দর্শনায় আদিম যুগের নিয়মেই চলছে আড়ৎ ব্যবসা : চাষীরা ঠকছে নীরবে

আপলোড তারিখঃ 2017-12-12 ইং
দর্শনায় আদিম যুগের নিয়মেই চলছে আড়ৎ ব্যবসা : চাষীরা ঠকছে নীরবে ছবির ক্যাপশন:
ওয়াসিম রয়েল: মানুষ তার নিজের সভ্যতা বিকাশে ও সুবিধার জন্য বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আর ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে তার নিয়মনীতি অনুসারে এখনো কাজে লাগিয়ে আসছে আমাদের দেশের কিছু সুবিধাবাদী ভুষিমাল আড়ৎ ব্যবসায়ীরা আদিম যুগের নিয়মাবলী। এক সময় রোমানিয়রা বয়সের সঠিক হিসাব থেকে শুরু করে ব্যবসা বাণিজ্যের হিসাবসহ সকল প্রকার হিসাব নিকাশ রাখতে মাটিতে দাগ কেটে রোমান সংখ্যা ব্যবহার করতো। তারই ধারাবাহিকতায় পৃথিবীর অনেক দেশে এ রোমান সংখ্যা ব্যবহারের রীতিনীতি চলে আসছে। যুগ পাল্টে গেছে, আদিম যুগের মানুষগুলিও নেই। প্রত্যেকটি দেশে তাদের স্ব স্ব ভাষায় হিসাব নিকাশ বিরাজমান। এমতাবস্তায় বাংলাদেশ সরকারের অক্লান্ত পরিশ্রমে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে সকল প্রকার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। যেখানে শিক্ষা, চিকিৎসাসহ মানুষের সকল প্রকার মৌলিক চাহিদায় আধুনিকতার ছোয়া বইছে সেখানে ভুষিমাল ও আড়ৎ ব্যবসায় আদিম যুগের মানুষের মত কাটাপাল্লায় মালামাল ওজন করে দাগ কেটে রোমান সংখ্যা ব্যবহার হচ্ছে হিসাব নিকাশে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন আড়ৎ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে জানা যায়, যখন কোন চাষীর কাছ থেকে আমদানীকৃত মালামাল আড়তে ক্রয় হয় তখন ওই মাল কাটা পাল্লায় ওজনের সময় রোমান সংখ্যা ব্যবহার করে হিসাব নিকাশ করা হয়। আবার একই মাল বড় বড় ব্যবসায়ীদের কাছে রপ্তানি ও বিক্রয় করার সময় ঠিকই ডিজিটাল পাল্লায় ওজন দেওয়া হয়। কাটাপাল্লায় ক্রয় করে বিক্রয়ের জন্য ডিজিটাল পাল্লায় ওজন দিলে মালের ওজন এমনিতেই বেড়ে যায়। এর কারন জানতে চাইলে তিনি বলেন, বস্তার ওজন ঢলতা ইত্যাদী দিয়ে বুঝিয়ে দেন। একজন চাষীর কাছ থেকে জানা যায়, মালামাল যখন বিক্রয়ের জন্য ওজন দেয়, তখন ওই চাষী অংকে ১-১০০ পর্যন্ত গোনা বা লেখা জানলেও রোমান সংখ্যার ব্যবহার ক্ষেত্রে তার কোন ধারনা নেয়। এরই প্রেক্ষিতে খোজ নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে দেখা গেছে, বেশ কিছু আড়ৎ ব্যবসায়ীরা হচ্ছে অল্প দিনে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ। প্লানে করছে আলিশান বাড়ি ও কিনছে দামি দামি গাড়ি। অন্যদিকে যারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ফসল উৎপাদন করছে সে সকল চাষীরা ঠকছে নীরবে। দর্শনা, দোস্ত বাজার, হিজলগাড়িসহ চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন এলাকায় এ রোমান সংখ্যা ব্যবহার করছে আড়ৎ ব্যবসায়ীরা। এ বিষয়ে কয়েকজন আড়ৎ ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বললে তারা বলেন, সরকারের স্বপ্ন পুরনে দেশকে এগিয়ে নিতে আধুনিকায়নের চরম শিখরে পৌছতে সকল প্রকার পদক্ষেপ গ্রহন করতে প্রস্তুত বলে মনে করেন তারা। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রফিকুল হাসানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসলে এ বিষয়ে এখনো কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। যদি কোন অভিযোগ পাওয়া যায় তাহলে অবশ্যই পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ঠ কর্তপক্ষের দৃষ্টি কামনা করছে এলাকাবাসীসহ সুধী সমাজ।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)