ছবির ক্যাপশন:
শিক্ষক জাহিদ হাসান
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় ব্রাইট মডেল স্কুলের সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে শিক্ষক জাহিদ হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় ছাত্রীর অভিভাবকের দায়ের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তবে অভিযুক্ত শিক্ষক গ্রেফতার হলেও প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক জাকারিয়া হিরোকে গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। এ দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন থেকে পরিচালককে গ্রেফতারে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা।
আজ রোববার (৮ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ‘অভিভাবক ও সচেতন আলমডাঙ্গাবাসী’র ব্যানারে শহরের হাইরোড এলাকায় এ বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা অভিযুক্ত শিক্ষক এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষক জাহিদ হোসেন ওই ছাত্রীর বাসায় প্রাইভেট পড়াতেন। ভুক্তভোগী ছাত্রীটি পবিত্র কোরআনের হাফেজা এবং ব্রাইট মডেল স্কুলেরই একজন শিক্ষিকার মেয়ে। একপর্যায়ে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ছাত্রীর অভিভাবক থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতার করে।
এদিকে বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ঘটনার পর প্রতিষ্ঠানের পরিচালক জাকারিয়া হিরো ছাত্রীর অভিভাবককে বিষয়টি প্রকাশ না করার জন্য হুমকি দেন। পাশাপাশি অভিযুক্ত শিক্ষকের পক্ষ নিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকেও গ্রেফতারের দাবি জানান তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পরিচালকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ভুক্তভোগী ছাত্রীর একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ আরও বেড়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকের কাছে সন্তানরা নিরাপদ থাকবে—এটাই প্রত্যেক অভিভাবকের প্রত্যাশা। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং এ ধরনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
কর্মসূচি থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক জাকারিয়া হিরোকে গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে থানা ঘেরাও শহর অচল সহ আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন বিক্ষোভকারীরা।
এ ঘটনায় শহরজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
