চুয়াডাঙ্গায় নিউমোনিয়ায় ও ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা এক সপ্তাহে ৫০০ ছাড়িয়েছে

আপলোড তারিখঃ 2018-01-06 ইং
চুয়াডাঙ্গায় নিউমোনিয়ায় ও ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা এক সপ্তাহে ৫০০ ছাড়িয়েছে ছবির ক্যাপশন:
মেহেরপুর ও ঝিনাইদহসহ সারাদেশে তীব্র শীতে জনজীবন স্থবির : বৃদ্ধি পেয়েছে শীতজনিত রোগ তাপমাত্রা কমতে পারে আরও, আসছে একাধিক শৈত্যপ্রবাহ মেহের আমজাদ/আফজালুল হক: সারাদেশে চলছে শৈত্যপ্রবাহ। মধ্য পৌষে ঝকঝকে রোদেলা দিন দেখে যারা ভেবেছিলেন শীত কি ফেরারী হলো? তাদের সেই সন্দেহ ভেঙ্গে প্রকৃতিতে তীব্র ঝাঁকুনি দিয়ে হঠাৎ নেমে এসেছে এই কনকনে শীত। মাঘ মাসে নয়; এবার যেনো পৌষেই বাঘ কাঁপনো ঠান্ডা। চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহসহ গোটা দেশ তীব্র শীতে কাঁপছে। প্রতিদিনই নামছে তাপমাত্রা। ঘন কুয়াশা বাড়িয়ে দিচ্ছে শীতের মাত্রা। হুল ফুটানো শীতল বাতাস আর কনকনে ঠা-ায় স্থবির হয়ে পড়ছে জনজীবন। গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার সারাদেশের মধ্যে চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্র রেকর্ড হলেও গতকাল শুত্রবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় শীতল ছিলো যশোরে। সেখানে তাপমাত্রা ছিলো ৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল শুক্রবার চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরে তাপমাত্রা কিছুটা বেড়ে দাড়ায় ৮ ডিগ্রিতে। একাধিক শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাসও দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। প্রচ- শীতের কারণে দেখা দিয়েছে বিভিন্ন শীতজনিত রোগ বালাই। হাসপাতালে বেড়েছে নিউমোনিয়া, ডায়েরিয়া, আমাশয়. হাঁপানি পেটের পীড়াসহ বিভিন্ন রোগীর সংখ্যা। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে বেড়েছে রোগীর সংখ্যা। পুরো সপ্তাহজুড়ে নিউমোনিয়া ও ডায়েরিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে গেছে। যার মধ্যে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ৩০০ জন এবং ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ২০০ জনের বেশী। গত তিনদিনে সদর হাসপাতালের শুধু শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে ২২ রোগী। এছাড়া বহির্বিভাগেও প্রতিদিন চিকিৎসা নিচ্ছে কয়েকশত রোগী। হাসপাতালে সেবা নিতে আসা এসব শিশুর অধিকাংশই শীতজনিত নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। বিপুলসংখ্যক রোগীর সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও নার্সদের। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত তিনদিনে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩৬ শিশু। গতকাল শুক্রবার রাত পর্যন্ত নিউমোনিয়া আক্রান্ত ২২ ও ডায়রিয়া আক্রান্ত ১৪ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ফলে সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক এবং নার্সদের। শিশু ওয়ার্ডে নির্ধারিত শয্যার কয়েকগুন বেশি রোগী থাকায় অসুস্থ শিশুদের নিয়ে হাসপাতালের মেঝেতে থেকে সেবা নিতে হচ্ছে। শিশু রোগীর স্বজনরা জানান, হাসপাতালে এসে বেড পাইনি। ঠান্ডায় ছোট ছেলে-মেয়েকে নিয়ে মেঝেতেই শুয়ে আছি। বেশি ঠাসাঠাসিতে কষ্টও হচ্ছে। নার্সরা ঠিকমতো আসছে না। এছাড়া ওষুধ ঠিকমতো দিচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তারা। অন্যদিকে, মেহেরপুরে গত কয়েক দিনে শীতের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। শুক্রবার তাপমাত্রা দুই ডিগ্রী সেলসিয়াস বাড়লেও শীতের তীব্রতা কমেনি। এদিন মেহেরপুরে তাপমাত্রা ছিল ৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস। সর্দি-কাশি, ঠান্ডা, ব্রঙ্কলাইটস, ও ডাইরিয়া রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। বড়রা আক্রান্ত হচ্ছে শ্বাসকষ্ট জনিত রোগে। বাড়ছে শিশু রোগীর সংখ্যা। শয্যা না পেয়ে অনেকের ঠাঁই হয়েছে হাসপাতালের বারান্দায়। মেহেরপুর হাসপাতালে কয়েকশত রোগী নিউমোনিয়ায় ও ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মাহবুবুর রহমান মিলন জানান, হঠাত আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। শিশুদের ঠিকমতো টিকা প্রদান ও ৬ মাস বয়স পর্যন্ত মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো হলে নিউমোনিয়া হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম