছে দুর্ভোগ। প্রচ- ঠা-ায় কাজ করতে পারছে না শ্রমজীবীরা। বিশেষ করে নির্মাণ ও কৃষি শ্রমিকরা পড়েছেন চরম বিপাকে। হাড়কাঁপানো শীতে ব্যাহত হচ্ছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। তবে দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে তাপমাত্রা কিছুটা বেড়েছে।
আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক জানিয়েছেন, তীব্র শীতে সারা দেশের ন্যায় বিপর্যস্ত চুয়াডাঙ্গাও। গতকাল মঙ্গলবার চুয়াডাঙ্গায় সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিকে বেলা বাড়ার সাথে সাথে সূর্যের দেখা মিললেও শৈত্যপ্রবাহ ও হিমেল হাওয়ায় একেবারেই বিপর্যস্ত এ এলাকার সাধারণ মানুষ। তীব্র শীত ও ঠান্ডা বাতাস সব মিলিয়ে ব্যাহত হচ্ছে চুয়াডাঙ্গার সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। ফলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এ এলাকার খেটে খাওয়া মানুষ। এলাকার বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে ও চায়ের দোকানে শীত নিবারনের চেষ্টায় খড়কুটো জ্বালিয়ে উত্তাপ নিতে দেখা গেছে নি¤œ আয়ের মানুষগুলোকে। তীব্র শীতে প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হচ্ছে না। ফলে সব থেকে বেশি সমস্যায় পড়েছে দিন আনা দিন খাওয়া মানুষগুলো।
এদিকে, শীত থেকে বাঁচতে সরকারি বিভিন্ন সাহায্য সহযোগিতা চেয়েছেন এসব সাধারণ মানুষেরা। শীত বাড়ার সাথে সাথে গত ১৫ দিন ধরে জেলার বিভিন্ন স্থানে শীতার্ত মানুষদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ অব্যাহত রেখেছেন জেলা প্রশাসন। ইতোমধ্যে ২০ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় জরুরীভাবে আরো ২০ হাজার কম্বল চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে জেলা প্রশাসক।
জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ জানান, জেলার শীতার্ত মানুষদের দূর্ভোগ লাঘবে সব সময় জেলা প্রশাসন পাশে আছে। তিনি সরকারী সহযোগিতার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদেরকেও শীতার্ত মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
এখন চলছে কৃষকের বোরো মৌসুম। বোরো মৌসুমের কৃষকরা যে বীজতলা তৈরি করছেন সেই বীজতলা তীব্র কুয়াশায় নষ্ট হতে চলেছে। এতে করে কৃষকের বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শামিম কবীর জানান, গত ১ সপ্তাহে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ডায়রিয়া ও ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ৮ শতাধিক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এদের মধ্যে শিশু ও বয়ষ্ক রোগীই সব থেকে বেশি। আক্রান্ত এক রোগীর স্বজন সদর উপজেলার হায়দারপুর গ্রামের আলী হোসেন জানান, শীতে আমার ছেলের শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়ায় আমি তাকে হাসপাতালে এনে ভর্তি করি। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আসাদুর রহমান মালিক খোকন জানান, মঙ্গলবার বেশ কয়েকজন ডায়রিয়া ও ঠান্ডাজনিত কারণে অসুস্থ রোগী হাসপাতালে এসে ভর্তি হয়েছেন। তিনি বলেন, এই সময় সচেতনতা খুব জরুরি। কুয়াশা থেকে দূরে থাকতে হবে। বাইরের এবং বাসি ও খোলা খাবার খাওয়া যাবে না।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ সামাদুল হক জানান, ডিসেম্বরের শেষের দিক থেকে তাপমাত্রা ক্রমাগত নিচের দিকে নামছে। মাঝে মধ্যে একদিন তাপমাত্রা বাড়লেও পরদিন আবার তা নেমে আসে। এভাবে বৃহ¯পতিবার (৪ জানুয়ারি) থেকে মঙ্গলবার (৯ জানুয়ারি) প্রতিদিনই তাপমাত্রার পারদ কমতেই আছে। গতকাল মঙ্গলবার চুয়াডাঙ্গায় সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তিনি আরো জানান, তাপমাত্রার পাশাপাশি রয়েছে কুয়াশা। রাতে ও ভোরের দিকে কুয়াশা পড়ছে।
