ছবির ক্যাপশন:
দামুড়হুদা উপজেলার কুনিয়াচাঁদপুর সিদ্দীকীয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার আবুবক্কর সিদ্দিক ও এডহক কমিটির সভাপতি নেছার উদ্দীনের বিরুদ্ধে মাদ্রাসার জমির বাঁশ ও বিভিন্ন প্রজাতির গাছ বিক্রি এবং বিভিন্ন দপ্তর থেকে পাওয়া প্রায় ১১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া মাদ্রাসায় নিয়মিত পাঠদান না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন গ্রামবাসী। এসব অভিযোগের প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তাঁরা।
গ্রামবাসীর অভিযোগ ও সরেজমিনে জানা গেছে, গত ছয় মাসে মাদ্রাসার জমিতে থাকা প্রায় ১২০০টি বাঁশ এবং ১০ থেকে ১২টি মহানিম, বাবলা ও মেহগনি গাছ বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি দপ্তর থেকে মাদ্রাসার নামে পাওয়া প্রায় ১১ লাখ টাকারও কোনো সঠিক হিসাব দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ তাঁদের।
গ্রামবাসীর দাবি, মাদ্রাসার কোনো সম্পদ বিক্রি করা হলে তার বিপরীতে রশিদ দেওয়ার নিয়ম থাকলেও সুপার কাউকে রশিদ দেন না। বিক্রির অর্থ ও বিভিন্ন দপ্তর থেকে পাওয়া টাকার হিসাব চাইতে গেলে তাঁদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক ও মারমুখী আচরণ করা হয়। একপর্যায়ে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তাঁরা।
এমন পরিস্থিতিতে মাদ্রাসার বাঁশ, গাছ বিক্রির অর্থ এবং বিভিন্ন দপ্তর থেকে পাওয়া টাকার পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন গ্রামবাসী। তাঁদের অভিযোগ, এসব বিষয়ে জানতে চাইলেও সুপার ও এডহক কমিটির সভাপতি সন্তোষজনক কোনো হিসাব দিচ্ছেন না। এতে এলাকায় ক্ষোভ ও উত্তেজনা বাড়ছে।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, এ নিয়ে যেকোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। তাই অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘কিছু গাছ ঝড়ে ভেঙে গিয়েছিল, সেগুলো আমরা কেটেছি, কিছু খড়ি করেছি এবং কিছু চিরায় করে রেখে দিয়েছি টেবিল-বেঞ্চ বানানোর জন্য। আমরা রেজ্যুলেশনের মাধ্যমে গাছ কেটেছি। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো করছে, সেগুলো আসলেই ভিত্তিহীন। আমাদের অফিসিয়াল যে কার্যক্রম হয়, তার সকল হিসাব নথিভুক্ত করা আছে।’
তবে এ বিষয়ে জানতে মাদ্রাসার এডহক কমিটির সভাপতি নেছার উদ্দীনের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও সংযোগ পাওয়া যাননি। এ বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লাভলী ইয়াসমিন বলেন, ‘কুনিয়াচাঁদপুর সিদ্দীকীয়া দাখিল মাদ্রাসার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এর পরিপ্রেক্ষিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
