ছবির ক্যাপশন:
মেহেরপুর প্রতিনিধি: মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে হাসপাতালে পরিবেশন করার কথা ছিল উন্নতমানের খাবার। কিন্তু মেহেরপুরের ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে মিলেছে বিপরীত চিত্র। নিম্নমানের খাবারের পাশাপাশি তা পরিমাপে কম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মেহেরপুরের পৌর মেয়র সরেজমিন পরিদর্শন করে ধরেছেন এ অনিয়ম। এ অবস্থায় খাবার সরবরাহকারী ঠিকাদার পরিবর্তনের দাবি উঠেছে। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে মেহেরপুর পৌর মেয়র ও জেলা যুবলীগের আহবায়ক মাহফুজুর রহমান রিটন শনিবার কয়েকজন কাউন্সিলর ও দলীয় নেতা নিয়ে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনে যান। এসময় হাসপাতালে ভর্তি রোগীরা তাকে খাবারের মান সম্পর্কে অভিযোগ করেন। হাসপাতালে ভর্তি রোগী মোসলেম উদ্দীন, রহিমা খাতুন, মিজানুর রহমান জানান, তাদের যে খাবার সরবরাহ করা হয়েছে তার মান ভালো নয়। বিশেষ করে যে ভাত দেয়া হয়েছে তা তারা খেতে পারেছেন না। খাবারের মান যাচাইয়ের জন্য পৌর মেয়র হাসপাতালের রন্ধনশালায় গিয়ে নি¤œমানের চাউল, বাঁশি দই মিষ্টিসহ ছাগির মাংশ পান বলে অভিযোগ করেন। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে হাসপাতালে গিয়ে হাসপাতালের ক্লার্ক হাবিবুর রহমান ও দুজন বাবুর্চি ছাড়া আর কাউকে পাননি তিনি।
পৌর মেয়র মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, মহান বিজয় দিবসে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করার কথা রয়েছে। কিন্তু রোগীদের জন্য যে খাবার আনা হয়েছে সেগুলোকে কিছুতেই উন্নত বলা যায় না। আবার পরিমাপেও কম। তিনি বলেন, সকালে ১০০ গ্রাম আপেলের পরিবর্তে একটি আপেলের ৪ ভাগের ১ ভাগ দেওয়া হয়েছে, খাসির মাংশ দেবার কথা থাকলেও আনা হয়েছে ছাগির (পাঠির) মাংশ, মাংশর ওজন হবার কথা ৭৪ কেজি কিন্তু মেপে পাওয়ো গিয়েছে ৬৯ কেজি, চিকন বাসমতি চালের পরিবর্তে দেওয়া হচ্ছে মোটা চাল, দই ও মিষ্টিতে ছাতা ধরে দুর্ঘন্ধ ছড়াচ্ছে। আবার ওজনেও ৮/১০ কেজি কম। হাসপাতালের ঠিকাদার লাল মিয়া জানান, ৫ বছর ধরে টেন্ডার নিয়ে মামলা চলছে। মামলার কারণে পুরাতন দামে খাবার সরবরাহ করতে হচ্ছে। এতে লোকসান হচ্ছে। লোকসান ঠেকাতে কিছুটা এদিক-ওদিক হতে পারে। তবে তিনি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন- আওয়ামী লীগের লোকজন ৫ বছর আগে তাকে সিডিউল ড্রফ করতে না দেয়ায় তিনি আদালতে মামলা করেন। তাই বিগত ৫ বছর কোন টেন্ডার হয়নি। তখন থেকে তিনি খানা খাবার সরবরাহ করে আসছে। মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, এখন থেকে প্রতিদিন মেহেরপুর পৌর পরিষদের একজন প্রতিনিধি হাসপাতালের কিচেনে উপস্থিত থাকবে। খাদ্য সরবরাহের তালিকা ধরে প্রতিটি খাবার বুঝে নেওয়া হবে। দুর্নীতিবাজদের হাত যতই শক্তিশালী হোক তাদের মুল উৎপটন করা হবে। হাসপাতালের খাবার বুঝে নেয়ার দায়িত্বরত ডা. সুমাইয়া আকতার বলেন, বিষয়টা তত্বাবধায়ক স্যার নিজে দেখেন। কিছুক্ষণের মধ্যে তিনি আসবেন, যা প্রশ্ন করার তাকে করেন। মেহেরপুর চেম্বারের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল এনাম বকুল বলেন, সকালে হাসপাতালে এসে উন্নতমানের খাবার পরিবেশনে যাতে কোন অনিয়ম না হয় সেজন্য বলে গিয়েছি। এ কথাও বলেছি দুপুরে এখানে রোগীদের সাথে খাব। তারপরও খাবারের মান ভাল করেনি। এভাবে চলছে হাসপাতাল। ঠিকাদার লাল মিয়া একটি মামলা করে বছরের পর বছর হাসপাতকালের খাবার সরবরহর নামে লুটপাট করছে। তাকে মামলা মিটিয়ে ফেলার জন্য বারবার অনুরোধও করেছি। কিন্তু তিনি তাতে কর্ণপাত করেনি। হসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. মিজানুর রহমান বলেন, হাসপাতালে যে খাবার সরবরাহ করা হয়েছে তা নি¤œমানের। এসব খাবার ঠিকাদারকে পরিবর্তন করে দিতে হবে। তবে তিনি সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, পূর্বে যে খাবার পরিবেশন করা হয়েছে তার মান সঠিক ছিল।