দর্শনা অফিস জানিয়েছে, তীব্র শীতে আর্তমানবতার ডাকে সাড়া দিয়ে শীতার্ত হতদরিদ্র, ছিন্নমূল, খেঁটে খাওয়া সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ালেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী ইঞ্জিনিয়ার মোখলেছুর রহমান তরফদার টিপু। গতকাল মঙ্গলবার সকালে দর্শনা পুরাতন রেলবাজারস্থ নিজ বাসভবন থেকে মাসব্যাপী শীতবস্ত্র (কম্বল) বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এ সময় তিনি উপস্থিত থেকে নিজ হাতে শীতার্ত মানুষের হাতে প্রায় এক হাজার কম্বল তুলে দেন। এ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা রহম আলী, মাহবুব উল ইসলাম ফজলু, সিআই আব্দুল মান্নান, কানচু মাতব্বর, রফিকুল ইসলাম নজির, আব্দুর রাজ্জাক তুফন, নাসির উদ্দিন খেদু, শহিদুল মোল্লা, মুহিত জোয়ার্দ্দার, জহিরুল ইসলাম, লুৎফর রহমান নেপল, যুবদল নেতা সোহেল তরফদার, সাত্তার, আমিনুল, জলিল, ছাত্রদল নেতা মান্নান মাস্টার, ওমিও, তারেক, পারভেজ, সাগর, রনি, সজল প্রমূখ।
জীবননগর অফিস জানিয়েছে, প্রবীণ জনগোষ্ঠির জীবনমান উন্নয়নের লক্ষে জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নে দুস্থ শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টার সময় ৪নং সীমান্ত ইউনিয়ন পরিষদ, বেসরকারী সংস্থা ওয়েভ ফাউন্ডেশন এবং সীমান্ত ইউনিয়ন প্রবিণ কমিটির আয়োজনে পিচমোড় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে এ কম্বল বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়। সীমান্ত ইউনিয়ন প্রবীণ কমিটির সভাপতি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শাজাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শীতার্ত মানুষের মধ্যে ১০০টি কম্বল ও ৫০টি চাদর বিতরণ করেন জীবননগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু মো. আব্দুল লতিফ অমল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেলিম রেজা, সীমান্ত ইউপি চেয়ারম্যান মঈন উদ্দিন ময়েন, সীমান্ত ইউনিয়ন প্রবীণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক, ওয়েভ ফাউন্ডেশনের সমন্বয়কারী আশরাফুল ইসলাম, কামরুজ্জামান যুদ্ধ, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম মধু, ইউপি সদস্য ইমাদ উদ্দিন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সার্বিক পরিচালনা করেন রবিউল ইসলাম বকুল।
দর্শনা অফিস জানিয়েছে, তীব্র শীতে আর্তমানবতার ডাকে সাড়া দিয়ে শীতার্ত হতদরিদ্র, ছিন্নমূল, খেঁটে খাওয়া সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ালেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী ইঞ্জিনিয়ার মোখলেছুর রহমান তরফদার টিপু। গতকাল মঙ্গলবার সকালে দর্শনা পুরাতন রেলবাজারস্থ নিজ বাসভবন থেকে মাসব্যাপী শীতবস্ত্র (কম্বল) বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এ সময় তিনি উপস্থিত থেকে নিজ হাতে শীতার্ত মানুষের হাতে প্রায় এক হাজার কম্বল তুলে দেন। এ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা রহম আলী, মাহবুব উল ইসলাম ফজলু, সিআই আব্দুল মান্নান, কানচু মাতব্বর, রফিকুল ইসলাম নজির, আব্দুর রাজ্জাক তুফন, নাসির উদ্দিন খেদু, শহিদুল মোল্লা, মুহিত জোয়ার্দ্দার, জহিরুল ইসলাম, লুৎফর রহমান নেপল, যুবদল নেতা সোহেল তরফদার, সাত্তার, আমিনুল, জলিল, ছাত্রদল নেতা মান্নান মাস্টার, ওমিও, তারেক, পারভেজ, সাগর, রনি, সজল প্রমূখ।
জীবননগর অফিস জানিয়েছে, প্রবীণ জনগোষ্ঠির জীবনমান উন্নয়নের লক্ষে জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নে দুস্থ শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টার সময় ৪নং সীমান্ত ইউনিয়ন পরিষদ, বেসরকারী সংস্থা ওয়েভ ফাউন্ডেশন এবং সীমান্ত ইউনিয়ন প্রবিণ কমিটির আয়োজনে পিচমোড় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে এ কম্বল বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়। সীমান্ত ইউনিয়ন প্রবীণ কমিটির সভাপতি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শাজাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শীতার্ত মানুষের মধ্যে ১০০টি কম্বল ও ৫০টি চাদর বিতরণ করেন জীবননগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু মো. আব্দুল লতিফ অমল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেলিম রেজা, সীমান্ত ইউপি চেয়ারম্যান মঈন উদ্দিন ময়েন, সীমান্ত ইউনিয়ন প্রবীণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক, ওয়েভ ফাউন্ডেশনের সমন্বয়কারী আশরাফুল ইসলাম, কামরুজ্জামান যুদ্ধ, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম মধু, ইউপি সদস্য ইমাদ উদ্দিন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সার্বিক পরিচালনা করেন রবিউল ইসলাম বকুল।
