চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের উপ-নির্বাচন ও জীবননগর উপজেলাধীন তিন ইউপি নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন
প্রচার প্রচারণার শেষ দিনে দম ফেলার ফুরসত ছিল না প্রার্থীদের : রাতপোহালে নির্বাচন
এসএম শাফায়েত: চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড ও দামুড়হুদা নাটুদা ইউপি’র একটি ওয়ার্ডের উপ-নির্বাচনসহ জীবননগর উপজেলাধীন তিনটি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের আরমাত্র একদিন বাকী। গতকাল মঙ্গলবার দিনগত রাত ১২টা ১ মিনিটে সকল প্রকার নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা শেষ হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীন ভাবে ভোট গ্রহণ করা হবে।
এদিকে সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে দীর্ঘ ১৪ বছর পর জীবননগর উপজেলাধীন পুনঃগঠিত উথলী ইউনিয়ন পরিষদসহ নবগঠিত দু’টি ইউনিয়ন মনোহরপুর ও কেডিকে ইউপি’র নির্বাচন অনুষ্ঠানের আরমাত্র একদিন বাকী; তথা রাত পোহালেই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যেই ভোটগ্রহণের সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল মঙ্গলবার দিনগত রাত ১২টা ১ মিনিটে শেষ হয়েছে সকল প্রকার প্রচার প্রচারণা। শেষ দিনেও প্রতিটি প্রার্থী সাধারণ ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ভোট প্রার্থনা করছেন। শেষ মুহূর্তের প্রচার প্রচারণায় যেন দম ফেলার ফুরসত ছিলনা প্রার্থীদের। সকলেই আশাবাদী জয়ের মালা তার গলাই উঠবে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীন ভাবে ভোটগ্রহণ করা হবে। কেন্দ্র দখল, জালভোট, ব্যালট বাক্স ছিনতাইসহ নির্বাচনী এলাকায় অরাজকতা মোকাবেলায় চার স্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও শতভাগ নিরপেক্ষ ভোট গ্রহণে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিতের খবর জানিয়েছেন চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান-পিপিএম। তিনি বলেছেন, ‘প্রত্যেকটা নির্বাচনই আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামী ২৮ ডিসেম্বর চুয়াডাঙ্গা জেলাধীন তিনটি থানা এলাকায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এরমধ্যে জীবননগর থানা এলাকায় তিনটি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অধিক গুরুত্বপূর্ণ। পৌরসভার দু’টি এবং তিন ইউপি’র ২৭টি কেন্দ্রসহ ৩১টি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণে প্রশাসনকে চার স্তরে ভাগ করা হয়েছে। এরমধ্যে কেন্দ্রে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ফোর্স, মোবাইল টিম, স্ট্রাইকিং ফোর্স ও রিজার্ভ টিম উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়াও ম্যাজিস্ট্রেটগণসহ বিজিবি ও র্যাব ফোর্সেস সার্বক্ষণিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার কাজে নিয়োজিত থাকবে।’
কেন্দ্র দখল, জালভোট ও ব্যালট বাক্স ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে হুশিয়ারী জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, ‘একটি অবাধ, সুষ্ঠু, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণে নিরাপত্তার চাঁদরে মোড়া থাকবে গোটা নির্বাচনী এলাকা। কোন প্রকার নাশকতাকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা প্রিসাইডিং অফিসার এবং পোলিং এজেন্টের বিরুদ্ধেও যদি কোন অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায় তবে তাকেও ছাড় দেয়া হবে না।’
দীর্ঘ দেড় বছরেরও বেশি সময় পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ নির্বাচনে এবারই প্রথমবারের মতো চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীকে প্রচার প্রচারণা শেষ করেছেন প্রার্থীরা। তাই ইউপি নির্বাচন এখন নৌকা আর ধানের শীষের মর্যাদার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। একই সাথে জামায়াত সমর্থিত দলীয় প্রার্থীদের জন্য এবারের নির্বাচন অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইও বটে এবং বিদ্রোহী-স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য চ্যালেঞ্জিং লড়াই। প্রচার-প্রচারণার সময় কোন স্থানে সংঘাত-সংঘর্ষ ও ভয়-ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ না থাকলেও নির্বাচন নিয়ে উৎসাহ উদ্দীপনার সাথে ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠাও বিরাজ করছে। প্রস্তুতির শেষ মুহূর্তে ভোটার ও প্রার্থীদের অভয় দিয়েছেন জেলা নির্বাচন অফিসার রাজু আহম্মেদ। নির্বাচনে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটার ব্যাপারে তিনি আশ্বাস দেন।
তিনি বলেন, ইউপি নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে। ভোটাররা নির্বিঘেœ ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ/ব্রিফিং প্রদান করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োগ করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ ভোটের অনিয়ম রোধে কোন ছাড় না দেয়ার নির্দেশনা দেয়ার পরও দায়িত্বে অবহেলা করলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। তিনি আরো বলেন, ‘সংঘাত-সংঘর্ষ হলেই ব্যবস্থা নেবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। কোন সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বরদাশত করা হবে না।’
শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। কমিশনের পক্ষ থেকে নির্বাচনী এলাকার মাঠে টহল শুরু করেছে বিজিবি, র্যাব, পুলিশ ও আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহ¯্রতাধিক সদস্য। একই সঙ্গে এ উপজেলার তিন ইউপি’র ২৭টি কেন্দ্রের অপরাধ তদারকিতে মাঠে রয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পাশাপাশি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরাও।
চুয়াডাঙ্গা জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানায়, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের উপ-নির্বাচন, দামুড়হুদা উপজেলার নাটুদহ ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডের উপ-নির্বাচনসহ জীবননগর উপজেলার পুনঃগঠিত উথলী ইউনিয়ন ও নবগঠিত মনোহরপুর এবং কেডিকে ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে সকল প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। আজ বুধবার সকল ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা ব্যালটপেপার, ব্যালট বাক্স, সিল, লক, কালিসহ নির্বাচনী সরঞ্জামাদি নিয়ে কেন্দ্রে কেন্দ্রে অবস্থান নেবেন।
চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের উপ-নির্বাচনে আগামীকাল বৃহস্পতিবার তিনটি কেন্দ্রে ৫ হাজার ৭৬৪ জন ভোটার তাদের নিজ নিজ ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে পছন্দের প্রার্থী নির্বাচন করবেন। এ ওয়ার্ডের উপ-নির্বাচনে ১ পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন ৫ জন কাউন্সিলর পদপ্রার্থী। কেন্দ্রগুলো হলো- ঝিনুক বিদ্যাপিঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কোর্টপাড়া। এ কেন্দ্রের পুরুষ ভোটার ১ হাজার ৫৩৬জন। ঝিনুক মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্র, কোর্ট পাড়ার মহিলা ভোটার ১ হাজার ৫৫৩ জন। এ দু’টি কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন কোর্টপাড়া এবং সাদেক আলী মল্লিকপাড়ার ভোটারগণ। এ ছাড়া চুয়াডাঙ্গা সরকারি ভি.জে উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট পুরুষ ও মহিলা ভোটার সংখ্যা ২ হাজার ৭০৫ জন। এ কেন্দ্রে ভোট দেবেন পুরাতন হাসপাতাল পাড়া, পোস্ট অফিস পাড়া এবং মুক্তিপাড়ার ভোটাররা।
এদিকে জীবননগর উপজেলাধীন পুনঃগঠিত উথলী ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে একজন নির্বাচনের বিপরীতে মোট প্রার্থী ৫ জন। প্রার্থীদের মধ্যে আ’লীগ মনোনীত ১ জন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি মনোনীত ১ জন, জামায়াত সমর্থিত ১ জনসহ আ’লীগ ও বিএনপি’র স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন আরো দু’জন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রয়েছেন। এ ছাড়া সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদপ্রার্থী ৫ জন নির্বাচিতের বিপরীতে প্রার্থী ১২জন এবং সাধারন সদস্য পদে ৯ জন নির্বাচিতের বিপরীতে প্রার্থী ৪২জন। এ ইউপি’র সাধারণ নির্বাচনে ৯টি ওয়ার্ডের ১৪টি কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ হাজার ৪৬০ জন। এরমধ্যে মহিলা ভোটার সংখ্যা ৬ হাজার ২০৮ জন এবং পুরুষ ভোটার সংখ্যা ৬ হাজার ২৫২জন।
নবগঠিত মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে একটি চেয়ারম্যান পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪ জন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী। যাদের মধ্যে আ’লীগ, বিএনপি ও জামাত সমর্থিত দলীয় প্রার্থীসহ ১জন স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন। সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ৫ পদে প্রার্থী ৯ জন এবং সাধারন সদস্য ৯ পদে ৩৯ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহন করছেন। নবগঠিত এ ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের ১১টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহন করা হবে। এ ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ১১ হাজার ৩১৬ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ৫ হাজার ৭০৩ জন এবং মহিলা ভোটার ৫ হাজার ৬১৩ জন।
কেডিকে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনেও চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন প্রধান দু’দল আ’লীগ-বিএনপি এবং জামায়াত-স্বতন্ত্রমহ ৫ জন প্রার্থী। সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ৫ পদে প্রার্থী ১৩জন এবং সাধারন সদস্য ৯ পদে প্রার্থী ৩৮জন। এ ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের ৯টি ভোট কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ১১ হাজার ৬২৮ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ৫ হাজার ৮৫২ জন এবং মহিলা ভোটার ৫ হাজার ৭৭৬ জন।
