দামুড়হুদায় মাদ্রাসার সুপারকে কক্ষে আটকে মারধরের অভিযোগ

ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন

আপলোড তারিখঃ 2026-11-06 ইং
দামুড়হুদায় মাদ্রাসার সুপারকে কক্ষে আটকে মারধরের অভিযোগ ছবির ক্যাপশন:

দামুড়হুদা উপজেলার কুনিয়া চাঁদপুর দাখিল মাদ্রাসায় শিক্ষকদের হাজিরা রেজিস্টার সংরক্ষণকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানটির সুপারিনটেনডেন্ট আবু বকর সিদ্দিককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, মাদ্রাসার একটি কক্ষে তাঁকে আটকে দরজা বন্ধ করে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর মারধর করেন কয়েকজন শিক্ষক, বিএনপির এক নেতা ও বহিরাগত ব্যক্তিরা। এ ঘটনায় প্রতিবাদ করায় এক নারী শিক্ষককেও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।


এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা শিক্ষা অফিস ও দামুড়হুদা মডেল থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার উপজেলা শিক্ষা অফিসের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।


অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে শিক্ষকদের সময়মতো উপস্থিতি নিশ্চিত করতে মাদ্রাসার হাজিরা রেজিস্টার নিজের দপ্তরে রাখেন সুপারিনটেনডেন্ট আবু বকর সিদ্দিক। এসময় সহকারী শিক্ষক ইকবাল হোসেন তাঁর কাছ থেকে হাজিরা খাতা নেওয়ার চেষ্টা করেন। খাতা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সুপারিনটেনডেন্টের সঙ্গে তাঁর বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনার কিছু অংশ মাদ্রাসার সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে। ফুটেজে সহকারী শিক্ষক ইকবাল হোসেনকে পেছন থেকে সুপারিনটেনডেন্টকে আঘাত করতে দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।


এর পরদিন মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে মাদ্রাসার কার্যক্রম চলাকালে আবারও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল হামিদ, সহকারী শিক্ষক ইকবাল হোসেন, ইউসুফ আলীসহ ৪-৫ জন শিক্ষক ও কয়েকজন বহিরাগত সুপারিনটেনডেন্টের কক্ষে প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে কক্ষের দরজা বন্ধ করে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। পরে তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন সুপারিনটেনডেন্ট।


এসময় তাঁর চিৎকার শুনে সহকারী শিক্ষিকা সাবেকুন নাহার মিতা এগিয়ে এসে ঘটনার প্রতিবাদ করেন। এতে তাঁর সঙ্গেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। সহকারী শিক্ষিকা সাবেকুন নাহার মিতার অভিযোগ, তাঁর বাড়ি খুলনা জেলায় হওয়ায় তাঁকে রাস্তাঘাটে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি সুপারিনটেনডেন্টের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন, যা গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) গ্রহণ করা হয়। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এ পরিস্থিতিতে মাদ্রাসায় যাওয়া বন্ধ রেখেছি।’


সুপারিনটেনডেন্ট আবু বকর সিদ্দিক বলেন, শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হাজিরা রেজিস্টার নিজের হেফাজতে রাখাকে কেন্দ্র করে সহকারী শিক্ষক ইকবাল হোসেনসহ কয়েকজনের সঙ্গে তাঁর বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে বিএনপি নেতা, কয়েকজন শিক্ষক ও বহিরাগতরা তাঁর কক্ষে ঢুকে দরজা বন্ধ করে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন এবং তাঁকে মারধর করেন। এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসন, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান তিনি।


এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মিকাইল হোসেন বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তাঁরা জানতে পেরেছেন। ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী রবিবার থেকে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হবে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাসেল বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লাভলী ইয়াসমিন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)