থাকে। তাছাড়া ঠান্ডা আবহাওয়া থেকে শিশুকে দূরে রাখা এবং গরম কাপড় পরিধান করানো অত্যন্ত জরুরি। ডায়রিয়া এক ধরনের পানিবাহিত রোগ। রোটা ভাইরাসের কারণে ডায়রিয়া হয়ে থাকে। ৬-১৬ মাস বয়সী আক্রান্ত শিশুকে ঘনঘন স্যালাইন ও মায়ের বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। এছাড়া শিশুদের মায়ের বুকের দুধ ও রোটারিং টিকা দিলে ডায়রিয়া হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম থাকে। তিনি আরও বলেন, এসব রোগ থেকে রক্ষা পেতে শিশুদের ছয় মাস বয়স পর্যন্ত নিয়মিত বুকের দুধ পান করাতে হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে। শিশুদের জ্বর, অস্বাভাবিক কাশি ও পাতলা পায়খানা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার পরামর্শও দেন তিনি। মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের ইমারজেন্সি বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ আবু মোহাম্মদ রাজু জানান, শীতজনিত রোগ থেকে বাঁচতে শিশুদের গরম স্থানে রাখতে হবে, পাশপাশি গরম কাপড়ে জড়িয়ে রাখা প্রয়োজন। খাওয়ার আগে ও পরে ভালভাবে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা। এছাড়াও সমস্যা দেখা দিলেই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সরণাপন্ন হবার পরামর্শ চিকিৎসকদের। তীব্র এই শীতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বোরো ধানের বীজতলা, আলুসহ বিভিন্ন ফসলের। ছত্রাক জাতীয় রোগ দেখা দিয়েছে। এব্যাপারে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তালহা জুবাইর মাসরুর জানান, বীজ তলায় জমে থাকা শিশির ফেলে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে কৃষকদের। [caption id=`attachment_32995` align=`aligncenter` width=`300`]`` Meherpur Cold Weather Footage[/caption] ঠান্ডার কামড় সহ্য করতে না পেরে খড়-কাঠে আগুন জ্বালিয়ে শরীর গরমের চেষ্টা করছেন দরিদ্ররা। বিশেষ করে ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় কাহিল অবস্থা ছিন্নমূল মানুষের। দিনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২০ ঘণ্টাই আকাশ থাকছে মেঘ ও কুয়াশাচ্ছন্ন। বিকাল থেকে পরদিন আধাবেলা পর্যন্ত থাকছে দাপুটে শীত। সন্ধ্যার পর থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশা ঝরছে টিপ টিপ করে। সন্ধ্যার পর সাধারণ মানুষ নেহায়েত গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছাড়া ঘর থেকে বেরুচ্ছেন না। দিনের বেলায় সূর্য কিছু সময়ের জন্য দেখা গেলেও তা যেন মোটেও উত্তাপ ছড়াতে পারছে না। তীব্র শীতের কারণে দরিদ্র মানুষ কাজে যেতে না পেরে অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে। নিম্ন ও মধ্য আয়ের লোকজন অসহায় হয়ে পড়েছেন। দিনমুজুর এখলাছ জানান, গত কয়েকদিনের শীতে তাদের আয়েও ভাটা পড়েছে। কনকনে শীতে কাজের সন্ধানে এসে ফিরে যেতে হচ্ছে। ফলে পরিবার পরিজন নিয়ে নিয়ে সংসার চালাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। মেহেরপুর গাংনী উপজেলার গাড়াডোব গ্রামের বাসিন্দা সোহাগ জানান, কয়েকদিন আগে তার এক বছর বয়সী শিশু ডাইরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। শয্যা না পাওয়ায় বারান্দায় রেখে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। প্রচন্ড ঠান্ডায় অন্যরোগে আক্রান্ত হবার আশংকা রয়েছে। একই অবস্থা মা ও শিশু ওয়ার্ডে। `` অপরদিকে, পৌষের এই শেষ সপ্তাহে যখন ঝিনাইদহের ছিন্নমুল মানুষ শীতে কাঁপছে ঠিক সেই সময় গভীর রাতে তাদের পাশে গিয়ে দাড়ালো ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে শহরের বিভিন্ন স্থানে শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়। শহরের বাস টার্মিনাল, পবহাটি, আরাপপুর, চুয়াডাঙ্গা স্ট্যান্ড, পাগলা কানাই মোড়, হামদহ সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে শীতার্ত মানুষের মাঝে এ কম্বল বিতরণ করা হয়। জেলা প্রশাসক জাকির হোসেন ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আছাদুজ্জামানসহ জেলা প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন এলাকার খুপড়ী ঘরগুলোতে অসহায় মানুষদের মাঝে নিজ হাতে শীতবস্ত্র তুলে দেন জেলা প্রশাসক। রাতের আধারে ঘুম থেকে উঠে জেলা প্রশাসকের হাত থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে একটি কম্বল হাতে পেয়ে অত্যান্ত খুশি এসব মানুষগুলো।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)